শুক্রবার,

২৯ আগস্ট ২০২৫,

১৪ ভাদ্র ১৪৩২

শুক্রবার,

২৯ আগস্ট ২০২৫,

১৪ ভাদ্র ১৪৩২

Radio Today News

যে কারণে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছে ইরান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৩৬, ২৮ আগস্ট ২০২৫

Google News
যে কারণে পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার ধ্বংসাবশেষ সরাচ্ছে ইরান

তেহরানের উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত একটি গোপন পারমাণবিক স্থাপনায় ইসরায়েলি হামলার পর সেখানে ধ্বংসাবশেষ দ্রুত সরিয়ে নিচ্ছে ইরান। এর ফলে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রমাণ মুছে ফেলার দাবি তোলা হচ্ছে। এমনটাই দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর সায়েন্স অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল সিকিউরিটি (ISIS)।

বুধবার (২৭ আগস্ট) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠানটি জানায়, উপগ্রহ চিত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে—তেহরানের মোজদেহ (অথবা লাভিসান–২) পারমাণবিক স্থাপনায় ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো দ্রুত ভেঙে ফেলা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এতে করে পারমাণবিক গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রমের সম্ভাব্য প্রমাণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির প্রধান ডেভিড অলব্রাইট একসময় জাতিসংঘের পারমাণবিক পরিদর্শক হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি বলেন, “ইরান যেনো পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক তদন্ত এড়াতে চাচ্ছে, এমন স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলছে।”

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গত ১৮ জুন মোজদেহ স্থাপনায় দুটি পৃথক ইসরায়েলি হামলা চালানো হয়। প্রথম দফায় সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত হয় একাধিক ভবন, যার মধ্যে একটি ‘ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড ফিজিকস’-এর সঙ্গে এবং অন্যটি যুক্ত ছিল শহিদ করিমি গ্রুপের সঙ্গে—যাদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইতোমধ্যে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে ক্ষেপণাস্ত্র ও বিস্ফোরক উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য।

দ্বিতীয় দফার হামলায় অ্যাপ্লাইড ফিজিকস ভবন সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়। পাশাপাশি একটি নিরাপত্তা ভবন এবং একটি ওয়ার্কশপও ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

২০ জুন ম্যাক্সার টেকনোলজিসের তোলা উপগ্রহ চিত্রে এসব ক্ষয়ক্ষতির প্রমাণ মিলেছে। এরপর ৩ জুলাইয়ের চিত্রে দেখা যায়, ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ শুরু হয়েছে। ১৯ আগস্টের চিত্রে ধরা পড়ে, ইনস্টিটিউট অব অ্যাপ্লাইড ফিজিকস এবং সংশ্লিষ্ট ওয়ার্কশপটি সম্পূর্ণ ভেঙে ফেলা হয়েছে। শহিদ করিমি গ্রুপের সংশ্লিষ্ট ভবনের ধ্বংসাবশেষও সরানো হয়েছে।

জাতিসংঘে ইরানের স্থায়ী মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তারা এখনো কোনো মন্তব্য করেনি। তবে ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ এবং বেসামরিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত।

এদিকে, আন্তর্জাতিক পারমাণবিক শক্তি সংস্থা (IAEA) তেহরানে পরিদর্শন কার্যক্রম আবার শুরু করতে চায়। সংস্থাটির মহাপরিচালক রাফায়েল গ্রোসি বলেন, “আইন অনুযায়ী ইরানকে পরিদর্শনের সুযোগ দিতে হবে এবং যত দ্রুত সম্ভব তা শুরু হওয়া উচিত।”

একইসঙ্গে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স ও জার্মানি—এই তিন ইউরোপীয় দেশ বৃহস্পতিবার থেকে জাতিসংঘে ইরানের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করতে পারে। তাদের অভিযোগ, ইরান ২০১৫ সালের পরমাণু চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইরান যদি সত্যিই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির প্রমাণ ধ্বংস করছে, তবে তা আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হতে পারে। এই ইস্যুতে জাতিসংঘসহ বিশ্ব পরাশক্তিগুলোর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের