বুধবার,

৩০ নভেম্বর ২০২২,

১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

বুধবার,

৩০ নভেম্বর ২০২২,

১৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৯

Radio Today News

খালেদা ছিল পুতুল, ক্ষমতা ছিল মাফিয়া সর্দার তারেক রহমানের হাতে: জয়

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১১:২৯, ৪ অক্টোবর ২০২২

খালেদা ছিল পুতুল, ক্ষমতা ছিল মাফিয়া সর্দার তারেক রহমানের হাতে: জয়

বিএনপির শাসনামলে খালেদা জিয়া ‘পুতুল’ ছিলেন, সর্বক্ষমতা তারেক রহমানের হাতে ছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছেলে ও তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়। সোমবার (৩ অক্টোবর) নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে দেয়া এক বিশ্লেষণধর্মী পোস্টে এ মন্তব্য করেন তিনি। 
 
‘কেমন ছিল বিএনপি-জামায়াতের ক্ষমতায় আসার পর প্রথম ১০০ দিন’ শীর্ষক পোস্টে জয় লিখেন, খালেদা জিয়ার ডাক নাম ছিল পুতুল। আক্ষরিক অর্থেই তাকে ‘পুতুল’ বানিয়ে রেখেছিল তারেক এবং তার গ্যাং। তবে খালেদা জিয়া ‘পুতুল’ অবস্থাতে থাকলেও তার সায় ছিল পুত্রের যাবতীয় অপকর্মে। বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত খালেদা জিয়া পুত্রদের সকল অপকর্মের অন্যতম দোসর। শুধু সরকার পরিচালনার ক্ষেত্রে তিনি গদিতে বসতেন, সই করার এখতিয়ারটুকু ছিল তার। বাদ বাকি ক্ষমতা ছিল মাফিয়া সর্দার তারেক রহমানের হাতে।

হাওয়া ভবনের বিষয়ে জয় লিখেন, 'আমরা আর মামুরা'- এই নীতি নিয়ে ক্ষমতায় আরোহণের প্রথম দিন থেকেই চলতে শুরু করে হাওয়া ভবন সাম্রাজ্য আর লুটপাটতন্ত্রের মাফয়া রাজ। তারেক রহমান পরিচালিত হাওয়া ভবনের মাফিয়া সাম্রাজ্যের যাবতীয় কর্মকাণ্ড ছিল ওপেন সিক্রেট। তাদের সাহস এতটাই বেড়েছিল যে, তারা নিশ্চিত ছিল, কেউ তাদের কেশাগ্রও স্পর্শ করতে পারবে না। বিরোধীদল এসব নিয়ে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পরবর্তীতে প্রহিতিংসার শিকার হয়েছিল। গ্রেনেড ছুড়ে তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা চালায় এই মাফিয়া সর্দাররা।

ক্ষমতা গ্রহণের প্রথম দিন থেকেই রাষ্ট্রের সর্বক্ষেত্রে দলীয়করণ ও আত্মীয়করণের এক নজিরবিহীন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকার। খালেদা জিয়া ছিলেন নামে মাত্র প্রধানমন্ত্রী, নেপথ্যে থেকে দেশ চালাতেন 'ক্রাউন প্রিন্স' তারেক রহমান। মন্ত্রী-এমপি না হয়েও তিনিই ছিলেন সর্বেসর্বা। দ্বিতীয় পুত্র আরাফাতও দখল করলেন ক্রিকেট বোর্ড। প্রধানমন্ত্রীর বড় বোন 'চকলেট আপা' মন্ত্রীসভার সদস্য। ভাই সাঈদ এস্কান্দারও এমপি হলেন, তার দাপটে কাঁপত বাংলাদেশ বিমানসহ বিভিন্ন খাত। সোনালী ব্যাংকের ১২ কোটি টাকার সুদও মওকুফ করে নিয়েছিলেন এস্কান্দার। খালেদা জিয়ার ভাগ্নে শাহরিন ইসলাম তুহিন এমপি পদে পরাজিত হলেও জায়গা হয় হাওয়া ভবনে। তদবিরের একটা টেবিল ছিল তারও দখলে। খালেদা জিয়ার আত্মীয়দের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে লুটপাটে শামিল ছিলেন বিএনপির অন্যান্য নেতৃবৃন্দও।

