ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরুর কয়েক সপ্তাহ আগে, গত ৮ ফেব্রুয়ারির পর এই প্রথম জনসমক্ষে দেখা গেছে আইআরজিসির শীর্ষ কমান্ডার জেনারেল আহমাদ ভাহিদিকে। ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির রাষ্ট্রীয় জানাজার প্রস্তুতির মধ্যেই প্রকাশ্যে আসেন তিনি।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাতে তেহরানের ইমাম খোমেনি হোসেইনিয়াহ-সংলগ্ন শোককক্ষে রাখা খামেনির কফিনের পাশে বসে আছেন ভাহিদি। এর আগে তিনি খামেনির জানাজা-সংক্রান্ত একটি বৈঠকেও অংশ নেন।
বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধ-পরবর্তী সমঝোতা ও নিরাপত্তা কৌশল নির্ধারণে ভাহিদি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, তিনি ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টা দলের অন্যতম সদস্য।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের ভিডিওতে তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডের হোসেইনিয়াহ এলাকায় আয়োজিত শোকানুষ্ঠানের দৃশ্যও দেখা যায়। সেখানে একটি মঞ্চে রাখা কফিনের সামনে সারিবদ্ধভাবে লাল টিউলিপ ফুল সাজানো ছিল এবং ওপরে কাগজের তৈরি প্রজাপতি ঝুলিয়ে সাজানো হয়।
কালো পোশাক পরিহিত শোকাহতদের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম ২০২৫ সালের ১২ দিনের যুদ্ধ এবং সাম্প্রতিক ইরান যুদ্ধে নিহতদের স্বজন হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেয়। অনুষ্ঠানে অনেককে কফিনের ওপর ওড়না ও অন্যান্য সামগ্রী নিক্ষেপ করতে দেখা যায়, যা ইরানের একটি প্রচলিত ধর্মীয় রীতি।
পরে প্রকাশিত ছবিতে দেখা যায়, খামেনির কফিনের ওপর ‘ইয়া হুসাইন’ লেখা সাদা ক্যালিগ্রাফিসংবলিত একটি লাল পতাকা ঢাকা রয়েছে। পতাকাটি ইরাকের কারবালায় ইমাম হুসাইনের মাজার থেকে আনা হয়েছে বলে জানানো হয়। শিয়া মুসলিমদের কাছে এই লাল পতাকা শাহাদাত, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং প্রতিশোধের প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হয়।
শুক্রবার (৩ জুলাই) সকালে তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা কাঁধে করে খামেনির কফিন বহন করেন। এ সময় ধর্মীয় নেতারা তার কফিনের পাশাপাশি নিহত পরিবারের সদস্যদের কফিনের পাশ দিয়েও হেঁটে যান। নিহতদের মধ্যে খামেনির ১৪ মাস বয়সী নাতনি জাহরা মোহাম্মদি গোলপায়েগানিও রয়েছেন।
শনিবার থেকে কয়েক দিনব্যাপী রাষ্ট্রীয় জানাজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হবে। এরপর খামেনির মরদেহ ইরানের বিভিন্ন শহর এবং প্রতিবেশী ইরাকের কয়েকটি শহরে নেওয়া হবে। এ উপলক্ষে তেহরানজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে এবং সড়ক ও আকাশপথে বিশেষ বিধিনিষেধ আরোপের প্রস্তুতি নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

