বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ইরানে ‘কঠোর পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

বুধবার,

১৪ জানুয়ারি ২০২৬,

১ মাঘ ১৪৩২

বুধবার,

১৪ জানুয়ারি ২০২৬,

১ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ইরানে ‘কঠোর পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৪:২২, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ১৪:২৩, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দিলে ইরানে ‘কঠোর পদক্ষেপের’ হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সতর্ক করে বলেছেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানে সরকারবিরোধী গণ-আন্দোলন দমনে কর্তৃপক্ষ যদি ফাঁসি কার্যকর শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র কঠোর প্রতিক্রিয়া জানাবে। 

গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) মার্কিন মিডিয়া সিবিএস নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তারা যদি এমন কিছু করে, আমরা খুব শক্ত প্রতিক্রিয়া দেখাব।

আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) থেকেই ফাঁসি কার্যকর হতে পারে— এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

অনলাইনে প্রকাশিত এক ভিডিও ক্লিপে ট্রাম্প বলেন, “তারা হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা শুরু করেছে। আর এখন ফাঁসির কথা বলছে। তাহলে দেখা যাক, এর পরিণতি তাদের জন্য কেমন হয়।” 

সাক্ষাৎকারের সময় তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উত্তরাঞ্চলীয় অঙ্গরাজ্য মিশিগানে ছিলেন। সেখানে তিনি একটি উৎপাদন কারখানা পরিদর্শন করেন এবং অর্থনীতি নিয়ে ভাষণ দেন।

ভাষণে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া আগের বার্তার পুনরাবৃত্তি করে বলেন, ইরানের বিক্ষোভকারীদের জন্য “সহায়তা আসছে।” তিনি আরও বলেন, ইরানে প্রকৃত মৃত্যুর সংখ্যা এখনো স্পষ্ট নয়। ট্রাম্পের ভাষায়, “আমি নানা সংখ্যা শুনছি। দেখুন, একটি মৃত্যুও অনেক বেশি। কিন্তু কোথাও কম সংখ্যা শুনছি, আবার কোথাও অনেক বেশি।”

পরবর্তীকালে ওয়াশিংটনে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, শিগগিরই ইরান পরিস্থিতি নিয়ে একটি ব্রিফিং পাবেন। ট্রাম্প বলেন, “হত্যাকাণ্ডের মাত্রা বড় বলেই মনে হচ্ছে, তবে এখনো নিশ্চিতভাবে জানি না। ২০ মিনিটের মধ্যেই জানব—এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেব।” এর আগে তিনি বলেছিলেন, বিক্ষোভকারীরা নিহত হলে যুক্তরাষ্ট্র হস্তক্ষেপ করবে—যে সীমা কয়েক দিন আগেই অতিক্রম করা হয়েছে।

নরওয়ে-ভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন ইরান হিউম্যান রাইটস (আইএইচআর) মঙ্গলবার জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত অন্তত ৭৩৪ জন নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে প্রকৃত মৃতের সংখ্যা হাজার ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একই সঙ্গে বিক্ষোভ দমনে ইরান সরকার মৃত্যুদণ্ড ব্যবহার করতে পারে—এমন আশঙ্কাও জোরালো হয়েছে।

তেহরানের কৌঁসুলিরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক বিক্ষোভে গ্রেপ্তার কিছু ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘মোহারেবেহ’ বা ‘ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ডযোগ্য মামলা করা হবে। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এক বিবৃতিতে বলেছে, “ভিন্নমত দমন ও ভীতি সৃষ্টির জন্য কর্তৃপক্ষ আবারও দ্রুত বিচার ও নির্বিচার মৃত্যুদণ্ডের পথে হাঁটতে পারে—এমন উদ্বেগ বাড়ছে।”

আইএইচআর বিশেষভাবে এরফান সোলতানি (২৬) নামের এক যুবকের মামলার কথা উল্লেখ করেছে। গত সপ্তাহে তেহরানের উপশহর কারাজে গ্রেপ্তার হওয়া সোলতানিকে ইতোমধ্যেই মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে বলে তার পরিবারের একটি সূত্র জানিয়েছে। ওই সূত্রের দাবি, তাকে বুধবারের মধ্যেই ফাঁসি দেওয়া হতে পারে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের