মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

মঙ্গলবার,

১৩ জানুয়ারি ২০২৬,

৩০ পৌষ ১৪৩২

মঙ্গলবার,

১৩ জানুয়ারি ২০২৬,

৩০ পৌষ ১৪৩২

Radio Today News

মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ০৮:৪৮, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
মার্কিন নাগরিকদের ইরান ত্যাগ করার নির্দেশ যুক্তরাষ্ট্রের

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর একটি জরুরি নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করে ইরানে অবস্থানরত সব মার্কিন নাগরিককে অবিলম্বে দেশটি ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছে। একইসঙ্গে জানানো হয়েছে, এ ক্ষেত্রে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে কোনো ধরনের সহায়তা পাওয়ার প্রত্যাশা করা উচিত নয়।

গত ডিসেম্বরের শেষ দিক থেকে ইরানজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা চলছে, যার ফলে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে প্রাণহানি ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে তেহরান কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে এবং বিদেশি মদদে সহিংসতা ছড়ানোর অভিযোগ তুলে মোবাইল ও ইন্টারনেট নেটওয়ার্ক বন্ধ করে দিয়েছে।

সোমবার (১২ জানুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের ভার্চুয়াল এম্বাসি তেহরান এক বিবৃতিতে জানায়, “এখনই ইরান ত্যাগ করুন।” এতে নাগরিকদের নিজস্ব ঝুঁকি মূল্যায়ন ও ভ্রমণ পরিকল্পনা করার আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, “আপনি যদি দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে যুক্তরাষ্ট্র সরকার আপনার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারবে না।”

সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, “ইরানে মার্কিন নাগরিকরা জিজ্ঞাসাবাদ, গ্রেপ্তার ও আটক হওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছেন।” এতে আরও উল্লেখ করা হয়, শুধুমাত্র একটি মার্কিন পাসপোর্ট বহন করাই আটক হওয়ার কারণ হতে পারে। দ্বৈত নাগরিকদের ক্ষেত্রে কেবল ইরানি পাসপোর্ট ব্যবহার করেই দেশ ত্যাগ করতে বলা হয়েছে।

যারা দেশ ছাড়তে অক্ষম, তাদের জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে—নিজ বাসভবনের ভেতরে অথবা অন্য কোনো নিরাপদ ভবনে নিরাপদ আশ্রয় নিতে এবং খাবার, পানি, ওষুধ ও অন্যান্য জরুরি সামগ্রী মজুত রাখতে।

২০২৫ সালের গ্রীষ্মকাল থেকে তেহরান, ওয়াশিংটন ও পশ্চিম জেরুজালেমের (ইসরায়েল) মধ্যে উত্তেজনা তীব্র রয়েছে। ওই সময় যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে এবং ইরানের গুরুত্বপূর্ণ পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালায়। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, এই হামলা একটি পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির আগেই তা প্রতিহত করার জন্য করা হয়েছিল—যদিও তেহরান এ দাবি অস্বীকার করেছে।

গত সপ্তাহে ট্রাম্প প্রকাশ্যে জানান, তার প্রশাসন “খুব শক্ত কিছু বিকল্প” বিবেচনা করছে, যার মধ্যে সম্ভাব্য বিমান হামলাও “টেবিলে থাকা বহু বিকল্পের একটি”।

এর জবাবে ইরানি কর্মকর্তারা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন—ওয়াশিংটন যদি হস্তক্ষেপ করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক ঘাঁটি এবং সেনা সদস্যরা “বৈধ লক্ষ্যবস্তুতে” পরিণত হবে।

তেহরান আরও দাবি করেছে, তাদের কাছে বিদেশি মদদপুষ্ট অনুপ্রবেশকারীদের—এর মধ্যে মোসাদের এজেন্টও রয়েছে—প্রমাণ আছে, যারা দেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে যুক্তরাষ্ট্রকে হস্তক্ষেপের অজুহাত দেওয়ার চেষ্টা করছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের