কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অভূতপূর্ব গতিতে মানুষের জীবনকে বদলে দিচ্ছে। তবে, এর সাথে অ্যালগরিদমিক পক্ষপাত, ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁসসহ নানান সমস্যাও ব্যাপক উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে ও দিচ্ছে, যা ধীরে ধীরে নিরাপত্তা, সুশাসন ও ন্যায়বিচারের সঙ্গে সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে। এ অবস্থায়, কেবল সকলের কল্যাণে ব্যবহৃত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই প্রকৃত সুফল বয়ে আনতে পারে। চায়না মিডিয়া গ্রুপ (সিএমজি)-র সিজিটিএন কর্তৃক, বিশ্বব্যাপী নেটিজেনদের মধ্যে পরিচালিত এক জরিপে, এমন মত উঠে এসেছে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের ৮৫.৪ শতাংশ এআই-র ইতিবাচক প্রভাব স্বীকার করলেও, এর দ্রুত বিকাশ বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও শাসনব্যবস্থার জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি করছে বলে মত প্রকাশ করেন। ৯১ শতাংশ উত্তরদাতা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এআই প্রযুক্তির দ্রুত উন্নয়ন সাইবার হামলা, তথ্য ফাঁসসহ বিভিন্ন নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াতে পারে। ৯২.৬ শতাংশ মনে করেন, এআই-র মাধ্যমে তৈরি ভুয়া তথ্য ও ডিপফেক কনটেন্ট, সামাজিক আস্থার জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।
বিশ্বব্যাপী কম্পিউটিং সক্ষমতা, তথ্য, মানবসম্পদ এবং অবকাঠামোর অসম বিন্যাসের কারণে, বহু উন্নয়নশীল দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রতিযোগিতায় তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে রয়েছে। জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮২.৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, এআই-র বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থার নিয়ম প্রণয়নে আরও বেশি উন্নয়নশীল দেশ এবং ‘গ্লোবাল সাউথ’ দেশগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা উচিত, যাতে শাসনব্যবস্থা আরও ন্যায়সঙ্গত ও অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়।
জরিপে অংশগ্রহণকারী ৮৭.৫ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, আন্তর্জাতিক সমাজের উচিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রযুক্তিকে সর্বজনীন কল্যাণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নেওয়া, যাতে ডিজিটাল বৈষম্য বৃদ্ধি এড়ানো যায়। ৯০.৯ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করেন, প্রযুক্তিগত অবরোধের পরিবর্তে, উন্মুক্ত সহযোগিতা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপদ, সুস্থ ও টেকসই উন্নয়নের জন্য আরও সহায়ক হবে।
এই জরিপটি সিজিটিএন-এর ইংরেজি, স্প্যানিশ, ফরাসি, আরবি এবং রুশ ভাষা প্ল্যাটফর্মে প্রকাশ করা হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মোট ৬ হাজার ৫০৩ জন নেটিজেন এতে অংশগ্রহণ করেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

