নিজের জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিন বিয়ের সব আনুষ্ঠানিকতা ছাপিয়ে নাগরিক দায়িত্বকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন নীলফামারীর সৈয়দপুরের মো. সামিউল ইসলাম (৩২)।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) বিয়ের সাজে বরের বেশে কনের বাড়িতে যাওয়ার কথা থাকলেও তিনি প্রথমে ছুটে আসেন ভোটকেন্দ্রে।
দুপুর ১২টায় সৈয়দপুর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে সশরীরে উপস্থিত হয়ে তিনি তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। বিয়ের বিশেষ পোশাকে সজ্জিত বরকে ভোটকেন্দ্রে দেখে সেখানে উপস্থিত অন্য ভোটার ও সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক কৌতুহল ও উদ্দীপনার সৃষ্টি হয়।
সৈয়দপুর উপজেলার নিয়ামতপুর সরকারপাড়া এলাকার মো. মনজুরুল ইসলামের ছেলে সামিউল ইসলাম মনে করেন, ব্যক্তিগত আনন্দের চেয়েও রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব পালন অনেক বেশি জরুরি। ভোট দেওয়ার পর তিনি গণমাধ্যমের সামনে তার অনুভূতি প্রকাশ করে বলেন, ‘ভোট শুধু আমাদের অধিকার নয়, এটি একটি বড় দায়িত্ব।
জীবনের যেকোনো ব্যস্ত সময়ে, এমনকি আজকের মতো ব্যক্তিগত উৎসবের দিনেও আমি দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে চেয়েছি। তাই আমার কাছে আগে ভোট, পরে বিয়ে।’ তার এই সাহসী ও দায়িত্বশীল সিদ্ধান্তকে স্থানীয় তরুণ সমাজ ও উপস্থিত ভোটাররা সাধুবাদ জানিয়েছেন।
কেন্দ্রে উপস্থিত সামিউলের প্রতিবেশী ও অন্যান্য ভোটাররা জানান যে, বিয়ের দিনেও ভোট দিতে আসার এই ঘটনাটি তাদের জন্য অত্যন্ত অনুপ্রেরণাদায়ক। সামিউল ইসলামের মতো একজন সচেতন যুবককে দেখে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভোট দেওয়ার উৎসাহ আরও বহুগুণ বেড়ে গেছে।
স্থানীয়রা মনে করছেন, সামিউল দায়িত্বশীল নাগরিকতার যে উদাহরণ তৈরি করেছেন, তা দেশের প্রতিটি সচেতন নাগরিকের জন্য একটি বড় বার্তা। সৈয়দপুরের এই ঘটনায় এটিই স্পষ্ট হয়েছে, দেশের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণের কোনো বিকল্প নেই।
উল্লেখ্য, সৈয়দপুরের নির্বাচনী পরিবেশ এবং বর্তমান প্রেক্ষাপটে সামিউল ইসলামের এই অবস্থানকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন সংশ্লিষ্ট সকলে। বিয়ের লগ্ন ঘনিয়ে এলেও তিনি সময় বের করে কেন্দ্রে এসে নিজের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়েছেন। বরের সাজে কেন্দ্রে প্রবেশ থেকে শুরু করে ভোট দিয়ে বেরিয়ে আসা পর্যন্ত পুরো সময়টি ছিল উৎসবমুখর। সামিউলের এই পদক্ষেপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও অনেকে তার প্রশংসা করছেন এবং তার নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

