রোববার,

১৪ জুলাই ২০২৪,

২৯ আষাঢ় ১৪৩১

রোববার,

১৪ জুলাই ২০২৪,

২৯ আষাঢ় ১৪৩১

Radio Today News

সাইবার নিরাপত্তা আইন হবে সাংবাদিক নির্যাতনের হাতিয়ার: সম্পাদক পরিষদ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ২২:০৭, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

আপডেট: ২২:১০, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৩

Google News
সাইবার নিরাপত্তা আইন হবে সাংবাদিক নির্যাতনের হাতিয়ার: সম্পাদক পরিষদ

সাইবার নিরাপত্তা আইন কার্যকর হলে তা আগের মতো সাংবাদিক নির্যাতন ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণের হাতিয়ারে পরিণত হবে। তাই সাইবার নিরাপত্তা আইনকে নিবর্তনমূলক আইন বলা ছাড়া নতুন কিছু হিসেবে বিবেচনা করা যাচ্ছে না। সাইবার নিরাপত্তা আইনে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের বেশির ভাগ ধারা সন্নিবেশিত থাকায় আইনটিকে বুধবার এক বিবৃতিতে সম্পাদক পরিষদ ‘নির্বতনমূলক’ বলে অভিহিত করেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ সেপ্টেম্বর জাতীয় সংসদে ‘সাইবার নিরাপত্তা বিল-২০২৩’ পাস হয়। এতে উদ্বেগ জানিয়ে সম্পাদক পরিষদের সভাপতি মাহ্‌ফুজ আনাম ও সাধারণ সম্পাদক দেওয়ান মোহাম্মদ হানিফ স্বাক্ষরিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই আইন সম্পর্কে সম্পাদক পরিষদসহ সংবাদমাধ্যমের অংশীজন এত দিন যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করে আসছিলেন, তা যথার্থ বলে প্রমাণিত হয়েছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন রহিত করে নতুন আইনে শাস্তি কিছুটা কমানো এবং কিছু ধারার সংস্কার করা হয়েছে। তাই শুধু খোলস পরিবর্তন ছাড়া সাইবার নিরাপত্তা আইনে গুণগত বা উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন নেই। বাক্‌স্বাধীনতা, মতপ্রকাশরে অধিকার, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা—এই বিষয়গুলো খর্ব করার মতো অনেক উপাদান এ আইনে রয়ে গেছে।

ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ৯টি ধারা (৮, ২১, ২৫, ২৮, ২৯, ৩১, ৩২, ৪৩ ও ৫৩) স্বাধীন সাংবাদিকতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে ভীষণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে উল্লেখ করে সেগুলো সংশোধনের দাবি জানিয়েছিল সম্পাদক পরিষদ। এখন সাইবার নিরাপত্তা আইনের সাতটি ধারায় সাজা ও জামিনের বিষয়ে সংশোধনী আনা হয়েছে। কিন্তু অপরাধের সংজ্ঞা স্পষ্ট করা হয়নি। বরং তা আগের মতোই রয়ে গেছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের ২১ ও ২৮ ধারা দুটি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার পরিপন্থী, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানির হাতিয়ার ও বিভ্রান্তিকর হিসেবে বিবেচিত হওয়ায় জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তর থেকে দুটি ধারা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছিল। সাইবার নিরাপত্তা আইনে শাস্তি কমিয়ে এই দুটি বিধান রেখে দেওয়ায় এর অপপ্রয়োগ ও খেয়ালখুশিমতো ব্যবহারের সুযোগ থেকেই যাবে।

সম্পাদক পরিষদের বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, সাইবার নিরাপত্তা আইন কার্যকর হলে এর ৪২ ধারা অনুযায়ী বিনা পরোয়ানায় সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে তল্লাশি, কম্পিউটার নেটওয়ার্ক সার্ভারসহ সবকিছু জব্দ ও গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পাবে পুলিশ। এর মাধ্যমে পুলিশকে কার্যত একধরনের ‘বিচারিক ক্ষমতা’ দেওয়া হয়েছে, যা কোনোভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।

এ ছাড়া আইনের চারটি ধারা জামিন অযোগ্য রাখা এবং সাইবার-সংক্রান্ত মামলার সর্বোচ্চ শাস্তি ১৪ বছরের কারাদণ্ড ও কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখার বিষয়েও উদ্বেগ জানিয়েছে সম্পাদক পরিষদ।

রেডিওটুডে নিউজ/মুনিয়া

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের