ইসরায়েলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের দীর্ঘদিনের একটি গোপন পরিকল্পনা সম্প্রতি ফাঁস হয়েছে। আর এতেই তোলপাড় শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েল গত কয়েক বছর ধরে ইরানের সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে গোপনে লালন করছিল, যাতে যুদ্ধের পরবর্তী সময়ে তাকে ইরানের নতুন নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করা যায়।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ক্ষমতায় থাকাকালীন আহমাদিনেজাদ ইসরায়েলবিরোধী কট্টর অবস্থানের জন্য পরিচিত থাকলেও পরবর্তী সময়ে তার রাজনৈতিক আদর্শের পরিবর্তন এবং ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর সঙ্গে তার দূরত্বকে কাজে লাগাতে চেয়েছিল তেল আবিব।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোসাদের এই দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আহমাদিনেজাদকে গোপনে বিদেশি বিভিন্ন সম্মেলনে যোগ দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হতো। এমনকি তার ভ্রমণের খরচ ও আবাসন বাবদ অর্থ সহায়তাও দিত ইসরায়েল। বুদাপেস্টে জলবায়ু সম্মেলনের আড়ালে মোসাদের তৎকালীন প্রধান ডেভিড বার্নিয়া ব্যক্তিগতভাবে তার সঙ্গে বৈঠক করেছিলেন বলেও দাবি করা হয়েছে।
আহমাদিনেজাদের ঘনিষ্ঠদের মতে, তিনি ক্ষমতার লোভে ইসরায়েলের এই গোপন পরিকল্পনায় আগ্রহী হয়ে উঠেছিলেন, কারণ তিনি মনে করতেন বিদেশি সহায়তায় ইরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের মাধ্যমেই কেবল তার পক্ষে পুনরায় ক্ষমতায় ফেরা সম্ভব।
ঘটনার মোড় ঘুরে যায় গত ২৮ ফেব্রুয়ারি। ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের শুরুর দিকে তেহরানে আহমাদিনেজাদের বাসভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলা চালানো হয়। ওই হামলায় তার দেহরক্ষীদের ভবন ও সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর কালো রঙের পিউজো গাড়িতে করে মোসাদ এজেন্টরা তাকে উদ্ধার করে একটি গোপন আস্তানায় সরিয়ে নেয়। উদ্দেশ্য ছিল, সরকারি নজরদারি থেকে তাকে মুক্ত করে একটি বিকল্প সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু করা। তবে উদ্ধার প্রক্রিয়ার বিশৃঙ্খলা ও পরবর্তী পরিস্থিতির কারণে আহমাদিনেজাদ নিজেই এই পরিকল্পনা নিয়ে সন্দেহ পোষণ করেন এবং সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের মতে, বর্তমানে আহমাদিনেজাদকে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) গোয়েন্দা শাখা গৃহবন্দি করে রেখেছে। গত সপ্তাহে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির দাফন প্রক্রিয়ায় তাকে জনসম্মুখে দেখা গেলেও ধারণা করা হচ্ছে যে ইসরায়েলের সঙ্গে তার গোপন যোগাযোগের বিষয়টি ইরানের নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ফাঁস হয়ে যাওয়ায় তাকে কঠোর নজরদারিতে রাখা হয়েছে।
এই ব্যর্থ অভিযানটি ছিল ইরানের শাসনব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্য ইসরায়েলের একটি বৃহৎ কৌশলের অংশ, যার মধ্যে ইরাকের কুর্দি গোষ্ঠীগুলোকে সশস্ত্র করা এবং ইরানের অভ্যন্তরে সামরিক অভিযানের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
তবে এ বিষয়ে ইরান কিংবা ইসরায়েল কেউই আনুষ্ঠানিক বা অনানুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

