৪০ লাখ বছরে মানুষের মস্তিষ্কের ওজন বেড়েছে ৫ গুণ, কারণ জানাল বিজ্ঞানীরা

শুক্রবার,

২১ আগস্ট ২০২৬,

৬ ভাদ্র ১৪৩৩

শুক্রবার,

২১ আগস্ট ২০২৬,

৬ ভাদ্র ১৪৩৩

Radio Today News

৪০ লাখ বছরে মানুষের মস্তিষ্কের ওজন বেড়েছে ৫ গুণ, কারণ জানাল বিজ্ঞানীরা

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:১৭, ২১ আগস্ট ২০২৬

আপডেট: ১৫:১৮, ২১ আগস্ট ২০২৬

Google News
৪০ লাখ বছরে মানুষের মস্তিষ্কের ওজন বেড়েছে ৫ গুণ, কারণ জানাল বিজ্ঞানীরা

মানুষের মস্তিষ্ক কীভাবে এত বড় ও উন্নত হলো—এ প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে দীর্ঘদিন ধরেই গবেষণা করছেন বিজ্ঞানীরা। এবার সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় ও গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের একদল গবেষক বলছেন, মানুষের মস্তিষ্কের বিবর্তনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে মিষ্টি বা শর্করাজাতীয় খাবারের।

গবেষণাটি প্রকাশিত হয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক জার্নাল ‘সায়েন্স’-এ।

বিজ্ঞানীদের মতে, প্রায় ৪০ লাখ বছরের বিবর্তনে মানুষের মস্তিষ্কের আকার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। প্রাচীন প্রাক্‌মানবের মস্তিষ্কের ওজন যেখানে ছিল প্রায় ৩০০ গ্রাম, আধুনিক মানুষের ক্ষেত্রে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১,৫০০ গ্রামে।

মস্তিষ্ক যত বড় হয়েছে, তার শক্তির চাহিদাও তত বেড়েছে। আর এই শক্তির অন্যতম প্রধান উৎস হলো গ্লুকোজ। গবেষকদের ধারণা, রান্নার প্রচলন এবং দানাশস্য মানুষের নিয়মিত খাদ্যতালিকায় আসার অনেক আগে ফলমূল ও মধুর মতো প্রাকৃতিকভাবে মিষ্টি খাবার থেকেই মানুষ প্রয়োজনীয় শর্করা পেত।

সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের পুষ্টিবিদ জেনি ব্র্যান্ড-মিলার এই গবেষণায় নেতৃত্ব দিয়েছেন। তাঁর মতে, কাঁচা স্টার্চ থেকে শরীর সহজে গ্লুকোজ তৈরি করতে পারে না। ফলে মানুষের খাদ্যতালিকায় দানাশস্য ব্যাপকভাবে যুক্ত হওয়ার আগের সময়ে শক্তির জন্য ফল ও মধুর মতো শর্করাযুক্ত খাবার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকতে পারে।

গ্লাসগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক কারেন হার্ডি বলেন, মানুষের বিবর্তন নিয়ে এতদিনের গবেষণায় মাংস ও প্রাণীজ প্রোটিনের গুরুত্বের ওপর বেশি জোর দেওয়া হয়েছে। তবে মস্তিষ্কের মতো শক্তি-নির্ভর অঙ্গের বিকাশের জন্য পর্যাপ্ত শক্তিরও প্রয়োজন ছিল। উদ্ভিজ্জ উৎস থেকে পাওয়া গ্লুকোজ সেই শক্তির গুরুত্বপূর্ণ জোগান হতে পারে।

গবেষকদের তৈরি একটি মডেলের মাধ্যমে প্রায় ৪০ লাখ বছরের মানব বিবর্তনের ছয়টি পর্যায় বিশ্লেষণ করা হয়। তাঁরা দেখার চেষ্টা করেন, বিভিন্ন সময়ে মানুষের খাদ্যাভ্যাস কীভাবে শরীরের গ্লুকোজের চাহিদা পূরণ করেছে। মস্তিষ্কের পাশাপাশি লোহিত রক্তকণিকা, কিডনি, প্রজনন কোষ ও প্ল্যাসেন্টার মতো টিস্যুর গ্লুকোজের প্রয়োজনীয়তাও বিশ্লেষণ করা হয়।

গবেষণায় দেখা যায়, সময়ের সঙ্গে মানুষের খাদ্যাভ্যাসে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিবর্তনের প্রাথমিক পর্যায়ে ফলমূলের মতো শর্করাসমৃদ্ধ খাবার গুরুত্বপূর্ণ ছিল। পরে মানুষ আগুনের ব্যবহার শেখার পর রান্না করা খাবার খেতে শুরু করে। তখন ওল, কচু ও অন্যান্য কন্দজাতীয় খাবার থেকেও সহজে শক্তি পাওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

আরও পরে দানাশস্য, শাকসবজি ও অন্যান্য উদ্ভিজ্জ খাবার মানুষের খাদ্যতালিকায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ফলে খাদ্য থেকে শর্করা পাওয়ার ধরনও বদলে যায়।

জেনি ব্র্যান্ড-মিলারের মতে, কার্বোহাইড্রেট বললেই আমরা সাধারণত দানাশস্য বা পাউরুটির কথা ভাবি। কিন্তু মানব বিবর্তনের দীর্ঘ সময়জুড়ে শর্করার উৎস হিসেবে ফল ও মধুও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।

গবেষকদের মতে, এই অতিরিক্ত শক্তির জোগান মানুষের ক্রমবর্ধমান মস্তিষ্ককে সমর্থন করার ক্ষেত্রে ভূমিকা রেখে থাকতে পারে। মানুষের মস্তিষ্ক অন্যান্য অনেক প্রাণীর তুলনায় বড় হওয়ায় এর গ্লুকোজের চাহিদাও তুলনামূলকভাবে বেশি।

গবেষণায় আরও দেখা গেছে, গর্ভাবস্থায় নারীদের শরীরে গ্লুকোজের চাহিদা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যায়। ফলে মানব বিবর্তনে শুধু মস্তিষ্কের বিকাশ নয়, প্রজনন ও সন্তান ধারণের মতো প্রক্রিয়াতেও পর্যাপ্ত শক্তি ও গ্লুকোজের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল বলে গবেষকেরা মনে করছেন।

তবে গবেষণাটি এমন দাবি করছে না যে মিষ্টি খাবার একাই মানুষের মস্তিষ্ক বড় করেছে। বরং দীর্ঘ বিবর্তনপ্রক্রিয়ায় খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন, রান্নার আবিষ্কার, শর্করার সহজলভ্যতা, প্রাণীজ প্রোটিন এবং অন্যান্য পুষ্টি—সব মিলিয়েই মানুষের মস্তিষ্কের বিকাশ ঘটেছে বলে গবেষণাটি ইঙ্গিত করে।

অর্থাৎ, আজকের মিষ্টি খাবারের সঙ্গে মানবমস্তিষ্কের বিবর্তনের সরাসরি সম্পর্ক টানা ঠিক হবে না। বরং লাখ লাখ বছর আগে ফল, মধু ও অন্যান্য প্রাকৃতিক শর্করা কীভাবে মানুষের বাড়তে থাকা শক্তির চাহিদা পূরণ করেছিল—নতুন গবেষণার মূল আগ্রহ সেখানেই।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের