গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫

রোববার,

১১ জানুয়ারি ২০২৬,

২৮ পৌষ ১৪৩২

রোববার,

১১ জানুয়ারি ২০২৬,

২৮ পৌষ ১৪৩২

Radio Today News

গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:৩১, ১০ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
গণবিক্ষোভে উত্তাল ইরান, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫

ইরানের প্রধান শহরগুলো শুক্রবার রাতে ইসলামি প্রজাতন্ত্রের বিরুদ্ধে নতুন করে গণবিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে। শনিবার অধিকারকর্মীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, ৩৬ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে চলা ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট বা সংযোগ বিচ্ছিন্নতার সুযোগ নিয়ে কর্তৃপক্ষ বিক্ষোভ দমনে আরও সহিংস হয়ে উঠেছে। বর্তমানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৫ জনে দাঁড়িয়েছে। খবর রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন, আল জাজিরা।

দুই সপ্তাহ ধরে চলা এই বিক্ষোভ ইরানি কর্তৃপক্ষের জন্য গত কয়েক বছরের মধ্যে সবচাইতে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। যদিও সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এই পরিস্থিতির জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করে কঠোর মনোভাব বজায় রেখেছেন।

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবি অনুযায়ী, বৃহস্পতিবারের সবচাইতে বড় বিক্ষোভের পর শুক্রবার রাতেও নতুন করে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়েছে। ইন্টারনেট মনিটর নেটব্লকস জানিয়েছে, দেশজুড়ে ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট অব্যাহত রয়েছে, যা বিক্ষোভের ছবি বহির্বিশ্বে পৌঁছাতে বাধা দিচ্ছে।

ইরানের হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পর্যন্ত ইরানের ৩১টি প্রদেশের ১৮০টি শহরের ৫১২টি স্থানে বিক্ষোভ হয়েছে। এতে ৫০ জন বিক্ষোভকারী, ১৪ জন নিরাপত্তা কর্মী এবং একজন সরকার সমর্থিত বেসামরিক নাগরিকসহ মোট ৬৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়াও ২,৩১১ জনকে আটক করা হয়েছে এবং অসংখ্য মানুষ পেলেট গান ও প্লাস্টিক বুলেটে আহত হয়েছেন।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, তারা নিরাপত্তা বাহিনীর মাধ্যমে প্রাণঘাতী শক্তির বেআইনি ব্যবহারের উদ্বেগজনক রিপোর্টগুলো বিশ্লেষণ করছে। নোবেলজয়ী শিরিন এবাদি সতর্ক করেছেন, যোগাযোগের এই বিচ্ছিন্নতাকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে কর্তৃপক্ষ বড় ধরনের কোনো ‘গণহত্যা’র প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না। তিনি তেহরানের একটি হাসপাতালেই কয়েকশ মানুষের চোখে আঘাত পাওয়ার খবর পেয়েছেন।

তেহরানের সাদাতাবাদে মানুষকে হাঁড়ি-পাতিল বাজিয়ে সরকারবিরোধী স্লোগান দিতে দেখা গেছে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অন্যান্য ভিডিওতে রাজধানী ছাড়াও মাশহাদ, তাবরিজ এবং পবিত্র শহর কোমেও বিশাল বিক্ষোভের চিত্র উঠে এসেছে। পশ্চিমের শহর হামাদানে এক ব্যক্তিকে শাহ আমলের পতাকা ওড়াতে দেখা গেছে। উত্তরের একটি জেলায় মানুষকে মহাসড়কের মাঝখানে আগুন জ্বালিয়ে নাচতে দেখা গেছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের