যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দেশকে ঝুঁকিতে ফেলেছে: আনু মুহাম্মদ

শুক্রবার,

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৭ ফাল্গুন ১৪৩২

শুক্রবার,

২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬,

৭ ফাল্গুন ১৪৩২

Radio Today News

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দেশকে ঝুঁকিতে ফেলেছে: আনু মুহাম্মদ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২৩:৫৪, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

আপডেট: ২৩:৫৫, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

Google News
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি দেশকে ঝুঁকিতে ফেলেছে: আনু মুহাম্মদ

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনে অন্তর্বর্তী সরকারের অতিরিক্ত তাড়াহুড়া ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষক ও অর্থনীতিবিদ আনু মুহাম্মদ। তাঁর মতে, নির্বাচনের ঠিক আগে এ ধরনের চুক্তিতে সই করে বাংলাদেশকে দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘দ্বিপাক্ষীয় মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও বাংলাদেশের লাভ-ক্ষতি’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার চাইলে যুক্তরাষ্ট্রকে জানাতে পারত, নির্বাচিত সরকার শিগগিরই দায়িত্ব নিতে যাচ্ছে এবং চুক্তি বিষয়ে তাদের সঙ্গেই আলোচনা করা যেতে পারে। তা না করে তাড়াহুড়া করে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে বাংলাদেশকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় ফেলা হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের উৎসাহ ছিল অতিমাত্রায় বেশি। উপদেষ্টা বা বিশেষ সহকারীর ভূমিকার আড়ালে তারা কার্যত বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানির লবিস্ট হিসেবে কাজ করেছেন, এমন ধারণা তৈরি হয়েছে।’

স্টারলিংকের সঙ্গে চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে আনু মুহাম্মদ প্রশ্ন তোলেন, এসব চুক্তির ফলে বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বাস্তবে কী কোনো পরিবর্তন এসেছে? বরং জাতীয় স্বার্থের তুলনায় বহুজাতিক কোম্পানির সুবিধাই বেশি গুরুত্ব পেয়েছে। নতুন সরকারের প্রতি এসব চুক্তি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে জাতীয় পর্যায়ে খোলামেলা আলোচনা এবং প্রয়োজনে চুক্তি বাতিল বা সংশোধন জরুরি। একই সঙ্গে যারা এসব চুক্তি সম্পাদন করেছেন, তাদের জবাবদিহির আওতায় আনার কথাও বলেন তিনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ড. ইউনূসের ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থ, কর-সুবিধা কিংবা আন্তর্জাতিক পদপ্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা এসব সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলেছে কিনা সে প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন।

আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে করা চুক্তিকে অসম ও ক্ষতিকর বলে উল্লেখ করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাববিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মোশাহিদা সুলতানা। তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারের শেষ সময়ে করা এ চুক্তি দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা, শিল্পনীতি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্বার্থকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলতে পারে। চুক্তির কিছু বাধ্যতামূলক শর্ত বাংলাদেশের দরকষাকষির সক্ষমতা দুর্বল করেছে।’ 
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান ও কৃষি-শিল্প খাতে ভর্তুকি সীমিত করার শর্ত নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। 

জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের করা চুক্তিগুলোর আইনি এবং নৈতিক বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী জ্যোতির্ময় বড়ুয়া। তিনি বলেন, এসব চুক্তির ধারাগুলো অসম চুক্তির উদাহরণ এবং নতুন করে বিচার–-বিশ্লেষণ করা জরুরি। তাঁর মতে, এসব চুক্তি অর্থনৈতিক ঝুঁকির পাশাপাশি রাজনৈতিক ও আইনগত ঝুঁকিও তৈরি করছে।

সভায় মূল বক্তব্য উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ এলডিসি গ্র্যাজুয়েশন ওয়াচের সমন্বয়ক বরকত উল্লাহ মারুফ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও স্বল্পোন্নত দেশ হলেও আগামী নভেম্বরে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণের কথা রয়েছে। তবে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানবাধিকার, বাণিজ্য ঘাটতি ও মাথাপিছু ঋণের সূচকে দুর্বলতা রয়ে গেছে।

সভায় বক্তারা বলেন, এলডিসি সুবিধা হারানোর আশঙ্কায় জাপান ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্রুত চুক্তিতে যাওয়া হয়েছে। তবে এসব চুক্তিতে লাভের তুলনায় ক্ষতির ঝুঁকি বেশি। বিশেষ করে অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ নিয়ে অনিশ্চয়তা ও অসাম্য স্পষ্ট।

সভা সঞ্চালনা করেন নাগরিক উদ্যোগের প্রধান নির্বাহী জাকির হোসেন। আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন উন্নয়ন অর্থনীতির গবেষক মাহা মির্জাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার প্রতিনিধিরা।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের