মধ্যপ্রাচ্যে চলমান পরিস্থিতি ও হরমুজ প্রণালী বন্ধের কারণে অপরিশোধিত তেলের দাম ১০ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের দাম ১০০ ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়েছেন বিশ্লেষকরা।
তেল ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, রোববার ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১০ শতাংশ বেড়ে প্রায় ৮০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। বাজারের তথ্য বিশ্লেষণকারী প্রতিষ্ঠান আইসিআইএস-এর এনার্জি ও রিফাইনিং ডিরেক্টর অজয় পারমার বলেন, সামরিক হামলাগুলো তেলের দাম বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখলেও আসল কারণ হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়া।
বাণিজ্যিক সূত্রগুলো জানিয়েছে, তেহরানের পক্ষ থেকে সতর্কবার্তা দেওয়ার পর বেশিরভাগ ট্যাঙ্কার মালিক, বড় তেল কোম্পানি এবং ট্রেডিং হাউসগুলো হরমুজ প্রণালী দিয়ে অপরিশোধিত তেল, জ্বালানি এবং এলএনজি পরিবহন স্থগিত করেছে। বিশ্বের ২০ শতাংশের বেশি তেল এই জলপথ দিয়ে পরিবহন করা হয়।
পারমার আরও বলেন, ধারণা করা হচ্ছে সপ্তাহের শুরুতে বাজার চালুর পর তেলের দাম ১০০ ডলারের কাছাকাছি থাকবে। প্রণালীটি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যেতে পারে।
মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা ওয়াশিংটনকে আগেই সতর্ক করেছিলেন ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ তেলের দাম ১০০ ডলারের ওপরে নিয়ে যেতে পারে। এদিকে ওপেক প্লাস গ্রুপ রোববার জানিয়েছে, তারা এপ্রিল থেকে প্রতিদিন ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়াবে। যা বৈশ্বিক চাহিদার ০.২ শতাংশেরও কম।
জ্বালানি গবেষণার সংস্থা রাইস্ট্যাড এনার্জির অর্থনীতিবিদ জর্জ লিওন জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালী এড়িয়ে বিকল্প পথ (যেমন সৌদি আরব বা আবুধাবির পাইপলাইন) ব্যবহার করলেও শেষ পর্যন্ত প্রতিদিন ৮০ লাখ থেকে ১ কোটি ব্যারেল তেলের ঘাটতি দেখা দেবে। রাইস্ট্যাডের মতে, বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে দাম ২০ ডলার বেড়ে প্রায় ৯২ ডলারে পৌঁছাতে পারে।
ইরান সংকটের ফলে এশীয় দেশগুলোর সরকার এবং শোধনাগারগুলো এখন তাদের তেলের মজুত খতিয়ে দেখছে। তারা বিকল্প শিপিং রুট ও সরবরাহের পথ খুঁজছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

