শনিবার,

৩০ আগস্ট ২০২৫,

১৫ ভাদ্র ১৪৩২

শনিবার,

৩০ আগস্ট ২০২৫,

১৫ ভাদ্র ১৪৩২

Radio Today News

মৃত্যুর আগে বিচার দেখে যেতে চাই: শহীদ আবু সাঈদের বাবা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৪:৩২, ২৮ আগস্ট ২০২৫

Google News
মৃত্যুর আগে বিচার দেখে যেতে চাই: শহীদ আবু সাঈদের বাবা

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) শিক্ষার্থী আবু সাইদ হত্যা মামলার প্রথম দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ চলছে। গুলি করে ছেলেকে হত্যার দায়ে ট্রাইব্যুনালে এসে আসামিদের কঠোর শাস্তির দাবি জানালেন শহীদ আবু সাঈদের বাবা মকবুল হোসেন। বললেন, মৃত্যুর আগে বিচার দেখে যেতে চাই।

বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) সকালে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ২ এ এই মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়। 

মকবুল হোসেন আদালতকে জানান, তার ছেলে সাঈদ মেধাবী ছিলেন। তিনি পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে বৃত্তি পান। আর এসএসসিতে পান গোল্ডেন এ প্লাস পেয়েছে। পরে ভর্তি হন রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) ইংরেজি বিভাগে। 

তিনি আরও জানান, ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই মাঠে থেকে কাজ করে বাড়ি এসেম জানতে পারেন ছেলে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। পরে শুনেন সাঈদ মারা গেছেন। 

ছেলের মৃত্যুর খবর এটা শুনে মাথায় তার আকাশ ভেঙে পড়ে বলেও জানান তিনি। 

এরপর হাসাপাতালে পাঠান দুই ছেলে ও দুই মেয়ের জামাইকে। প্রথমে তাদের পুলিশ সাঈদের লাশ দেখতে দেয় না। 

সাঈদের বাবা বলেন, রাত ৩টায় লাশ বাড়িতে আনি। প্রশাসন রাতেই দাফন করতে বলে। রাজি হইনি। পরদিন দুই জানাজা শেষে বাড়ির কবরস্থানে দাফন করি।

তিনি বলেন, ছেলের লাশটা একবার দেখি। মাথার পেছন দিয়ে রক্ত। পুরা বুকটা গুলিতে ঝাঁঝরা, রক্ত দিয়ে মাখা। শুনেছি আমির আলী ও সুজন গুলি করছে। কয়দিন আগে ছাত্রলীগ নেতা পোমেল বড়ুয়া গলা চেপে ধরে মেরেছে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা আজত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা আজ
ছেলে শহীদ হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এই হত্যার সঙ্গে জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই। ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ জড়িতদের কঠোর শাস্তি চাই।

সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কারের দাবিতে গেলো বছর আন্দোলন যখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছিলো, তখন ১৬ জুলাই দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে পার্ক মোড়ে গুলিবিদ্ধ হন আবু সাঈদ। 

২৫ বছর বয়সী আবু সাঈদ বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের কোটা সংস্কার আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়কও ছিলেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে নিরস্ত্র আবু সাঈদের পুলিশ কর্তৃক গুলিবিদ্ধ হওয়ার ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে, সারাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। এই হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদেই সোচ্চার হন বহু মানুষ, যাতে আরও গতিশীল হয় কোটা সংস্কার আন্দোলন। 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের