ইরানে যৌথ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল!

শনিবার,

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৯ ফাল্গুন ১৪৩২

শনিবার,

২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৯ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

ইরানে যৌথ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৬:১৫, ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
ইরানে যৌথ সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইসরাইল!

তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যকার আলোচনা বর্তমানে এক কানাগলিতে আটকে গেছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল সরকার। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যৌথ সামরিক পদক্ষেপের প্রস্তুতি নিচ্ছে দেশটি, যদিও এই ধরনের অভিযান চালানো হবে কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। পরিকল্পনাটির সাথে পরিচিত একটি সূত্র এই তথ্য জানিয়েছে।

রয়টার্সকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে দুইজন ইসরাইলি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এবং তেহরানের মধ্যকার মতপার্থক্যগুলো দূর করা অসম্ভব বলে তারা মনে করেন এবং অদূর ভবিষ্যতে সামরিক সংঘাতের সম্ভাবনা অত্যন্ত প্রবল। ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ থেকে শুরু করে ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, সব কটি মূল ইস্যুতেই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র আলোচনা স্থবির হয়ে পড়েছে।

আলোচনার সাথে পরিচিত একটি সূত্র জানায়, ওমানি মধ্যস্থতাকারীরা যখন ক্ষেপণাস্ত্র সংক্রান্ত মার্কিন প্রস্তাব সম্বলিত একটি খাম হস্তান্তর করেন, তখন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সেটি খুলতেও অস্বীকার করেন এবং খামটি ফেরত দেন।

গত মঙ্গলবার জেনেভায় আলোচনার পর আরাগচি দাবি করেন যে দুই পক্ষ কিছু নির্দেশনামূলক নীতিমালার ওপর একমত হয়েছে, তবে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে যে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও অনেক দূরত্ব রয়ে গেছে।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরান একটি লিখিত প্রস্তাব জমা দেবে বলে আশা করা হচ্ছে। আরাগচি নিজেও শুক্রবার জানিয়েছেন, তিনি কয়েক দিনের মধ্যে একটি পাল্টা প্রস্তাবের খসড়া তৈরি করতে পারবেন বলে আশা করছেন।

তিন বছর সমৃদ্ধকরণ স্থগিত করার খবর অস্বীকার যুক্তরাষ্ট্রের

'ইরান ইন্টারন্যাশনাল'-এ প্রকাশিত একটি সূত্রহীন প্রতিবেদনকে সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে একজন ঊর্ধ্বতন মার্কিন কর্মকর্তা। ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছিল, গত দফার পরমাণু আলোচনায় ইরান একটি প্রস্তাব পেশ করেছে যেখানে তারা তিন বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা এবং ইসরাইলের ওপর ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা না চালানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এই প্রতিবেদনের সত্যতা জানতে চাওয়া হলে ওই মার্কিন কর্মকর্তা এটিকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেন।

‘ইরান ইন্টারন্যাশনাল’-এর দাবি অনুযায়ী, মার্কিন বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ইরানের এই প্রস্তাবগুলোকে অপর্যাপ্ত মনে করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রত্যাখ্যান করেন এবং এ নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে অস্বীকৃতি জানান। ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইরান তিন বছরের জন্য সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখার পর পরবর্তীতে সমৃদ্ধকরণের মাত্রা ৩.৬৭ শতাংশে সীমাবদ্ধ রাখার প্রস্তাব দিয়েছিল।

এছাড়া ইতিমধ্যে সমৃদ্ধ হওয়া ইউরেনিয়াম মার্কিন তত্ত্বাবধানে পাতলা করা হবে অথবা রাশিয়ার মতো কোনো তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়া হবে বলেও ওই তথাকথিত প্রস্তাবে উল্লেখ ছিল।

প্রতিবেদনটিতে আরও দাবি করা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ক্ষেপণাস্ত্র ত্যাগের দাবি জানালেও ইরান সেগুলো নিজের কাছে রাখার প্রস্তাব দেয় এবং প্রতিশ্রুতি দেয় যে তারা কেবল প্রতিরক্ষামূলক কাজে এগুলো ব্যবহার করবে, ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাবে না।

এছাড়া ইসরাইলের অস্তিত্বের অধিকার নিয়ে জনসমক্ষে সন্দেহ প্রকাশ না করা এবং হামাস ও হিজবুল্লাহর মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীকে সামরিক সহায়তা না দেয়ার প্রতিশ্রুতিও ওই প্রস্তাবে ছিল বলে দাবি করা হয়। প্রস্তাবে আরও বলা হয়, ইরানের তেল বিক্রির প্রক্রিয়া সুইজারল্যান্ডের মধ্যস্থতায় পরিচালিত হবে এবং সেখান থেকে যুক্তরাষ্ট্র পাঁচ শতাংশ কমিশন পাবে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পুরো বিষয়টিকে ভুয়া বলে উড়িয়ে দিয়েছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের