
সম্প্রতি ভারত সফলভাবে অগ্নি-৫ নামের একটি মাঝারি-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালিয়েছে, যা ওডিশার বঙ্গোপসাগর উপকূলে একটি পরীক্ষামূলক কেন্দ্র থেকে নিক্ষেপ করা হয়।
সংস্কৃত ভাষায় অগ্নি শব্দের অর্থ হলো “আগুন”। অগ্নি-৫ ক্ষেপণাস্ত্রটির দৈর্ঘ্য ১৭.৫ মিটার, ওজন ৫০ হাজার কেজি এবং এটি এক হাজার কেজির বেশি পারমাণবিক বা প্রচলিত ওয়ারহেড বহন করতে সক্ষম। পাঁচ হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে প্রতি ঘণ্টায় প্রায় ৩০ হাজার কিলোমিটার বেগে গতি তুলতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র বিশ্বের দ্রুততম ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রগুলির মধ্যে অন্যতম।
এর এক সপ্তাহ আগে পাকিস্তান তাদের নতুন সেনা রকেট ফোর্স কমান্ড (এআরএফসি) গঠনের ঘোষণা দিয়েছিল। ইসলামাবাদ দাবি করেছে, এটি ভারতের সঙ্গে গত মে মাসে হওয়া চার দিনের সংঘর্ষে প্রতিপক্ষের প্রদর্শিত সামরিক দুর্বলতা মোকাবিলার কৌশল।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতের সাম্প্রতিক অগ্নি-৫ পরীক্ষা পাকিস্তানের জন্য ততটা বার্তা নয়, বরং প্রতিবেশী চীনের জন্যই বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
অগ্নি-৫ এর পাল্লায় পুরো এশিয়ার বড় অংশ, যার মধ্যে চীনের উত্তরাঞ্চলও রয়েছে, এমনকি ইউরোপের কিছু অঞ্চলও এসে যায়। ২০১২ সালের পর এটি ক্ষেপণাস্ত্রটির ১০ম পরীক্ষা এবং গত বছরের মার্চের পর প্রথম। বিশ্লেষকদের মতে, এর সময়টিও তাৎপর্যপূর্ণ।
পরীক্ষাটি ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাংহাই সহযোগিতা সংস্থা (এসসিও) সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফরের ঠিক আগেই অনুষ্ঠিত হয়েছে। চার বছর ধরে চলা সীমান্ত উত্তেজনার পর এই সফর দুই দেশের সম্পর্ক উন্নত করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যিক শুল্ক যুদ্ধও ভারত-চীন সম্পর্কের এই নরম ভাবকে ত্বরান্বিত করেছে। বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ভারতীয় পণ্যের ওপর শুল্ক দ্বিগুণ করে ৫০ শতাংশ করেছে, রাশিয়া থেকে তেল কেনা নিয়ে বিরোধের মধ্যেই।
তবুও, সম্পর্কের এই অস্থায়ী উন্নতির পরও ভারত এখনো চীনকেই তার প্রধান হুমকি মনে করে। বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের মাঝারি ও দীর্ঘ-পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি মূলত চীনকেই লক্ষ্য করে সাজানো।
পাকিস্তানের তুলনায় ভারতের ক্ষেপণাস্ত্র সুবিধা
যদিও মে মাসে পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘর্ষে ভারত অজ্ঞাত সংখ্যক যুদ্ধবিমান হারিয়েছে বলে স্বীকার করেছে, তবুও তারা পাকিস্তানের সামরিক ঘাঁটিগুলিতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করে, বিশেষত সুপারসনিক ব্রহ্মোস ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে।
ব্রহ্মোস ক্ষেপণাস্ত্রটি ৩০০ কেজি পর্যন্ত পারমাণবিক বা প্রচলিত ওয়ারহেড বহন করতে পারে এবং এর পাল্লা প্রায় ৫০০ কিলোমিটার। এটি নিচু উচ্চতায় উড়ে, ভূপ্রকৃতি আঁকড়ে গতি নেয় এবং অত্যন্ত দ্রুত হওয়ায় প্রতিরোধ করা প্রায় অসম্ভব। ফলে সহজেই পাকিস্তানি এলাকায় প্রবেশ করতে সক্ষম হয়।
এই প্রেক্ষাপটে অনেক বিশেষজ্ঞই বলছেন, অগ্নি-৫ এর সাম্প্রতিক পরীক্ষা পাকিস্তানের নতুন রকেট টিম ঘোষণার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। বরং এটি মূলত চীনকে বার্তা দেয়ার উদ্দেশ্যে।
২০২০ সালে সীমান্তে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর ভারত ও চীনের সেনারা চার বছর ধরে মুখোমুখি অবস্থায় ছিল। এরপর ২০২৪ সালের অক্টোবরে রাশিয়ায় মোদি ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠক করেন, যা সম্পর্ক উন্নয়নের প্রক্রিয়া শুরু করে। মোদির এবারের চীন সফর হবে ২০১৮ সালের পর প্রথম। তবে ইতিহাস বলছে, চীনের সঙ্গে ভারতের প্রতিটি উষ্ণ সম্পর্কের প্রচেষ্টা প্রায়শই সীমান্তে আগ্রাসনের মাধ্যমে ভেস্তে গেছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম