মোবাইল, ট্যাব ও অন্যান্য স্ক্রিন এখন শিশুদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ। পড়াশোনা থেকে বিনোদন, অনেক কাজেই তারা স্ক্রিনের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে। তবে অতিরিক্ত স্ক্রিন ব্যবহারে শিশুদের ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করা, মনোযোগ দেওয়া এবং নিজের মতো করে সময় কাটানোর অভ্যাস কমে যেতে পারে। তাই ছোটবেলা থেকেই স্ক্রিন ব্যবহারে কিছু নিয়ম তৈরি করা জরুরি।
নির্দিষ্ট সময় ঠিক করুন
শিশুর হাতে সারাক্ষণ মোবাইল বা ট্যাব না দিয়ে স্ক্রিন ব্যবহারের জন্য নির্দিষ্ট সময় ঠিক করা যেতে পারে। খাওয়ার সময়, পড়াশোনার সময় কিংবা পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানোর সময় স্ক্রিন ব্যবহার না করার নিয়ম করা ভালো। ঘুমানোর আগেও শিশুকে মোবাইল থেকে দূরে রাখা উচিত। নিয়ম খুব বেশি কঠিন না করে সহজভাবে তৈরি করা ভালো। একই সঙ্গে পরিবারের বড়দেরও সেই নিয়ম মেনে চলতে হবে। কারণ শিশুরা বড়দের আচরণ দেখেই অনেক কিছু শেখে।
হঠাৎ মোবাইল কেড়ে নেবেন না
শিশুর কাছ থেকে হঠাৎ মোবাইল কেড়ে নিয়ে পুরোপুরি ব্যবহার বন্ধ করে দেওয়া সব সময় কার্যকর হয় না। এতে শিশু বিরক্ত বা অস্থির হয়ে উঠতে পারে। বরং ধীরে ধীরে স্ক্রিনের সময় কমানো এবং নির্দিষ্ট সময়ের অভ্যাস তৈরি করা বেশি কার্যকর। মোবাইল বন্ধ করার আগে শিশুকে জানিয়ে দেওয়া যেতে পারে, আর পাঁচ বা ১০ মিনিট পর স্ক্রিন বন্ধ করতে হবে। এতে হঠাৎ বাধা দেওয়ার মতো অনুভূতি তৈরি হয় না।
মোবাইলের বিকল্প তৈরি করুন
শুধু মোবাইল সরিয়ে রাখলেই হবে না, শিশুর সামনে আকর্ষণীয় বিকল্পও রাখতে হবে। বাইরে হাঁটতে যাওয়া, সাইকেল চালানো, বল খেলা, ছবি আঁকা, গল্পের বই পড়া কিংবা ঘরের ছোটখাটো কাজে শিশুকে যুক্ত করা যেতে পারে। বাড়ির গাছের পরিচর্যা, রান্নার সময় পাশে রাখা বা পরিবারের সঙ্গে গল্প করার মতো সাধারণ কাজও শিশুর সময় কাটানোর ভালো উপায় হতে পারে।
একঘেয়েমির সুযোগ দিন
শিশু একটু বিরক্ত হলেই তার হাতে মোবাইল তুলে দেওয়া সহজ। কিন্তু সব সময় তার একঘেয়েমি দূর করে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। কিছুটা অবসর শিশুকে নিজের মতো করে খেলতে, ভাবতে এবং নতুন কিছু তৈরি করতে শেখায়। একটি ভিডিও শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটি ভিডিও দেখার অভ্যাসের বদলে শিশুকে বই পড়া, খেলাধুলা কিংবা নিজের মতো করে কিছু করার সুযোগ দেওয়া যেতে পারে। এতে ধীরে ধীরে অপেক্ষা করার ক্ষমতা ও মনোযোগ বাড়তে পারে।
শিশুর স্ক্রিন ব্যবহার কমাতে শুধু শিশুকে নিয়মের মধ্যে রাখলে হবে না। অভিভাবকরা যদি সারাক্ষণ মোবাইলে ব্যস্ত থাকেন, তাহলে শিশুর কাছে সেটি স্বাভাবিক মনে হবে। পরিবারের নির্দিষ্ট সময়কে ‘স্ক্রিনমুক্ত সময়’ হিসেবে রাখা যেতে পারে। এ সময় সবাই মিলে গল্প করা, খেলা বা অন্য কোনো কাজে যুক্ত হলে শিশুর জন্যও স্ক্রিন থেকে দূরে থাকা সহজ হবে।
শিশুর স্ক্রিন ব্যবহার পুরোপুরি বন্ধ করার চেয়ে সেটি নিয়ন্ত্রণে রাখা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বয়স ও প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়ম তৈরি করে ধীরে ধীরে স্ক্রিনের বাইরে একটি স্বাভাবিক ও আনন্দদায়ক জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

