মেসির কোলে ইয়ামাল: ইতিহাস গড়া ছবিটির পেছনের মানুষ কে?

শুক্রবার,

১৭ জুলাই ২০২৬,

১ শ্রাবণ ১৪৩৩

শুক্রবার,

১৭ জুলাই ২০২৬,

১ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

মেসির কোলে ইয়ামাল: ইতিহাস গড়া ছবিটির পেছনের মানুষ কে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ২২:২১, ১৬ জুলাই ২০২৬

Google News
মেসির কোলে ইয়ামাল: ইতিহাস গড়া ছবিটির পেছনের মানুষ কে?

বিশ্ব ফুটবলের দুই প্রজন্মের দুই তারকা—লিওনেল মেসি ও লামিনে ইয়ামালকে একই ফ্রেমে দেখা সেই ছবিটি আজ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত আলোকচিত্র। তবে অনেকেরই অজানা, ছবিটি তুলেছিলেন স্প্যানিশ ফটোগ্রাফার জোয়ান মনফোর্ট।

২০০৭ সালের ডিসেম্বরে বার্সেলোনার একটি দাতব্য ক্যালেন্ডারের জন্য ছবিটি তোলা হয়েছিল। তখন ২০ বছর বয়সী মেসি ছিলেন বার্সেলোনার উদীয়মান তারকা, আর ইয়ামাল ছিলেন মাত্র পাঁচ মাসের শিশু। বার্সেলোনা ফাউন্ডেশন ও স্প্যানিশ সংবাদপত্র দিয়ারিও স্পোর্টের উদ্যোগে ইউনিসেফের জন্য আয়োজিত সেই ফটোশুটেই ইতিহাসের জন্ম হয়।

প্রতি বছরই বার্সার ফুটবলারদের নিয়ে এমন আয়োজন হতো, যেখানে শত শত সাধারণ পরিবার অংশ নিত। কিন্তু ভাগ্যের কী অদ্ভুত খেলা, বিশ্ব ফুটবলের ভবিষ্যৎ তারকা ইয়ামালকেই সেদিন জুটিয়ে দেওয়া হয়েছিল ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফুটবলার ও আটবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী মেসির সঙ্গে!

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমসের স্পোর্টস পোর্টাল দ্য অ্যাথলেটিককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মনফোর্ট বলেন, ছবিটি তোলা সত্যিই খুব কঠিন ছিল। এটুকু বলতে পারি, এটি ক্যামেরাবন্দি করতে আমাকে রীতিমতো রক্ত পানি করতে হয়েছিল।

তিনি জানান, ইয়ামালের মা শিলা এবানার সহযোগিতা ছাড়া ছবিটি তোলা সম্ভব হতো না। তার উপস্থিতিতেই শিশুটি স্বাভাবিক ছিল এবং মেসির সঙ্গে একটি স্বতঃস্ফূর্ত মুহূর্ত তৈরি করা সম্ভব হয়েছিল।

তিনি বলেন, সেই শুটিংয়ের দিনের স্মৃতিচারণ করে মনফোর্ট বলেন, আমাদের ১২ জন খেলোয়াড়ের একটি তালিকা দেওয়া হয়েছিল। সাধারণত ফুটবলাররা এসে তাড়াহুড়ো করে বলেন, তাড়াতাড়ি শেষ করুন, আমার তাড়া আছে। কিন্তু ভালো ছবির জন্য সময় দিতে হয়। অপরিচিত দুজন মানুষের মধ্যে যখন ছবির মেলবন্ধন তৈরি করতে হয়, তখন পরিবেশটা কিছুটা আড়ষ্ট থাকে। আর যখন একজন ২০ বছরের তরুণ এবং অন্যজন একটা কোলের শিশু, তখন কাজটা আরও কঠিন। তবে ইয়ামালের মা আমাদের দারুণ সাহায্য করেছিলেন। তার উপস্থিতি ছিল অত্যন্ত জরুরি, যাতে শিশুটি ভয় না পায়। আমরা মূলত একটি মিষ্টি ও ভালোবাসাময় মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করতে চেয়েছিলাম।

