৪০ মিনিট ধরে সাহায্যের আকুতি, পুলিশ বুথের সামনেই রক্তক্ষরণে যুবকের মৃত্যু

বুধবার,

১৫ জুলাই ২০২৬,

৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

বুধবার,

১৫ জুলাই ২০২৬,

৩১ আষাঢ় ১৪৩৩

Radio Today News

৪০ মিনিট ধরে সাহায্যের আকুতি, পুলিশ বুথের সামনেই রক্তক্ষরণে যুবকের মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০:১৪, ১৫ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ২০:১৪, ১৫ জুলাই ২০২৬

Google News
৪০ মিনিট ধরে সাহায্যের আকুতি, পুলিশ বুথের সামনেই রক্তক্ষরণে যুবকের মৃত্যু

মাত্র ২০ রুপি ভাড়া নিয়ে অটোরিকশাচালকের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডা হয় রাজ কুমারের। এক পর্যায়ে সেই চালককে সাথে নিয়ে পুলিশ বুথে যান ২২ বছর বয়সী এই যুবক।

এক পর্যায়ে কোনো সাড়া না পেয়ে বুথের দরজায় আঘাত করতে গেলে কাচ ভেঙে তার হাত গুরুতরভাবে কেটে যায়। এ অবস্থায় সাহায্যের আকুতি জানালেও কোনো সহায়তা না পেয়ে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মারা যান।
ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে একটি ‘পিংক পুলিশ বুথের’ এ ঘটনাকে ঘিরে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। পিংক পুলিশ বুথ হলো- শুধুমাত্র নারী সুরক্ষা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সম্পূর্ণ নারী পুলিশ সদস্যদের দ্বারা পরিচালিত বিশেষ সহায়তা কেন্দ্র।

এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহত রাজ কুমার পেশায় একজন গাড়ির মেকানিক ছিলেন। গত রবিবার বাপুধাম এলাকার একটি পিংক পুলিশ বুথের দরজায় আঘাত করতে গিয়ে কাচ ভেঙে তার হাতে গভীর ক্ষত হয়। এতে প্রায় ৪০ মিনিট ধরে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে পরে তার মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, বুথে দায়িত্বরত নারী পুলিশ সদস্যরা ভয় পেয়ে ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন এবং আহত যুবককে সাহায্য করতে বের হননি।

একই অভিযোগ করেছেন রাজ কুমারের মা। তার দাবি, ছেলে রাস্তায় রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকলেও কেউ এগিয়ে আসেনি।

পুলিশ জানিয়েছে, গত রবিবার ২০ রুপি ভাড়া নিয়ে অটোরিকশাচালকের সঙ্গে রাজ কুমারের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। গাজিয়াবাদের সহকারী পুলিশ কমিশনার উপাসনা পাণ্ডে জানান, রাজ কুমার এবং অটোরিকশাচালক—দুজনই তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। ভাড়া নিয়ে তর্কের পর দুজনই পিংক পুলিশ বুথে যান।

সেখানে রাজ কুমার বুথের লোহার গেট জোরে আঘাত করতে থাকেন। পরে কাচের দরজায় আঘাত করলে সেটি ভেঙে যায় এবং তার হাত গুরুতরভাবে কেটে যায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বুথে থাকা নারী পুলিশ সদস্যরা রাজ কুমারকে কাছের থানায় যেতে বলেন। কিন্তু রাজ কুমার বুথের দরজায় আঘাত করতে থাকলে পুলিশ সদস্যরা ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে দেন। পরে কাচ ভেঙে তার হাতে গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং এক পর্যায়ে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি মাটিতে লুটিয়ে পড়েন।

রাজ কুমারের আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী গুড়িয়া দেবী স্বামীর মৃত্যুর বিচার দাবি করেছেন। তিনি জানান, গত ১২ জুলাই সকাল ৯টায় রাজ কুমার কাজের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন, কিন্তু আর ফিরে আসেননি। তিনি গাজিয়াবাদে গাড়ির মেকানিক হিসেবে কাজ করতেন।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের