সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রথম যাত্রীবাহী রেলপথ আবুধাবিকে ফুজাইরাহর সঙ্গে সংযুক্ত করেছে। এর পরীক্ষামূলক পরিচালনা দেশটির যাত্রীবাহী রেলযুগের আনুষ্ঠানিক সূচনা করেছে। কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মধ্যে উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতারও এক উজ্জ্বল নিদর্শন।
৩০ জুন চালু হওয়া ইতিহাদ রেলের যাত্রীসেবার প্রথম ধাপ আবুধাবি ও ফুজাইরাহর মধ্যে যাতায়াতের সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত চেং চিসিন বলেন, ইতিহাদ রেল স্টেশন প্রকল্প দেশটির জাতীয় যাত্রীবাহী রেল অবকাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা পূরণ করেছে।
তিনি বলেন, “এটি দুই দেশের মধ্যে উচ্চমানের ‘বেল্ট অ্যান্ড রোড’ সহযোগিতার একটি মাইলফলক, যা তাদের সার্বিক কৌশলগত অংশীদারত্বকে আরও গভীর করার পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাস্তবভিত্তিক সহযোগিতা এগিয়ে নেওয়ার একটি সফল উদাহরণ হয়ে থাকবে।”
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প হিসেবে এই যাত্রীবাহী রেলপথটি শেষ পর্যন্ত সাত আমিরাতের ১১টি শহর ও অঞ্চলকে ১১টি স্টেশনের মাধ্যমে সংযুক্ত করবে। ২০৩০ সালের মধ্যে এই নেটওয়ার্কে বছরে ৩ কোটি ৬০ লাখ যাত্রী পরিবহনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, যা জনসাধারণের যাতায়াত, আঞ্চলিক সমন্বয়, শিল্পখাতের সংযোগ এবং নগর উন্নয়নে কার্যকর সহায়তা দেবে।
রেলপথটির উন্নয়নে চায়না রেলওয়ে ইন্টারন্যাশনাল, চায়না রেলওয়ে রোলিং স্টক করপোরেশন (সিআরআরসি), পাওয়ারচায়না এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশনসহ বেশ কয়েকটি চীনা প্রতিষ্ঠান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
বিশেষ করে চায়না রেলওয়ে ইন্টারন্যাশনাল এবং চায়না রেলওয়ে কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ যৌথভাবে তিনটি বড় ও মাঝারি আকারের স্টেশন—আবুধাবি এমবিজেড (মোহাম্মদ বিন জায়েদ সিটি), দুবাই আল ইয়ালাইস এবং ফুজাইরাহর (আল হাইল এলাকা) সমন্বিত নকশা ও নির্মাণকাজ সম্পন্ন করেছে। এসব স্টেশনের মোট নির্মাণ এলাকা ২০ হাজার বর্গমিটারেরও বেশি।
চায়না রেলওয়ে ইন্টারন্যাশনালের প্রকল্প ব্যবস্থাপক ইউ হাও বলেন, অবকাঠামো খাতে নিজেদের পূর্ণাঙ্গ শিল্পশৃঙ্খলের সক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে তারা চীন-আমিরাত সহযোগিতার আরও আদর্শ প্রকল্প গড়ে তুলবেন।
রেলপথটির নির্মাণে চীনা প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণ শুরু হয় ২০১৯ সালের মার্চে, যখন চায়না স্টেট কনস্ট্রাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের মধ্যপ্রাচ্য শাখা ইতিহাদ রেলের দ্বিতীয় ধাপের ‘প্যাকেজ এ’-এর নির্মাণকাজের দায়িত্ব পায়। এর মাধ্যমে সংযুক্ত আরব আমিরাতের রেলবাজারে প্রবেশকারী প্রথম চীনা কোম্পানি হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি আত্মপ্রকাশ করে। ২০২১ সালের ৮ জানুয়ারি দেশটির রাজপরিবারের সদস্য এবং সরকারি কর্মকর্তারা রেললাইন স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে প্রকল্পটির একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক উদযাপন করেন।
অবকাঠামোর পাশাপাশি যাত্রীবাহী রেলপথটির মূল ট্রেনও চীনে তৈরি হয়েছে। পরীক্ষামূলক পরিচালনায় ব্যবহৃত হচ্ছে ১৩টি ট্রেন, যার প্রতিটির নকশাগত সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ২০০ কিলোমিটার এবং প্রতিটিতে প্রায় ৪০০ যাত্রী বহনের সক্ষমতা রয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