ছবিগুলোতে দেখা যায়, একটি ছোট প্লাস্টিকের বাথটাবে থাকা ইয়ামালকে গোসল করাতে সাহায্য করছেন মেসি। আরেকটি ছবিতে তোয়ালে জড়িয়ে ছোট্ট ইয়ামালকে কোলে নিয়ে স্নেহভরে দাঁড়িয়ে আছেন আর্জেন্টাইন তারকা।

দীর্ঘদিন ছবিটি খুব একটা আলোচনায় না এলেও ২০২৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছবিটি প্রকাশ করলে তা মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। এরপর থেকেই এটি ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম প্রতীকী ছবি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ফটোগ্রাফার মনফোর্ট বলেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন ছবিটি প্রথম আলোড়ন তোলে, আমার বিশ্বাসই হচ্ছিল না। ২০০৭ সালের কথা ভাবুন, মেসি তখন বার্সেলোনায় কেবল নিজের পায়ের তলার মাটি শক্ত করছেন। রোনালদিনহো, স্যামুয়েল ইতো, জাভি, ইনিয়েস্তা, পুয়োল আর অঁরিদের মতো তারকাদের ভিড়ে তিনি তখন একজন উদীয়মান প্রতিভা মাত্র। কে জানত এই ফুটফুটে শিশুটি বড় হয়ে কী হবে, আর মেসি নিজেই বা কোন উচ্চতায় পৌঁছাবেন! নিয়তি আসলেই অনেক বড় ভূমিকা পালন করে।

বার্সেলোনা থেকে প্রায় ৪০ কিলোমিটার দূরের শহর মাতারো থেকে কোলের শিশুকে নিয়ে ক্যাম্প ন্যুতে এসেছিলেন ইয়ামালের মা। কষ্ট করে আসার জন্য প্রতিটি পরিবারকে ছবির একটি করে কপি উপহার দিতেন মনফোর্ট। সেই ছোট্ট ইয়ামালই ২০১৪ সালে মাত্র সাড়ে ৬ বছর বয়সে বার্সার লা মাসিয়া অ্যাকাডেমিতে যোগ দেন। এরপর ২০২৩ সালের এপ্রিলে মাত্র ১৫ বছর বয়সে লা লিগায় এবং ১৬ বছর বয়সে জাতীয় দলে অভিষেক ঘটে তার। ইউরো ২০২৪-এ স্পেনকে জেতানোর পর এখন তিনি চলতি বিশ্বকাপে স্পেনের সবচেয়ে বড় তারকা। ক্লাব ফুটবলেও তিনি এখন বার্সায় মেসির সেই আইকনিক ‘১০ নম্বর’ জার্সিটি পরেন।

জোয়ান মনফোর্টের ভাষায়, এটি আমার জীবনের সবচেয়ে বিখ্যাত ছবি। ইয়ামাল যেভাবে এগিয়ে যাচ্ছে, তাতে এই ছবির ঐতিহাসিক মূল্য আরও বাড়বে। এমন মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি করা লটারি জেতার মতোই বিরল সৌভাগ্য।

তিনি এর তুলনা করেন ১৯৮৬ সালের এপ্রিলের একটি ছবির সঙ্গে, যেখানে লা মাসিয়ার ১৫ বছর বয়সী বল বয় পেপ গুয়ার্দিওলা করতালির মাধ্যমে তৎকালীন কোচ টেরি ভেনাবলসের বিদায়কে সম্মান জানাচ্ছিলেন, যিনি পরে বার্সার সফল খেলোয়াড় ও কোচ হন।

আগামী রবিবার মধ্যরাতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হচ্ছে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। আর এই ম্যাচের মাধ্যমেই মাঠের লড়াইয়ে প্রথমবার একে অপরের মুখোমুখি হতে চলেছেন একসময়ের সেই ‘ধাই-মা’ মেসি এবং কোলের শিশু ইয়ামাল!

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের