ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দৃশ্যপটে এক অদ্ভুত চিত্র ফুটে উঠেছে। উপজেলার ৮০টি ভোটকেন্দ্রের প্রায় ৫৪৯টি বুথের মধ্যে ৪০০টিতেই নেই চার প্রার্থীর প্রার্থীর এজেন্ট।
তারা হলেন, জাতীয় পার্টির মো. শাহ আলম, ইনসানিয়াত বিপ্লবের মো. শরীফ মৃধা, ইসলামী আন্দোলনের হুসাইন আহমেদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান। নির্বাচন-পরবর্তী নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং আগে থেকেই পাওয়া নানা হুমকির কারণে এ প্রার্থীরা এজেন্ট নিয়োগে সাহস পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে, গোয়ালনগর উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রে জাল ভোটে প্ররোচনা দেওয়ার দায়ে একজনকে ১৫ দিনের এবং কেন্দ্রের কাছে স্লিপ বিতরণের দায়ে আরেকজনকে ১০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দণ্ডপ্রাপ্ত দুজনকে তাৎক্ষণিক সেনাবাহিনীর হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
সরেজমিনে গোকর্ণ, কুন্ডা, বুড়িশ্বর এবং নাসিরনগর সদরসহ বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিএনপির প্রার্থী এ এ হান্নান, জামায়াতে ইসলামীর আমিনুল ইসলাম এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুজ্জামান মামুন ও ইকবাল চৌধুরীর এজেন্টরা প্রতিটি বুথে সক্রিয় রয়েছেন।
তবে জাতীয় পার্টির মো. শাহ আলমসহ আরও তিন প্রার্থীর পক্ষে কোনো প্রতিনিধি পাওয়া যায়নি। জাতীয় পার্টির প্রার্থী শাহ আলমের দাবি, তাকে সশরীরে হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং এজেন্টদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে না পারায় তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এমনকি তাকে নিজের ভোটটি পর্যন্ত অন্য কেন্দ্রে গিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।
উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইউএনও শাহীনা নাসরিন জানান, প্রার্থীরা কেন এজেন্ট দেননি তা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়, তবে এতে ভোটগ্রহণে কোনো প্রভাব পড়বে না।
নাসিরনগর আসনে এবার মোট ভোটার সংখ্যা ২ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৯ জন। এই বিপুল সংখ্যক মানুষের ভাগ্য নির্ধারণে লড়াই করছেন আটজন প্রার্থী। ৪৭৩টি স্থায়ী ও ৭৬টি অস্থায়ী কক্ষে সকাল থেকেই ভোটগ্রহণ চলছে। প্রার্থীর এজেন্ট না থাকা এবং হুমকির অভিযোগের মাঝেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতায় এখন পর্যন্ত পরিস্থিতি স্থিতিশীল রয়েছে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

