ঘর সাজাতে অনেকেই ফুল, শোপিস কিংবা বিভিন্ন ধরনের আসবাব ব্যবহার করেন। তবে ঘরের সৌন্দর্যে ভিন্ন মাত্রা যোগ করতে পারে কিছু সবুজ গাছও।
শুধু সাজসজ্জা নয়, ইনডোর প্লান্ট ঘরে সবুজের আবহ তৈরি করার পাশাপাশি পরিবেশকে আরো সতেজ ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। কম আলো বা সীমিত জায়গার ঘরের জন্যও রয়েছে বেশ কিছু সহজে পরিচর্যা করা গাছ।
তবে ঘরে কয়েকটি গাছ রাখলেই বাতাস পুরোপুরি দূষণমুক্ত হয়ে যাবে—এমন ধারণা ঠিক নয়। ইনডোর প্লান্ট নিয়ে আগ্রহের বড় একটি কারণ ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে নাসার একটি গবেষণা।
নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে ওই গবেষণায় কিছু গাছের ফরমালডিহাইড, বেঞ্জিন ও ট্রাইক্লোরোইথিলিনের মতো নির্দিষ্ট দূষক শোষণের সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। পরবর্তী গবেষণায় দেখা গেছে, সাধারণ ঘরের পরিবেশে কয়েকটি গাছ দিয়ে বায়ুর মানে বড় ধরনের পরিবর্তন আনা কঠিন। তবু ঘরের পরিবেশে সবুজের উপস্থিতি মানসিক স্বস্তি ও সৌন্দর্য বাড়াতে পারে।
পিস লিলি ঘর সাজানোর জন্য বেশ জনপ্রিয় একটি ইনডোর গাছ।
এর বড় সবুজ পাতা ও সাদা ফুল ঘরের সাজে আলাদা সৌন্দর্য যোগ করে। বেশি রোদ না পাওয়া জায়গাতেও এটি মানিয়ে নিতে পারে। তাই বসার ঘর, শোবার ঘর কিংবা কাজের জায়গার এমন কোনো কোণে রাখা যায় যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো কম পড়ে।
তবে একেবারে অন্ধকার জায়গায় না রেখে পরোক্ষ আলো পাওয়া যায় এমন স্থানে রাখা ভালো। মাটিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা থাকলেও অতিরিক্ত পানি জমতে দেওয়া উচিত নয়।
স্নেক প্লান্ট
গাছের যত্ন নেওয়ার জন্য বেশি সময় দিতে না পারলে স্নেক প্লান্ট হতে পারে ভালো পছন্দ। লম্বা ও খাড়া পাতার এই গাছ খুব বেশি জায়গা নেয় না। ফলে ছোট ফ্ল্যাট, অফিসের ডেস্কের পাশ কিংবা ঘরের কোনায় সহজেই রাখা যায়।
স্নেক প্লান্টের অন্যতম সুবিধা হলো এটি ঘন ঘন পানি দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। মাটি শুকিয়ে গেলে পানি দেওয়া যায়। অতিরিক্ত পানি দিলে শিকড় নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে। কম আলোতেও টিকে থাকতে পারে, যদিও পরোক্ষ আলো পেলে সাধারণত ভালোভাবে বেড়ে ওঠে।
স্পাইডার প্লান্ট
ঘরের তাক কিংবা ঝুলন্ত টবে সবুজের ছোঁয়া আনতে স্পাইডার প্লান্ট বেশ মানানসই। এর সরু পাতা নিচের দিকে ছড়িয়ে পড়ে এবং ছোট ছোট নতুন গাছ তৈরি হয়। ফলে সময়ের সঙ্গে এটি আরো ঘন ও আকর্ষণীয় দেখায়।
এই গাছ তুলনামূলকভাবে শক্ত এবং অল্প যত্নেও বেড়ে উঠতে পারে। খুব বেশি সরাসরি রোদ না দিয়ে উজ্জ্বল কিন্তু পরোক্ষ আলো পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখলে ভালো হয়। মাটির ওপরের অংশ শুকিয়ে গেলে পানি দেওয়া যেতে পারে।
বোস্টন ফার্ন
ঘরে একটু ঘন সবুজের আবহ তৈরি করতে চাইলে বোস্টন ফার্ন রাখতে পারেন। এর নরম ও ঘন পাতা টব কিংবা ঝুলন্ত বাস্কেটে বেশ সুন্দর দেখায়। বসার ঘর বা বারান্দার এমন জায়গায় এটি রাখা যায়, যেখানে পর্যাপ্ত আলো রয়েছে কিন্তু সরাসরি তীব্র রোদ পড়ে না।
তবে অন্য কয়েকটি ইনডোর গাছের তুলনায় বোস্টন ফার্নের যত্ন কিছুটা বেশি। এটি আর্দ্র পরিবেশ পছন্দ করে। তাই মাটি একেবারে শুকিয়ে যেতে না দেওয়াই ভালো। ঘরে বাতাস খুব শুষ্ক হলে নিয়মিত আর্দ্রতার দিকেও নজর দিতে হবে।
ঘরের খালি দেয়াল বা উঁচু তাককে সবুজ করে তুলতে ইংলিশ আইভি ব্যবহার করা যায়। এর লতানো পাতা টব থেকে নিচের দিকে ঝুলে পড়ে, ফলে ঘরের সাজে সুন্দর একটি প্রাকৃতিক আবহ তৈরি হয়।
ইংলিশ আইভি মাঝারি থেকে উজ্জ্বল আলো পছন্দ করে। মাটি সামান্য আর্দ্র রাখা প্রয়োজন হলেও অতিরিক্ত পানি দেওয়া ঠিক নয়। ঝুলন্ত টব বা উঁচু তাকের পাশাপাশি জানালার পাশে রাখা যেতে পারে।
ঘরে গাছ রাখলে কি বাতাস পরিষ্কার হয়?
ইনডোর প্লান্ট ঘরের পরিবেশকে আরো সুন্দর ও স্বস্তিদায়ক করে তুলতে পারে। কিছু গবেষণায় নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে গাছের নির্দিষ্ট দূষক শোষণের ক্ষমতার কথা উঠে এসেছে। তবে বাস্তব ঘরে কয়েকটি গাছ রাখলেই বায়ুদূষণের মাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে—এমন প্রমাণ যথেষ্ট নয়।
তাই ঘরের বাতাস ভালো রাখতে শুধু গাছের ওপর নির্ভর না করে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী বায়ু পরিশোধনের ব্যবস্থা করা জরুরি। আর ঘরকে একটু বেশি প্রাণবন্ত ও সবুজ করে তুলতে বেছে নিতে পারেন নিজের জায়গা, আলো ও যত্নের সক্ষমতার সঙ্গে মানানসই ইনডোর গাছ।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

