বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ পুরুষের মৃত্যু, রেখে গেছেন ১৩৪ সন্তান

শনিবার,

১৭ জানুয়ারি ২০২৬,

৪ মাঘ ১৪৩২

শনিবার,

১৭ জানুয়ারি ২০২৬,

৪ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ পুরুষের মৃত্যু, রেখে গেছেন ১৩৪ সন্তান

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৮:৪৩, ১৭ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
বিশ্বের সবচেয়ে প্রবীণ পুরুষের মৃত্যু, রেখে গেছেন ১৩৪ সন্তান

সময়ের চাকা ঘুরেছে দেড়শ বছরের কাছাকাছি। চোখের সামনে বদলে যেতে দেখেছেন গোটা পৃথিবীটাকে। মরুভূমির বালুচর থেকে আধুনিক সৌদি আরবের উত্থান- সব কিছুরই জীবন্ত সাক্ষী ছিলেন তিনি। অবশেষে জীবনের দীর্ঘ পথ চলা শেষ করে চিরবিদায় নিলেন সৌদি আরবের সবচেয়ে প্রবীণ নাগরিক শেখ নাসের বিন রাদ্দান আল রশিদ আল ওয়াদাইয়ের।

যদি পরিবারের দাবি সঠিক হয়, তবে আল রশিদের জন্ম হয়েছিল ঊনবিংশ শতকে। ১৯৩২ সালে আধুনিক সৌদি আরব রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করার অনেক আগেই তাঁর জন্ম। 

তিনি দেখেছেন প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা। মরুপ্রদেশের সাধারণ জীবন থেকে প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক সৌদি আরবের বিবর্তন তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন অত্যন্ত কাছ থেকে। তাঁর দীর্ঘ জীবনে তিনি একাধিক সৌদি শাসকের শাসনকাল দেখেছেন, যা বর্তমান প্রজন্মের কাছে অবিশ্বাস্য এক ইতিহাস।

যাঁরা তাঁকে কাছ থেকে দেখেছেন, তাঁদের মতে আল রশিদের জীবনের দুটি স্তম্ভ ছিল- ধর্মবিশ্বাস ও পরিবার। জীবদ্দশায় তিনি ৪০ বারেরও বেশি পবিত্র হজ পালন করেছেন। বয়সের ভার কিংবা শারীরিক প্রতিকূলতা কোনো কিছুই তাঁর তীব্র ধর্মবিশ্বাসে বাধা হতে পারেনি।

মৃত্যুকালে তিনি ১৩৪ জন সন্তান, নাতি-পুতি ও তাঁদের বংশধরদের এক বিশাল পরিবার রেখে গিয়েছেন। আল রশিদের জীবনীতে একটি চমৎকার তথ্য হলো তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের প্রাণশক্তি। ১১০ বছর বয়সে তিনি শেষবার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরবর্তী সময়ে তাঁর একটি কন্যা সন্তানও জন্ম নেয়, যা সেই সময় বিশ্বজুড়ে সংবাদ শিরোনামে জায়গা করে নিয়েছিল।

এই প্রবীণ মানুষের বিদায়বেলায় দাহরান আল এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। তাঁর শেষকৃত্যে প্রায় সাত হাজারেরও বেশি মানুষ অংশ নেন। সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে সমবেত হন।

তিনি চলে গেলেও রেখে গেছেন এক শতাব্দী প্রাচীন ইতিহাসের পদচিহ্ন। এক জীবনে যে অভিজ্ঞতা তিনি সঞ্চয় করেছেন, তা আধুনিক পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল এক দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের