মেঘ আর বৃষ্টির জন্য পরিচিত দেশ ইংল্যান্ডে দেখা দিয়েছে মারাত্মক খরা। প্রবল তাপপ্রবাহ ও টানা বৃষ্টিহীনতায় শুকিয়ে যাচ্ছে নদীনালা, দেখা দিয়েছে তীব্র পানি সংকট। দেশটির প্রায় অর্ধেক অঞ্চলে তৈরি হয়েছে অত্যন্ত গুরুতর খরা পরিস্থিতি। আবহাওয়ার এই চরম রূপান্তরকে বিজ্ঞানীরা বলছেন, ‘ওয়েদার হুইপল্যাশ’—যার পেছনে রয়েছে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রত্যক্ষ প্রভাব। দক্ষিণ, মধ্য ও পূর্ব ইংল্যান্ডজুড়ে এই হঠাৎ খরা ছড়িয়ে পড়েছে বলে নিশ্চিত করেছে দেশটির পরিবেশ সংস্থা।
ইংল্যান্ডে বছরের এই সময়ে স্বাভাবিক যে বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, বর্তমানে তা কমে মাত্র ৭ শতাংশে নেমে এসেছে; দক্ষিণাঞ্চলের কিছু এলাকায় এটি নেমে এসেছে মাত্র ১ শতাংশে।
জুন মাসে ইংল্যান্ডে ৩৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা দেশটির ইতিহাসের উষ্ণতম জুন। পানির অভাবে নদীগুলোর পানির স্তর স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৮% নিচে নেমে গেছে।
বিজ্ঞানী ও কৃষি বিশেষজ্ঞদের মতে, এই খরার ফলে সবজি ও ফসল উৎপাদন ব্যাহত হয়ে বাজারে খাবারের দাম যেমন বাড়তে পারে, তেমনি শুষ্ক আবহাওয়ায় সাফোক উপকূলে পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের কাছের ঘটনার মতো দাবানলের ঝুঁকি বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে; উপরন্তু মে ও জুন মাসের প্রখর দাবদাহে তাপজনিত কারণে ইতিমধ্যে ২৮৭৭ জনের মৃত্যু হওয়ায় এই খরা দেশের অর্থনীতি, জনস্বাস্থ্য ও সার্বিক সুরক্ষার ওপর এক দীর্ঘস্থায়ী ও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণেই চরম আবহাওয়ার এই ঘনঘন পরিবর্তন ঘটছে।
দ্রুত দীর্ঘমেয়াদি পানি ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো সংস্কার না করলে পরিস্থিতি আরো ভয়াবহ হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। আবহাওয়া দপ্তরের মতে, আপাতত স্বস্তিদায়ক কোনো বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

