ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ‘নতুন ভূখণ্ড’ বলল ইরান

বৃহস্পতিবার,

২০ আগস্ট ২০২৬,

৫ ভাদ্র ১৪৩৩

বৃহস্পতিবার,

২০ আগস্ট ২০২৬,

৫ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ‘নতুন ভূখণ্ড’ বলল ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১০:২৪, ২০ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১০:২৯, ২০ আগস্ট ২০২৬

Google News
ক্যালিফোর্নিয়াকে নিজেদের ‘নতুন ভূখণ্ড’ বলল ইরান

বৈশ্বিক তেল বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দেখানো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একটি পোস্টের জবাবে ক্যালিফোর্নিয়াকে ইরানের ‘নতুন ভূখণ্ড’ হিসেবে দাবি করেছে দেশটির একটি সরকারি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম অ্যাকাউন্ট।

এর আগে, গত মঙ্গলবার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে হরমুজ প্রণালির একটি মানচিত্র প্রকাশ করেন ট্রাম্প। সেখানে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথটি নীল বৃত্ত দিয়ে চিহ্নিত করে তার নিচে লেখা হয়, ‘যুক্তরাষ্ট্রের নতুন এলাকা’। এর আগে যুদ্ধ শেষ হলে হরমুজ প্রণালিকে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পত্তিতে পরিণত করার কথা বলেছিলেন ট্রাম্প।

পরবর্তী সময়ে হোয়াইট হাউসের পক্ষ থেকেও ট্রাম্পের ওই পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে পুনঃপ্রকাশ করা হয়।

ট্রাম্পের ওই পোস্টের সমালোচনা করেন ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদিও। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের ‘ভ্রান্ত ধারণা’ শিগগিরই সংশোধন হবে, অথবা ইরানই তা সংশোধন করবে।

এদিকে, হরমুজ প্রণালি নিয়ে ট্রাম্পের ওই দাবির পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরানের সরকারি ‘ইরান ইন হায়দ্রাবাদ’ অ্যাকাউন্ট থেকে যুক্তরাষ্ট্রের একটি মানচিত্র প্রকাশ করা হয়। এতে ক্যালিফোর্নিয়াকে নীল রঙে চিহ্নিত করে লেখা হয়, ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরানের নতুন ভূখণ্ড।’

ইরানি বংশোদ্ভূত মার্কিন নাগরিকদের বড় একটি অংশের বসবাস ক্যালিফোর্নিয়ায়, বিশেষ করে লস অ্যাঞ্জেলেস এলাকায়। ইউসিএলএ’র সেন্টার ফর নিয়ার ইস্টার্ন স্টাডিজের ইরানিয়ান ডায়াসপোরা ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টিতে আনুমানিক ১ লাখ ৪১ হাজার ইরানি-আমেরিকান বসবাস করেন।

১৯৭৯ সালের ইরানি বিপ্লবের পর দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় ইরানি অভিবাসী সম্প্রদায়ের ব্যাপক বিস্তার ঘটে। লস অ্যাঞ্জেলেসের ওয়েস্টউড এলাকা ইরানি প্রবাসীদের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়। এলাকাটি অনানুষ্ঠানিকভাবে ‘তেহরাঞ্জেলেস’ নামেও পরিচিত।

হরমুজ প্রণালি নিয়ে এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ছে। কয়েক মাস ধরে চলা সংঘাতের পর যুদ্ধ অবসান ও বৃহত্তর একটি সমঝোতার পথ তৈরি করতে জুনে একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান। তবে এর বাস্তবায়ন এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল নিয়ে মতবিরোধের কারণে পরবর্তী আলোচনা থমকে যায়।

এদিকে, গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে নৌযান চলাচল নিয়ে ইরান ও ওমানের মধ্যে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সমাধানে পৌঁছাতে পারেনি কোনো পক্ষই। তথ্যসূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের