শীতের সময়ে সবার বাড়িতে পিঠাপুলির আমেজ চলে। আর এই সময়ে শীতের পিঠার সঙ্গে জমে খেজুরের গুড়। কিন্তু এই সময়ে আরেকটি আতঙ্কের নাম নিপাহ ভাইরাস। খেজুরের রসের মাধ্যমে এই রোগ মানুষের দেহে প্রবেশ করে।
অনেকেই আশঙ্কা করছেন, গুড় থেকে আবার নিপাহ ভাইরাসে সংক্রমণ বাড়ে কি না।
তবে খেজুর রস থেকে যারা গুড় তৈরি করেন, আত্মবিশ্বাস নিয়ে তারা জানান, অনেকক্ষণ জ্বাল দিয়ে গুড় বানানো হয়। অত সময় ধরে রস ফুটলে ভাইরাস থাকতে পারে না। তবে কি আতঙ্কের কোনো কারণ নেই? কী বলছেন পুষ্টিবিদরা।
চলুন, জেনে নেওয়া যাক—
শীতের পিঠার অন্যতম প্রধান উপকরণ খেজুর রস থেকে তৈরি হয় নলেন গুড়, পাটালি গুড়। তবে নিপাহ ভাইরাসের আতঙ্কে অনেকেই গুড় কেনার আগে দশবার ভাবছেন। গুড় বিক্রেতারাও সংক্রমণের আশঙ্কার ভয়ে চিন্তিত।
গুড় থেকে আদৌ কি সংক্রমণের ঝুঁকি আছে?
নিপাহ ভাইরাস মূলত খাবারের মাধ্যমেই মানবশরীরে প্রবেশ করে।
এই ভাইরাসের মূল বাহক হলো বাদুড়। পুষ্টিবিদ অনন্যা ভৌমিক বলেন, নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত কোনো বাদুড় যদি গাছের কোনো ফলে কামড় বসায়, কিংবা বাদুরের লালারস ফলের ওপরে পড়ে, সেই ফল খেলে কিন্তু সংক্রমণ ঘটতে পারে।
খেজুর গাছে হাঁড়ি ঝুলিয়ে মূলত খেজুরের রস সংগ্রহ করা হয়। সেই হাঁড়ি খোলা রাখা হয় সারা রাত। সেই হাঁড়ির রসের ভেতর যদি নিপাহ ভাইরাসে আক্রান্ত বাদুড়ের লালারস, মল-মূত্র কোনোভাবে মিশে যায়, তাহলে সেই রস থেকে সংক্রমণ ছড়াতেই পারে।
শীতের সকালে অনেক জায়গাতেই রাস্তার ধারে ধারে খেজুরের রস বিক্রি হয়। সেই রস খেতেও নিষেধ করে এই পুষ্টিবিদ।
খেজুরের গুড় কি খাওয়া যাবে?
পুষ্টিবিদ বলেন, নিপাহ ভাইরাস অত্যধিক তাপে বাঁচতে পারে না। তাই সেই খেজুর রস দীর্ঘক্ষণ জ্বাল দিয়ে যখন গুড় তৈরি করা হয়, তখন সংক্রমণের ঝুঁকি একেবারেই থাকে না। তাই নলেন গুড় বা পাটালি গুড় নিশ্চিন্তে খাওয়া যেতে পারে। খেজুরের রস খাবেন না, তবে গুড় খেলে কোনো ক্ষতি নেই।
তিনি আরো বলেন, নিপাহ ভাইরাস কোভিডের থেকেও অনেক বেশি মারাত্মক। এই ভাইরাসে আক্রান্ত হলে মৃত্যুঝুঁকিও অনেক বেশি। খাওয়াদাওয়ার বিষয় একটু সচেতন থাকলেই এই সংক্রমণ ঠেকানো যায়।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

