ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সাত দিনব্যাপী দাফনের আনুষ্ঠানিকতা আজ শুক্রবার শুরু হয়েছে। এ উপলক্ষে বিশ্বের ১০০টির বেশি দেশের প্রতিনিধি ইরানে পৌঁছাবেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (আইআরআইবি)।
বিদেশি প্রতিনিধিদের মধ্যে কয়েকটি দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান সরাসরি শেষকৃত্যে অংশ নিচ্ছেন। পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, তাজিকিস্তানের প্রেসিডেন্ট ইমোমালি রহমান, আর্মেনিয়ার প্রধানমন্ত্রী নিকোল পাশিনিয়ান এবং জর্জিয়ার প্রেসিডেন্ট মিখেইল কাভেলাশভিলি অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
এ ছাড়া কয়েকটি দেশ জ্যেষ্ঠ সরকারি প্রতিনিধিদল পাঠিয়েছে। তুরস্কের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেভদেত ইলমাজ। ভারতের পক্ষ থেকে যোগ দিচ্ছেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী পবিত্র মার্গারিটা ও বিহারের রাজ্যপাল সৈয়দ আতা হাসনাইন। ভারতীয় প্রতিনিধিদলে সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী সালমান খুরশিদ ও জম্মু-কাশ্মীরের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতিও রয়েছেন।
চীনের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দিচ্ছেন দেশটির জাতীয় গণকংগ্রেসের স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান হে ওয়েই। রাশিয়ার পক্ষ থেকে অংশ নিচ্ছেন দেশটির নিরাপত্তা পরিষদের উপপ্রধান ও সাবেক প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ।
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকি এবং উপপ্রধানমন্ত্রী (অর্থনৈতিক) আবদুল গনি বারাদারও তেহরানে পৌঁছেছেন। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রীয় শেষকৃত্যে যোগ দিচ্ছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ।
প্রথমে গত মার্চে খামেনিকে দাফনের পরিকল্পনা থাকলেও ইরানে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে তা পিছিয়ে যায়। এবার সাত দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।
আজ শুক্রবার তেহরানে মূল রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে, যেখানে অধিকাংশ বিদেশি প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন। শনিবার ও রোববার রাজধানীর গ্র্যান্ড মোসাল্লা প্রার্থনা কমপ্লেক্সে খামেনির মরদেহ সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য রাখা হবে।
এরপর সোমবার ও মঙ্গলবার শোকযাত্রা ইরানের কোম শহরের দিকে যাবে। বুধবার মরদেহ নেওয়া হবে ইরাকের নাজাফে। সেখানে আনুষ্ঠানিক সংবর্ধনার পর নাজাফ ও কারবালায় শোক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। পরে মরদেহ আবার ইরানে ফিরিয়ে আনা হবে। আগামী শুক্রবার খামেনিকে উত্তর-পূর্বাঞ্চলের মাশহাদ শহরে ইমাম রেজার মাজারে দাফন করা হবে। মাশহাদেই তার জন্ম হয়েছিল।
ইরানি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই রাষ্ট্রীয় দাফনে দেশটির আধুনিক ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জনসমাগমের একটি হতে পারে। ১৯৮৯ সালে সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির শেষকৃত্যে প্রায় এক কোটি মানুষের সমাগম হয়েছিল। এবারের আয়োজন সেই রেকর্ডও ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে নিরাপত্তাজনিত কারণে খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি শেষকৃত্যে অংশ নেবেন না বলে তার কার্যালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ শুরুর প্রথম দিনে (২৮ ফেব্রুয়ারি) আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

