
চলতি বছরের জুনে ১২ দিনের সংঘাতে ইরানের প্রতিরোধমূলক পাল্টা হামলায় ইসরায়েলের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সংঘাত শেষ হলে প্রায় সাড়ে ৫৩ হাজারের বেশি ক্ষতির আবেদন দাখিল করা হয়েছিল ইসরায়েলিদের পক্ষ থেকে। শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে প্রেস টিভি।
ইসরায়েলি কর কর্তৃপক্ষের উদ্ধৃতি দিয়ে ইয়নেট দৈনিক জানায়, ইরানের হামলার ফলে সৃষ্ট ক্ষতি ‘রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে’। ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, মাত্র ১২ দিনের যুদ্ধে প্রত্যক্ষ ক্ষতির জন্য রেকর্ড ৫৩ হাজার ৫৯৯টি দাবি দাখিল করা হয়েছিল।
ইসরায়েলি গুপ্তচর সংস্থা মোসাদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কযুক্ত ওয়েইজম্যান ইনস্টিটিউট অব সায়েন্সের ব্যাপক ক্ষতি হওয়ায় এবং অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান দীর্ঘমেয়াদি বন্ধের কারণে ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে।
কর্মকর্তারা উদ্বেগ জানিয়ে আরও বলেন, ব্যবসায়িক ও বাণিজ্যিকের মতো পরোক্ষ ক্ষতিসহ মোট ক্ষতি অনেক বেশি হবে। এ বিষয়ে কর কর্তৃপক্ষের পরিচালক শে আহারোনোভিচ বলেছেন, ‘প্রত্যক্ষ ক্ষতি এখন ৪ বিলিয়ন শিলিং বা ১ দশমিক ১ বিলিয়ন ডলারের কম নয়, এবং পরোক্ষ ক্ষতি যা এখনও গণনা করা হয়নি, তার পরিমাণ আরও কয়েক বিলিয়ন হবে।’
এখন পর্যন্ত, সম্পত্তি কর ক্ষতিপূরণ তহবিল সরাসরি ক্ষতির জন্য ১ দশমিক ৬ বিলিয়ন শিলিং (৪৩০ মিলিয়ন ডলার) বিতরণ করেছে।
প্রসঙ্গত গত ১৩ জুন, ইরানের বিরুদ্ধে এক অপ্রীতিকর আগ্রাসন শুরু করে ইসরায়েল। এরপর তেহরান পাল্টা আক্রমণ শুরু করলে সংঘাত শুরু হয় দু’পক্ষের মধ্যে, যা ১২ দিন স্থায়ী ছিল। এতে ইরানের কমপক্ষে ১,০৬৪ জন নিহত হন, যার মধ্যে সামরিক কমান্ডার, পারমাণবিক বিজ্ঞানী এবং সাধারণ বেসামরিক নাগরিকও ছিলেন।
সংঘাতের শেষের দিকে আন্তর্জাতিক আইনের গুরুতর লঙ্ঘন করে তিনটি ইরানি পারমাণবিক স্থাপনায় বোমা হামলা চালিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয়। প্রতিক্রিয়ায়, ইরানি সশস্ত্র বাহিনী দখলকৃত অঞ্চলজুড়ে কৌশলগত স্থানগুলোর পাশাপাশি পশ্চিম এশিয়ার বৃহত্তম আমেরিকান সামরিক ঘাঁটি কাতারের আল-উদেইদ বিমান ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালায়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম