মর্মান্তিক এক সড়ক দু্র্ঘটনায় মারা গেলেন বেসরকারি সংস্থার এক কর্মী ও লেডি বাইকার। গত ১৯ জুলাই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর থানার অন্তর্গত বালিহাটির কাছে মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। নিহতের নাম দেবাহূতি ব্যানার্জি। তিনি ঢাকুরিয়ার বাসিন্দা। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৪৪ বছর।
সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাইকার দেবাহূতি ছুটির দিন তার রাইডিং দলের সঙ্গে ঘুরে বেড়াতে পছন্দ করতেন। উড়িশ্যার চান্দিপুর সফর শেষ করে ফিরছিলেন। রাইডিং দলে তার দ্বাদশ শ্রেণি পড়ুয়া ছেলে অনিকেত ব্যানার্জিসহ মোট ৪০ সদস্য ছিলেন।
এর আগে গত ১৭ জুলাই যাদবপুর থেকে রওনা হয়েছিল রাইডার দলটি। সাপ্তাহিক ছুটি শেষে ফেরার সময় তারা ১৯ জুলাই বিকেলে খড়গপুর সীমানায় প্রবেশ করেন। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের দিকে বালিহাটির কাছে মহাসড়কে দেবাহূতির মোটরসাইকেলের চাকাটি একটি গভীর গর্তে পড়লে দুর্ঘটনাটি ঘটে।
পরিবারের সদস্যদের মতে, তার মোটরসাইকেলের গতিবেগ ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটারের মধ্যে ছিল। আর একটি রোড বাম্পার অতিক্রমের সময় চাকা গর্তে পড়ে যায়। ফলে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাড়ি থেকে ছিটকে যান এবং রাস্তার ধারে একটি কংক্রিটের স্তম্ভে সজোরে ধাক্কা খায়। আঘাতে তার ফুসফুস মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
এ সময় সামনের দিকে মোটরসাইকেল চালাতে থাকা ছেলে অনিকেত দুর্ঘটনার খবর পেয়ে থেমে যায়। তার মা দলের মাঝখানে একটি মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন। দুর্ঘটনার সময় তার মায়ের সঙ্গে থাকা সহ-বাইকার টুম্পা পালও ছিটকে পড়ে যায় এবং আহত হয়। পরে মেদিনীপুরের একটি নার্সিংহোমে চিকিৎসা প্রদান করা হয় তাকে।
এছাড়া সহ-বাইকাররা তাৎক্ষণিক দেবাহূতিকে কোতোয়ালি থানার অধীনস্থ কংসাবতী (কান্সাই) সেতুর নিকটস্থ একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যায়। কিন্তু তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যু হয় তার। পুলিশ মরদেহ মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে ২০ জুলাই রাতে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। রাতেই মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করে।
এদিকে নিহত দেবাহূতির পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কাজে গাফিলতির জন্য এই মৃত্যুর দায়ে কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে শিগগিরই এফআইআর দায়ের করতে পারেন তারা।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

