ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

বৃহস্পতিবার,

১৬ জুলাই ২০২৬,

১ শ্রাবণ ১৪৩৩

বৃহস্পতিবার,

১৬ জুলাই ২০২৬,

১ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ০৯:৫৫, ১৬ জুলাই ২০২৬

আপডেট: ০৯:৫৯, ১৬ জুলাই ২০২৬

Google News
ইংল্যান্ডকে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনা

বুধবার রাতে আবারও দারুণ প্রত্যাবর্তন দেখাল আর্জেন্টিনা। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালে তারা জিতেছে ২-১ গোলে। এই জয়ে বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট পেয়েছে তারা। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে প্রথম গোল করে এগিয়ে যায় ইংল্যান্ড। এই গোলটি করেন অ্যান্থনি গর্ডন। এরপর ৮৫ মিনিটে সমতা ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ।

বিরতির পর ম্যাচের চিত্র পাল্টে যায়। ৫৫তম মিনিটে মরগান রজার্সের বাড়ানো বল থেকে দারুণ এক ফিনিশিংয়ে ইংল্যান্ডকে এগিয়ে দেন অ্যান্থনি গর্ডন। গোল হজমের পর আক্রমণের তীব্রতা বাড়ায় আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণে ইংল্যান্ডের রক্ষণকে চাপে রাখে তারা। ৬৯তম মিনিটে নিকো গঞ্জালেজের হেড দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। এরপর ৭৬তম মিনিটে আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের হেড পোস্টে লেগে ফিরে আসে।

তবে শেষ পর্যন্ত অপেক্ষার অবসান হয় ৮৫তম মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে প্রায় ২০ গজ দূরত্বে দাঁড়িয়ে দুর্দান্ত এক শটে পিকফোর্ডকে পরাস্ত করে আর্জেন্টিনাকে সমতায় ফেরান এনজো ফার্নান্দেজ।

সমতায় ফেরার পর আক্রমণের গতি আরও বাড়ায় আর্জেন্টিনা। যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে লিওনেল মেসির নিখুঁত ক্রস থেকে অসাধারণ এক হেডে জয়সূচক গোল করেন লাউতারো মার্তিনেজ। আর্জেন্টিনার দুটি গোলেই অ্যাসিস্ট করেন অধিনায়ক মেসি।

শেষ পর্যন্ত ২–১ গোলের জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নেয় বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

এই জয়ের ফলে ফাইনালে স্পেনের মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা। এই ম্যাচ লিওনেল মেসির জন্যও বিশেষ কিছু বয়ে এনেছে। ৩৯ বছর বয়সী এই ফুটবলার প্রথম অধিনায়ক হিসেবে তিনটি বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নিয়ে গেলেন।

এর আগেও মেসি অধিনায়ক হিসেবে দলকে ফাইনালে নিয়েছিলেন। ২০১৪ ও ২০২২ সালেও তিনি আর্জেন্টিনাকে ফাইনালে তুলেছিলেন। ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতেছিল আর্জেন্টিনা। ২০১৪ সালে সাতটি ম্যাচ খেলে পাঁচটিতে জিতেছিল তারা, একটি ড্র হয়েছিল, একটিতে হেরেছিল। সেবার রানার্সআপ হয়েছিল দল। 

২০১৮ সালে চারটি ম্যাচ খেলে একটিতে জিতেছিল, একটি ড্র হয়েছিল, দুটিতে হেরেছিল। সেবার শেষ ষোলো থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল। ২০২২ সালে সাতটি ম্যাচের সাতটিতেই জেতেনি আর্জেন্টিনা, চারটিতে জিতেছিল, দুটি ড্র হয়েছিল, একটিতে হেরেছিল। 

সেবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল তারা। আর এবার ২০২৬ সালে এখন পর্যন্ত সাতটি ম্যাচের সবকটিতেই জিতেছে আর্জেন্টিনা।

টানা দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনালে ওঠার ঘটনা আর্জেন্টিনার ইতিহাসে এর আগে একবারই ঘটেছিল। ১৯৮৬ ও ১৯৯০ সালে টানা দুই ফাইনালে খেলেছিল তারা। সেই সময় দলের অধিনায়ক ছিলেন দিয়েগো ম্যারাডোনা। এবার ইংল্যান্ডকে হারিয়ে ম্যারাডোনার সেই কীর্তির সমান হলেন মেসি।

টানা দুইবার বিশ্বকাপ ফাইনালে দলকে নেওয়া অধিনায়কদের তালিকায় আরও কয়েকজনের নাম আছে। পশ্চিম জার্মানির কার্ল-হাইনৎস রুমেনিগে ১৯৮২ ও ১৯৮৬ সালে দলকে ফাইনালে নিয়েছিলেন, দুইবারই হেরেছিলেন তিনি। ব্রাজিলের দুঙ্গা ১৯৯৪ সালে পেনাল্টিতে জিতেছিলেন, ১৯৯৮ সালে হেরেছিলেন। ফ্রান্সের উগো লরিস ২০১৮ সালে জিতেছিলেন, ২০২২ সালে আর্জেন্টিনার কাছে পেনাল্টিতে হেরেছিলেন। মেসি নিজেও ২০২২ সালে ফ্রান্সের বিপক্ষে পেনাল্টিতে জিতেছিলেন। 

এবার স্পেনের বিপক্ষে ফাইনালের ফল কী হয়, সেটাই এখন দেখার বিষয়।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের