শ্রীলঙ্কার দক্ষিণ উপকূলে একটি মার্কিন সাবমেরিনের টর্পেডো হামলায় ইরানের একটি যুদ্ধজাহাজ ডুবে গেছে। এতে অন্তত ৮৭ জন ইরানি নাবিক নিহত হয়েছেন। ভারত মহাসাগরের গভীরে ঘটা এই হামলার ফলে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যকার চলমান সংঘাতের পরিধি নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পেলো। খবর রয়টার্সের।
শ্রীলঙ্কার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, ডুবে যাওয়া যুদ্ধজাহাজটির নাম ‘আইআরআইএস ডেনা’। জাহাজটি ভারতের বিশাখাপত্তনম বন্দর থেকে ইরানের দিকে ফিরছিলো।
উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে শত শত মাইল দূরে ভারত মহাসাগরের এই হামলা নিয়ে পেন্টাগনে মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথবলেন, একটি আমেরিকান সাবমেরিন ইরানি যুদ্ধজাহাজটিকে ডুবিয়ে দিয়েছে, যারা আন্তর্জাতিক জলসীমায় নিজেদের নিরাপদ মনে করেছিলো। কিন্তু টর্পেডোর আঘাতে এটি ডুবে গেছে। একেই বলে নিঃশব্দ মৃত্যু।
পেন্টাগনের প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে দেখা গেছে, বিশাল বিস্ফোরণে যুদ্ধজাহাজটির পেছনের অংশ উড়ে যায় এবং সেটি পানিতে তলিয়ে যেতে শুরু করে। ভিডিওর জাহাজের আকৃতি আইআরআইএস ডেনার ফাইল ছবির সঙ্গে মিলে গেছে।
শ্রীলঙ্কার বন্দর শহর গলের হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উদ্ধারকারীরা এখন পর্যন্ত ৮৭টি মৃতদেহ উদ্ধার করে এনেছে। শ্রীলঙ্কা নৌবাহিনীর মুখপাত্র কমান্ডার বুদ্ধিকা সম্পথ জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ৩২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। জাহাজে থাকা ১৮০ জন আরোহীর মধ্যে প্রায় ৬০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধারকারীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলে পৌঁছে কেবল তেলের স্রোত এবং পানিতে মানুষকে ভেসে থাকতে দেখা গেছে।
বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে জাহাজের কমান্ডার ও কয়েকজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। তারা শ্রীলঙ্কার নৌবাহিনীকে জানিয়েছেন, সাবমেরিন হামলার শিকার হয়েছেন তারা। বর্তমানে আহতরা গলের কারাপিটিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
১৮ থেকে ২৫ ফেব্রুয়ারি বঙ্গোপসাগরে ভারত আয়োজিত বহুপাক্ষিক নৌ মহড়া ‘মিলান’-এ অংশ নিয়েছিলো এই ইরানি যুদ্ধজাহাজ। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি ভারতীয় নৌবাহিনীর পূর্বাঞ্চলীয় কমান্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জাহাজটিকে স্বাগত জানিয়ে ছবিসহ পোস্ট করেছিলো।
ভারত মহাসাগরের এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটল যখন মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন ও ইসরাইলি বাহিনীর সঙ্গে ইরানের পাল্টাপাল্টি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চলছে। তবে জাহাজটি ডুবে যাওয়ার বিষয়ে ভারতীয় নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
শ্রীলঙ্কা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঘটনাটি আন্তর্জাতিক জলসীমায় ঘটলেও মানবিক কারণে তারা অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

