নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত–সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে আকস্মিক তুষারধস ও প্রবল বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫০ জনে। এতে ‘কল্পনার অতীত’ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানাচ্ছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো। বুধবারের এই তুষারধস ও বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে। খবর বিবিসি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আকস্মিক বন্যায় গ্রামগুলো ভেসে যাওয়ার পাশাপাশি অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় অন্তত ১৫০ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ৪শতাধিক পর্যটক।
বুধবার স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৮টার দিকে এই তুষারধস ও আকস্মিক বন্যার ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা আরো বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড সোশ্যাল মিডিয়া এক্সে শেয়ার করা একটি হালনাগাদ তথ্যে দাবি করেছে, তারা মোট ৩৮৪ জন পর্যটককে নিখোঁজ হিসেবে শনাক্ত করেছে। এদের মধ্যে ২৯১ জন বিদেশি নাগরিক এবং ৯৩ জন নেপালি নাগরিক। নিখোঁজদের মধ্যে যুক্তরাজ্যের ১২ জন নাগরিক রয়েছেন বলে জানান তারা।
এক বিবৃতিতে পর্যটন বোর্ড জানায়, সীমান্তের উভয় পাশেই জোরদার অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান শুরু করা হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে অবস্থানরত বা সেখান দিয়ে ভ্রমণরত পর্যটকদের নিরাপত্তা ও বর্তমান অবস্থান নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
নেপালের রাজধানী কাঠমাণ্ডুর উত্তরে অবস্থিত রসুয়া জেলায় এ বন্যা আঘাত হানে। নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল জানান, ভূমিকম্পের পর তুষারধস শুরু হয় এবং এর ফলে আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। তবে তথ্যগুলো এখনো যাচাই করে দেখা হচ্ছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
নেপালের পাশাপাশি চীনও ‘ব্যাপক ক্ষতির’ মুখে পড়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির।
একজন মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা ‘কল্পনার অতীত’। এটি ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর নেপালের সবচেয়ে ভয়াবহ বিপর্যয়। ওই ভূমিকম্পে প্রায় ৯ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছিল।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

