দীর্ঘদিন ধরে ইরান, গাজা, লেবাননসহ বিভিন্ন ফ্রন্টে বহুমুখী যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর সামরিক সরঞ্জাম ও জনবলে চাপ বেড়েছে।
ট্যাংকের ঘাটতি, সেনাদের ছুটি বাতিল এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে ১২টি অ্যাপাচে অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনা আটকে যাওয়াসহ বিভিন্ন খবর সাম্প্রতিক হিব্রু গণমাধ্যমে উঠে এসেছে। তবে প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট যতটা না বাস্তব, তার চেয়ে বেশি অস্ত্র সংগ্রহের একটি কৌশলগত চাল।
ইসরায়েলের চ্যানেল ১২ ও দৈনিক মারিভের প্রতিবেদনে বলা হয়, টানা যুদ্ধের কারণে তাদের বহু ট্যাংক ও সাঁজোয়া যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত যানগুলো মেরামতের পর্যাপ্ত বাজেট নেই। অন্যদিকে বাজেট ঘাটতির কারণে মার্কিন বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িংয়ের কাছ থেকে নতুন অ্যাপাচি হেলিকপ্টার কেনার পরিকল্পনা ভেস্তে গেছে।
এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোট্রিচ ও প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সামরিক বাজেট বাড়ানো নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ইয়ার লাপিদের সঙ্গে একমত্যে পৌঁছাতে পারেননি।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষক হামজে আত্তার সংবাদমাধ্যম আলজাজিরাকে জানান, ইসরায়েলি বাহিনীতে সত্যিই এমন কোনো সংকট তৈরি হওয়া অসম্ভব। এই ধরনের খবর গণমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়া মূলত ওয়াশিংটন ও ইউরোপ থেকে দ্রুত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম পাওয়ার একটি পুরনো কৌশল। অন্য দেশগুলো যে পরিমাণ অস্ত্রের মজুদকে যুদ্ধের জন্য পর্যাপ্ত মনে করে, ইসরায়েল সেটিকেই সংকটজনক হিসেবে দেখে। কারণ তারা একই সঙ্গে একাধিক ফ্রন্টে দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধ চালিয়ে যেতে চায়।
তিনি আরো জানান, যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন বা নীতিগত পরিবর্তনের আগেই চুক্তিগুলো দ্রুত নিশ্চিত করাই ইসরায়েলের মূল লক্ষ্য। এর অংশ হিসেবেই সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসন ইসরায়েলের কাছে ২ হাজার পাউন্ড ওজনের ৬০ হাজারটি দূরপাল্লার বোমা বিক্রির তোড়জোড় শুরু করেছে।
অন্যদিকে পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৩ সালে ইসরায়েলি বাহিনীতে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫০০ সক্রিয় সেনার পাশাপাশি ৪ লাখ ৬৫ হাজার রিজার্ভ সেনা ছিল। তবে টানা সংঘাতের কারণে সেনাসংখ্যা বাড়াতে তাগিদ দিচ্ছেন সেনাপ্রধান এজাল জামির। তিনি পুরুষদের জন্য বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ ৩৬ মাস করার আহ্বান জানিয়েছেন।
উগ্র অর্থোডক্স (হারেদি) তরুণদের সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিতে সুপ্রিম কোর্ট নির্দেশ দিলেও প্রায় ২৪ হাজার সমনের বিপরীতে মাত্র ১ হাজার ২০০ জন এতে সাড়া দিয়েছেন।
গাজা, লেবানন, ইরান, ফিলিস্তিনের অধিকৃত পশ্চিম তীর এবং সিরিয়ায় বর্তমান যুদ্ধগুলো চালিয়ে যাওয়ার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র ইসরায়েলের হাতে এখনো আছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে নতুন কোনো আঞ্চলিক শক্তির সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতের প্রস্তুতি নিতেই আগাম এসব সরঞ্জাম ও সেনার ঘাটতির কথা সামনে আনছে তেল আবিব।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

