২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

সোমবার,

২৭ জুলাই ২০২৬,

১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

সোমবার,

২৭ জুলাই ২০২৬,

১২ শ্রাবণ ১৪৩৩

Radio Today News

যুবদলকর্মী হত্যা

২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:৫৫, ২৭ জুলাই ২০২৬

Google News
২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করেন সিএনজি হাফিজ: ডিবিপ্রধান

রাজধানীর কাফরুলে যুবদলকর্মী মো. ইউসুফকে গুলি করে হত্যায় জড়িত সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ। ডিবি বলছে, কাফরুল থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের পরিকল্পনায় এ ঘটনা ঘটে। কাফরুল থানা যুবদলের সদস্য সচিব হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তিনি ২৫ লাখার চুক্তিতে শুটার ভাড়া করে আনেন। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- নাহিদ হাসান, শাফিন আহমেদ, জিয়ারুল মোল্লা, আলী হোসেন, জিহাদ মোল্লা, মাসুম বিল্লাহ ও আবির হাওলাদার। 

এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে আজ সোমবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ডিবি প্রধান অতিরিক্ত কমিশনার শফিকুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার ময়লার টেন্ডার, ফুটপাত দখল ও আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধে বাবুকে হত্যার পরিকল্পনা করে হাফিজ। তবে ঘটনাচক্রে অস্ত্রধারীদের গুলিতে যুবদল কর্মী ইউসুফ নিহত হন এবং দুজন গুরুতর আহত হন। 

ডিবি প্রধান জানান, হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ৪ শুটারসহ ৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যার মিশনে ১১ জন অংশ নেয়। ঘটনার পর থেকে পলাতক রয়েছেন হাফিজুর। জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা জানান, সিএনজি হাফিজ যুবদল নেতা বাবুকে হত্যার জন্য তাদের ভাড়া করেন। ২৫ লাখ টাকার চুক্তিতে ৫০ হাজার টাকা অগ্রিম দেওয়া হয়। ঘটনার দিন চঞ্চল নামে এক শুটারকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়। 

ডিবি সূত্রে জানা যায়, ২৪ জুলাই রাত সোয়া ১১টার দিকে কাফরুলের ওপেক্স গার্মেন্টসের দক্ষিণ পাশে লিংক রোডের মাথায় কয়েকজন অস্ত্রধারীর ছোড়া গুলিতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ, সবজি বিক্রেতা নালাম সরদার ও মনির হোসেন গুলিবিদ্ধ হন। স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইউসুফকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত নালাম সরদার ও মনির হোসেন চিকিৎসাধীন।

এদিকে ঘটনার সময় পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টার সময় স্থানীয় জনতা অস্ত্রসহ এক সন্ত্রাসীকে আটক করে কাফরুল থানায় সোপর্দ করে। পরে পুলিশ তার দেহ তল্লাশি করে একটি বিদেশি পিস্তল ও চার রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। এ ঘটনায় নিহত ইউসুফের বড় ভাই বাদী হয়ে কাফরুল থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলার পরপরই ডিএমপির গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগ ও কাফরুল থানা পুলিশ তদন্ত শুরু করে। ২৫ জুলাই গোয়েন্দা পুলিশের মিরপুর বিভাগের একটি দল মিরপুর এলাকা থেকে নাহিদ হাসান ও শাফিন আহমেদকে গ্রেপ্তার করে। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মাগুরার শালিখা উপজেলার আড়পাড়া এলাকা থেকে জিয়ারুল এবং মিরপুর এলাকা থেকে আলী হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

অপরদিকে, কাফরুল থানা পুলিশ শরীয়তপুর থেকে জিহাদ মোল্লা এবং যশোরের বাগারপাড়া এলাকা থেকে মাসুম বিল্লাহকে গ্রেপ্তার করে। এছাড়া ঘটনার সঙ্গে জড়িত আবির হাওলাদারকে গণপিটুনির পর স্থানীয়রা কাফরুল থানায় সোপর্দ করেছিল।

ডিবি সূত্রে আরও জানা যায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা জানায় মূল পরিকল্পনাকারী হাফিজুর রহমান হাফিজ ওরফে সিএনজি হাফিজের প্রতিপক্ষ হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে পেশাদার খুনি ভাড়া করে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়।

গত ২৯ জুন পেশাদার খুনি হাসান, জিয়ারুল, চঞ্চল, জিহাদসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন ঢাকায় এসে সিএনজি হাফিজের সঙ্গে বৈঠক করে। তারা মিরপুর-১০ এলাকার বৈশাখী হোটেলের ৭১৪ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয় এবং পরে সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। এ সময় আবির হাওলাদারের কাছ থেকে হাফিজের ম্যানেজার নাহিদ দুটি পিস্তল গ্যারেজে নিয়ে আসে। হাফিজ অস্ত্রে গুলি ভরার সময় একটি পিস্তল থেকে আকস্মিকভাবে মিসফায়ার হলে ওই দিনের হত্যার পরিকল্পনা স্থগিত করা হয়। তবে অভিযুক্তরা হাফিজুল ইসলাম বাবুর অফিসের আশপাশে গিয়ে তাকে শনাক্ত করে এবং সিএনজি হাফিজের কাছ থেকে অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়ে নিজ নিজ এলাকায় ফিরে যায়।

পরবর্তীতে ২২ জুলাই হাফিজের নির্দেশে তারা পুনরায় ঢাকায় আসে এবং মিরপুর-২ এলাকার সোনালী হোটেলের ৬০৮ নম্বর কক্ষে অবস্থান নেয়। এরপর ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সবাই আবার সিএনজি হাফিজের গ্যারেজে একত্রিত হয়। সেখানে নাহিদের কাছ থেকে জিহাদ দুটি লোড করা পিস্তল নিয়ে একটি জিয়ারুল এবং অপরটি চঞ্চলের কাছে হস্তান্তর করে। পরে জিয়ারুল, চঞ্চল, হাসান, জিহাদ, মাসুম বিল্লাহসহ অজ্ঞাতনামা আরও ২/৩ জন হাফিজুল ইসলাম বাবুকে হত্যার উদ্দেশ্যে তার অফিসের সামনে অবস্থান নেয়। সিএনজি হাফিজের কর্মচারী শাফিন এবং জিয়ারুলের আত্মীয় আলী হোসেন ঘটনাস্থল রেকি, আসামিদের পালিয়ে যেতে সহায়তা এবং ঘটনার পর পুলিশের তৎপরতা ও এলাকার পরিস্থিতি সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য সরবরাহের দায়িত্ব পালন করে।

ডিবি আরও জানায়, ঘটনার দিন রাত আনুমানিক ১১টায় হাফিজুল ইসলাম বাবু তার কার্যালয়ের সামনে নেতাকর্মীদের সঙ্গে অবস্থানের সময় অপরিচিত কয়েকজন ব্যক্তিকে সন্দেহ হলে তাদের পরিচয় জানতে চান। একপর্যায়ে তাদের দেহ তল্লাশি করার চেষ্টা করলে অভিযুক্তদের একজন পিস্তল বের করে গুলি চালায়। এতে যুবদল কর্মী মো. ইউসুফ বুকে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের