ইরান নয়, বরং ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই এখন বিশ্বের এক নম্বর শত্রু। প্রখ্যাত কলামিস্ট সায়মন টিসডল ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক বিশ্লেষণী নিবন্ধে ট্রাম্পকে ‘গণবিধ্বংসী এক মানব অস্ত্র’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, ইরানের সঙ্গে শুরু করা একটি বিপর্যয়কর যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজে না পেয়ে ট্রাম্প এখন দিশেহারা।
টিসডল লিখেছেন, মার্কিন সামরিক বাহিনী আবারও ইরানে হামলা চালাচ্ছে এবং ক্রমবর্ধমানভাবে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তু করছে। এই বেআইনি কর্মকাণ্ড হঠকারী ইরানি শাসনের প্রতিরোধ ক্ষমতাকেই কেবল শক্তিশালী করছে। পেন্টাগনের প্রধান পিট হেগসেথ এবং ট্রাম্প এই অভিযানকে ‘বড় জয়’ বলে দাবি করলেও তা এখন বিশ্ববাসীর কাছে উপহাসের বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষণে বলা হয়, ট্রাম্পের যুদ্ধংদেহী মনোভাবের কারণে হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে গেছে। ইরান থেকে শুরু করে গাজা বা ইউক্রেন—সব ক্ষেত্রেই ট্রাম্পের অদূরদর্শিতা ও জেদ বিপর্যয় ডেকে আনছে। তিনি গত বছরের গাজা ‘শান্তি পরিকল্পনা’ নিয়ে আগ্রহ হারিয়েছেন, যেখানে হাজারো ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। ইউক্রেন যুদ্ধেও তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে তোষণ করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
টিসডল আরও বলেন, ট্রাম্পের এই বিশৃঙ্খল নীতির সবচেয়ে বড় সুবিধাভোগী হচ্ছে চীন ও রাশিয়া। ট্রাম্পের কারণে ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে ওয়াশিংটনের দূরত্ব বাড়ছে, যা পুতিনকে উল্লসিত করছে। অন্যদিকে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দক্ষিণ চীন সাগরে শক্তি প্রদর্শন করে ট্রাম্পের এই বিশৃঙ্খলা থেকে ফায়দা নেয়ার অপেক্ষায় আছেন।
বিশ্বজুড়ে জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, দুর্ভিক্ষের শঙ্কা এবং আন্তর্জাতিক আইনের অবমাননার জন্য এককভাবে ট্রাম্পকে দায়ী করেছেন এই বিশ্লেষক। তিনি উপসংহারে বলেন, ট্রাম্প আমেরিকাকে আবারও মহান করা তো দূরের কথা, দেশটিকে আরও একা ও ঘৃণিত করে তুলছেন। এখন সময়ের দাবি হলো ২০২৬ সালে ট্রাম্পের হাত থেকে আমেরিকার ‘স্বাধীনতা ঘোষণা’ করা।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

