বাজার পরিস্থিতি সন্তোষজনক রয়েছে এবং খুব শিগগিরই বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। আজ (সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে মোহাম্মদপুর টাউন হল কাঁচাবাজারে আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা জানান বাণিজ্যমন্ত্রী।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, ‘আমরা বাজার তদারকি করতে এসেছি। বাজারে যে মূল্যে পণ্য বিক্রি হওয়ার কথা সেটা হচ্ছে কিনা তা আমরা দেখতে এসেছি।’
তিনি বলেন, ‘বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ আছে। খুব শিগগিরই বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। কিছু মানুষ রোজার মাসের সুযোগ নেওয়ার চেষ্টা করছে। যারা মূল্য বৃদ্ধির কারসাজিতে জড়িত থাকবে তাদের বিরুদ্ধে আইন নিজের গতিতে চলবে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাজার পুরোপুরি স্বাভাবিক ও ক্রেতাদের জন্য স্বস্তিদায়ক করতে নানা পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তবে সেগুলো বাস্তবায়ন করতে কিছুটা সময় লাগবে।’
এই কাজে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের সার্বিক সহযোগিতা চান। বলেন, ‘সবাই সহযোগিতা করলে জনগণকে স্বস্তি দিতে পারবো।’
পরিদর্শনকালে মন্ত্রী বিভিন্ন দোকান ঘুরে দেখেন এবং হাতে-কলমে পণ্যের দর যাচাই করেন। পুরো ঢাকা শহরে একযোগে তদারকি করা প্রশাসনিকভাবে চ্যালেঞ্জিং উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঢাকার মতো বড় শহরের প্রতিটি বাজারে একসঙ্গে সরকারি টিম পাঠানো বাস্তবিকভাবে সম্ভব নয়। তবে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ১০টি টিম নিয়মিত কাজ করছে। ব্যবসায়ীদের মনে এই সচেতনতা তৈরি করাই আমাদের লক্ষ্য যে, তারা সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে আছেন।’
বাজার গুটিকয়েক সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি হয়ে আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, ‘বাজার যেন গুটিকয়েক ব্যক্তির হাতে জিম্মি না থাকে সে বিষয়ে সরকারের তীক্ষ্ণ নজর রয়েছে এবং খুব শিগগিরই বাজার ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।’
রমজান মাসকে ঘিরে ব্যবসায়ীদের ইবাদত ও নৈতিকতার কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে মন্ত্রী এক বিশেষ অনুরোধ জানান।
তিনি বলেন, ‘রমজান মাস সামনে রেখে দয়া করে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত দাম নেবেন না। আমি নিজেও ইবাদত করি, আপনারাও এই পবিত্র সময়ে মানুষের কষ্ট বাড়াবেন না।’
তিনি ব্যবসায়ীদের অতি মুনাফার লোভ ত্যাগ করে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান।
মন্ত্রী বলেন, ‘বাজারে পণ্যের পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকা সত্ত্বেও রমজানের আগে যে পণ্য ৪০ থেকে ৫০ টাকা ছিল, তা হুট করে ১২০ টাকায় উঠে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এটা কারোরই ভালো লাগার কথা নয়। বাজার যাতে নির্দিষ্ট মানুষের হাতে না যায় সে ব্যাপারে আমরা সজাগ আছি। কার্যকর পদক্ষেপ নিয়ে গুণগত পরিবর্তন আনতে কিছুটা সময় লাগবে,আশাকরি জনগণ সে সময়টা আমাদের দিবে।’
তিনি বলেন, ‘বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মী হিসেবে আমাদের কাজ হচ্ছে আমদানি পণ্যের বাজারটাকে স্থিতিশীল রাখা। যে পণ্যগুলো এনে আমরা মার্কেট সাপোর্ট করি, ব্যালেন্স করি টিসিবির মাধ্যমে সেটা যথেষ্ট স্থিতিশীল আছে বরং কোনো কোনো পণ্যের মূল্য গত বছর থেকে ১৫ থেকে ২০ টাকা কম আছে। এটা আমার মুখের কথা নয়, পরিসংখ্যানই সেটা বলছে।’
সম্প্রতি জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের ঢাকা জেলা কার্যালয়ের প্রধান আব্দুল জব্বার মণ্ডলের ওপর ব্যবসায়ী ও তাদের কর্মকর্তাদের ওপর ব্যবসায়ীর চড়াও হওয়া এবং হুমকির বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, এই ঘটনায় ইতোমধ্যে মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং আইন তার নিজস্ব গতিতে চলছে।
বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম, বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান, জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ফারুক আহমেদ এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আইআইটি শিবির বিচিত্র বড়ুয়া এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
পরে বাণিজ্যমন্ত্রী দেশের বৃহৎ পাইকারি কাঁচাবাজার কারওয়ান বাজারে পরিদর্শনর যান। সেখানে ক্রেতা বিক্রেতাদের কাছে বাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

