বুধবার,

০৪ আগস্ট ২০২১,

১৯ শ্রাবণ ১৪২৮

পরীক্ষামূলক প্রকাশ

বুধবার,

০৪ আগস্ট ২০২১,

১৯ শ্রাবণ ১৪২৮

Radio Today News

যেভাবে সাধারণের মন ছুঁয়েছিলেন প্রিন্সেস ডায়না

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ১৮:৫০, ১৪ জুলাই ২০২১

আপডেট: ২৩:৩৬, ২৪ জুলাই ২০২১

যেভাবে সাধারণের মন ছুঁয়েছিলেন প্রিন্সেস ডায়না

মাইন পুতে রাখা ভূমিতে কি কোনো সাধারণ ব্যাক্তি স্বেচ্ছায় যেতে চাইবেন? কিন্তু প্রিন্সেস ডায়না এমন ভূমিতে দু’বার গিয়েছিলেন। সময়টা ১৯৭৭ সালের ১৫ জানুয়ারি। দি হ্যালো ট্রাস্ট নামের একটি গ্রুপের সাথে প্রতিরক্ষামূলক ভিসর এবং ফ্ল্যাক জ্যাকেট পরে সবেক এক যুদ্ধাঞ্চল থেকে মাইন উদ্ধারের অভিযানে যোগ দিয়েছিলেন ডায়না। যখন তিনি বুঝতে পারলেন তার সাথে থাকা ফটোগ্রাফারের দল তার ছবি ঠিকমত তুলতে পারেনি, তিনি সেখানে ফিরে গেলেন এবং আবারও তাদের ছবি তোলার সুযোগ করে দিলেন। 

সেসময় তিনি পূতে রাখা মাইনে ক্ষতিগ্রস্তদের সাথে স্বাক্ষাত করেন। তখন মাইন বিস্ফোরণে বাম পা হারানো এক কিশোরী প্রিন্সেসের কোলে হুমড়ি খেয়ে পড়ল।

সেদিনের সে ছবিগুলো বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন পত্রিকা ও টেলভিশনে প্রকাশিত হলে তা লুকানো ভূগর্ভস্থ মাইনের বিরুদ্ধে বিশ্বকে সোচ্চার হতে স্মরণ করিয়ে দেয়। যার ফলে ১৬৪টি রাষ্ট্র আজ পর্যন্ত এই ল্যান্ডমাইন নিষিদ্ধকরণের চুক্তিতে স্বাক্ষর করেছে।

হ্যালো ট্রাস্টের বর্তমান প্রধান নির্বাহী অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল জেমস কোয়ান বলেন, ডায়ানার আবেগময় বুদ্ধিমত্তা ছিল, যা তাকে সেই ব্যাপক পরিস্থিটি উপলব্ধি করতে সাহায্য করেছিল। এটি সাধারণ মানুষের কাছে তাকে এক স্বতন্ত্র পরিচিতি এনে দেয়। তিনি জানতেন, তিনি তার মাথা খাটিয়ে সুকৌশলে তাদের মনকে স্পর্শ করতে পারেন।

মৃত্যুর মাত্র সাত মাস আগে ডায়না সেই পুতে রাখা মাইনের ভূমির ওপর দিয়ে হেটেছিলেন। তিনি কিভাবে রাজপরিবারের নিয়ম পাল্টে রাজতন্ত্রকে সাধারণ মানুষের জন্য সুগম করে দিয়েছিলেন, এটি ছিল সেগুলোর একটি উদাহরণ মাত্র। মানুষের সাথে অন্তরঙ্গভাবে কথা বলা, হাটুগেড়ে বাচ্চাদের সাথে কথা বলা, হাসপাতালে গিয়ে রোগীর বিছানার পাশে বসা, তার ভক্তদের ব্যাক্তিগতভাবে চিঠি দেয়া—কী করেননি তিনি?

প্রিন্স ডায়নার এমন ব্যবহার তার ছেলে প্রিন্স উইলিয়াম ও হ্যারিসহ রাজপরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও অনুপ্রাণিত করেছিল, যা একবিংশ শতাব্দীতে এসে রাজতন্ত্রকে আরও বেশি মানবিক ও প্রাসঙ্গিক করে তুলে। 

ডায়না ব্রিটিশ রাজপরিবারে দরিদ্র, নিঃস্ব বা অসহায় মানুষের সাথে সাক্ষাতের রীতি তৈরি করেননি। রাণী দ্বিতীয় এলিজাবেথও ১৯৫৬ সালে নাইজেরিয়ান কুষ্ঠ কলোনীতে পরিদর্শনে গিয়েছিলেন। কিন্তু পার্থক্য একটাই, ডায়না তাদের ছুঁয়ে দেখেছিলেন, যা আর কেউ কখনও পারেনি।
 

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের