সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার বিজিবি-বিএসএফের

শুক্রবার,

১২ জুন ২০২৬,

২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

শুক্রবার,

১২ জুন ২০২৬,

২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

Radio Today News

সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার বিজিবি-বিএসএফের

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৯:১৪, ১২ জুন ২০২৬

Google News
সীমান্তে শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার বিজিবি-বিএসএফের

সীমান্তে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা বজায় রাখতে পারস্পরিক সহযোগিতা আরো জোরদারে সম্মত হয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স (বিএসএফ)। দিল্লিতে বাংলাদেশ ও ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর মধ্যে ৫৭তম মহাপরিচালক (ডিজি) পর্যায়ের সীমান্ত সম্মেলনে এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই দেশ।

গত ৮ থেকে ১১ জুন বিএসএফ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলন শেষে যৌথ প্রেস বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়েছে।

আজ শুক্রবার যৌথ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বৈঠকে বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী এবং ভারতীয় প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্সের (বিএসএফ) মহাপরিচালক প্রবীণ কুমার।

দুই সীমান্তরক্ষী বাহিনীর দীর্ঘস্থায়ী সহযোগিতা ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন ঘটিয়ে সম্মেলনটি সৌহার্দ্যপূর্ণ, ইতিবাচক ও ভবিষ্যতমুখী পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়।

বিএসএফ ও বিজিবির মধ্যকার সর্বোচ্চ পর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থার অংশ হিসেবে এ সম্মেলন বিদ্যমান সীমান্ত পরিস্থিতি পর্যালোচনা এবং সীমান্ত নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত পারস্পরিক উদ্বেগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হয়।

আলোচনায় মাদক, অস্ত্র, জাল মুদ্রা, সোনা ও অন্যান্য নিষিদ্ধ পণ্যের চোরাচালানসহ আন্তঃসীমান্ত অপরাধ এবং অবৈধ সীমান্ত অতিক্রম ও মানবপাচার প্রতিরোধের কার্যকর উপায় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

এ ছাড়া সীমান্ত এলাকায় প্রাণহানি, অবৈধ, অনিচ্ছাকৃত বা জোরপূর্বক সীমান্ত অতিক্রম, সীমান্ত অবকাঠামো নির্মাণ, সমন্বিত সীমান্ত ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, আস্থা-নির্মাণমূলক পদক্ষেপ এবং সীমান্তজুড়ে উদ্ভূত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তা নিয়েও আলোচনা করা হয়।

উভয় পক্ষ বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

তারা সমন্বিত টহল আরো জোরদার করা, সতর্কতা বৃদ্ধি, তাৎক্ষণিক তথ্য আদান-প্রদান উন্নত করা এবং আন্তঃসীমান্ত অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে যৌথ প্রচেষ্টা আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে।

আন্তর্জাতিক সীমান্ত-সংক্রান্ত আইন ও বিধি সম্পর্কে সীমান্তবাসীকে সচেতন করা এবং সীমান্ত এলাকায় অবৈধ কার্যকলাপ প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়।

উভয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী আন্তঃসীমান্ত অপরাধ, বিদ্রোহী কার্যকলাপ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে শূন্য সহনশীলতার নীতি অনুসরণের যৌথ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।

পক্ষদ্বয় সম্মেলনের ফলাফলে সন্তোষ প্রকাশ করে নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ সীমান্ত নিশ্চিত করতে সহযোগিতা, পারস্পরিক আস্থা এবং পেশাগত সম্পৃক্ততা আরো জোরদারের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছে।

১১ জুন যৌথ আলোচনাপত্রে স্বাক্ষরের মাধ্যমে সম্মেলনটি ইতিবাচক পরিবেশে সমাপ্ত হয়। উভয় প্রতিনিধিদল আশা প্রকাশ করে, গৃহীত সিদ্ধান্ত ও সমঝোতাগুলো দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরো বাড়াবে এবং কার্যকর সীমান্ত ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

পরবর্তী মহাপরিচালক পর্যায়ের সম্মেলন ২০২৬ সালের নভেম্বরে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে ঢাকায় অনুষ্ঠিত হওয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের