লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ বুধবার দাবি করেছে, তারা মধ্য ও উত্তর ইসরাইলে একাধিক সামরিক স্থাপনা ও কমান্ড সদরদপ্তর লক্ষ্য করে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।
হিজবুল্লাহ আরও জানায়, মধ্য ইসরায়েলে অবস্থিত রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ইসরায়েল এরোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজ-আইএআই-এর সদরদপ্তরেও ড্রোনের ঝাঁক দিয়ে হামলা চালানো হয়েছে।
এর আগে বুধবার (৪ মার্চ) সকালে উত্তর ইসরায়েলের মেতুলা এলাকায় ইসরায়েলি সেনাদের একটি সমাবেশ লক্ষ্য করে রকেট হামলা চালানোর কথাও জানায় গোষ্ঠীটি।
এক বিবৃতিতে গোষ্ঠীটি জানায়, উত্তর ইসরায়েলের সাফেদ শহরের উত্তর-পূর্বে অবস্থিত দাদো ঘাঁটি—যা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর নর্দার্ন কমান্ডের সদরদপ্তর—সেখানে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়েছে। এছাড়া সাফেদের পূর্বে অবস্থিত গিভা ড্রোন নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটিতেও নির্ভুল লক্ষ্যভেদী ক্ষেপণাস্ত্র হামলার দাবি করেছে তারা।
হিজবুল্লাহ দাবি করেছে, লেবাননের বিভিন্ন শহর ও জনপদে, বিশেষ করে বৈরুতের দক্ষিণ উপশহরে ‘ইসরাইলি আগ্রাসনের’ জবাব হিসেবেই এসব হামলা চালানো হয়েছে।
পরিস্থিতি সোমবার থেকে আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ওই দিন হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলের একটি সামরিক স্থাপনায় রকেট ও ড্রোন হামলা চালায়। গোষ্ঠীটি জানায়, ইরানে চলমান যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলি হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনিকে হত্যার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় এবং ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাব হিসেবে এ হামলা চালানো হয়।
এর জবাবে ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননে একাধিক বিমান হামলা চালায় এবং দক্ষিণ লেবাননে স্থল অভিযান শুরু করে। এতে অন্তত ৪০ জন নিহত ও প্রায় ২৫০ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে ইসরায়েল ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির তথ্য প্রকাশে কঠোর সেন্সরশিপ আরোপ করেছে। ইরান ও হিজবুল্লাহর ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র বা প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় প্রতিহত হামলার ক্ষয়ক্ষতি সংক্রান্ত তথ্য ও ভিডিও প্রচারেও নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় চার হাজারের বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১৭ হাজার মানুষ আহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর থেকে এ সংঘাত পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধে রূপ নেয়।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