বিএনপি সরকারের চরম ব্যর্থতা জনগণকে হতাশ করেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তিনি লিখেন, আসলে জনগণ নিরূপায় হয়ে ক্ষমতায় এসেই বিএনপি-জামায়াত সরকার ১০০ দিনের একটি কর্মসূচির ঘোষণা দেয়। গালভরা কথা মনে হলেও দেশবাসী উপায় না দেখে আশায় বুক বেঁধেছিল— এই বুঝি খুন, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ, সংখ্যালঘু নিপীড়নসহ সব কিছু বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু না, কিছুই ঘটেনি। জনতাকে দেওয়া সেই ১০০ দিনের প্রতিশ্রুতির বেলুন ফুটো হয়ে গেছে। অর্থনীতি, আইন-শৃঙ্খলা, রাজনীতি, প্রশাসনসহ সর্বক্ষেত্রেই সরকারের চরম ব্যর্থতা মানুষকে আশাহত করেছে। দেশ নিয়ে উচ্চাশা করতেন যারা, সেই বুদ্ধিজীবীদের মুখে কুলুপ ঠুসে দেওয়া হলো। কেউ প্রতিবাদ করলে তার নাম অন্তর্ভুক্ত করা হচ্ছিল কালো তালিকায়।

জয় উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে ২০০১-২০০৬ সাল বিভীষিকাময় পরিস্থিতির কারণে চিহ্নিত হয়ে থাকবে সবসময়। একটি দেশকে ক্ষমতাসীন দল চাইলে কতটা নারকীয় পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারে, তার নিদর্শন বিএনপি-জামায়াতের এই শাসনামল। সেসময়কার পরিণত মানসিকতার মানুষ যারা বেঁচে আছেন, সেই শাসনামলের কথা মনে পড়লে আজও  তারা শিউরে ওঠেন। ধীরে-সুস্থে নয়, ক্ষমতায় বসার আগে থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছিল পিশাচদের জান্তব উল্লাস। বিএনপি-জামায়াতকে যারা ভোট দেবে না, তাদের পরিণতি কত কঠিন হতে পারে, তার দৃষ্টান্ত শুরু হয়ে গিয়েছিল মাসখানেক আগে থেকেই। আওয়ামী লীগ এবং সংখ্যালঘু নিধনযজ্ঞ শুরু হয় নির্বাচনের আগে থেকেই। নির্বাচনের দিন দুপুরের পরপরই দেশের ওপর যেন নরক ভেঙে পড়ে। শুরু হয় চারদিকে খুন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগ, লুটপাটসহ ভয়াবহ সহিংসতা। দেশের মানুষ ৭১ ও ৭৫-এর পর এমন চরম আতঙ্কজনক পরিস্থিতি চাক্ষুস করেনি। সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তৎকালীন সরকার প্রতিশ্রুতি দেয় ১০০ দিনেই দেশকে সুপথে পরিচালিত করবে বলে। কিন্তু সবই ছিল বাগাড়ম্বর।

এমনকি বিএনপি-জামায়াত জোটের অনেক সিনিয়র নেতাও সরকারের কর্মকাণ্ড নিয়ে হতাশা ব্যক্ত করেন। এখানে একটি সুনির্দিষ্ট ঘটনা উল্লেখ করা যায়। সংবাদ পাঠক সংসদ নামক একটি অনেক পুরনো সংগঠন কর্তৃক আয়োজিত এক আলোচনা সভায় আমন্ত্রিত জোট সরকারের নেতৃবৃন্দ দেশজুড়ে মানুষের মাঝের হতাশা এবং সরকারের ব্যর্থতার কথা মেনে নিতে বাধ্য হয়েছেন। না হয়ে উপায় ছিল না। সেসময় বিএনপি নেতা ও তৎকালীন পরিবেশ মন্ত্রী শাহজাহান সিরাজ নিজের আক্ষেপ তুলে ধরে বলেন, '... আমরা এখন নিজেদের নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ছি। জনগণ ইতোমধ্যে হতাশ ও দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। কারণ আমাদের অনেক নেতা-কর্মী সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজিতে নেমে পড়েছে। কিন্তু তারা গ্রেফতার হচ্ছে না বা তাদের শাস্তি হচ্ছে না। জামায়াতের ঢাকা মহানগরীর আমীর (রাজাকার) এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, জোট সরকারকে দেশের জনগণের আস্থা অর্জন করতে হলে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দুর্নীতিমুক্ত দেশ উপহার দিতে হবে। জনগণের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙে যাওয়ার আগেই এসব বিষয়ে সচেতন হতে হবে। কারণ, জনগণ কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা দলকে ক্ষমতাসীন করার জন্য ভোট দেয়নি। জনগণ শান্তিপূর্ণ রাষ্ট্র চায়। জাতীয় পার্টির মহাসচিব কাজী ফিরোজ রশিদ বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় এসে জনগণের আশা আকাঙ্খার প্রতিফলন ঘটাতে পারছে না। সন্ত্রাস বন্ধ করার পরিবর্তে আরও বেড়েছে। কোনো অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে না। জনগণ আর বেশিদিন সময় দেবে না। জনগণ বিএনপির প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি চায় না, তারা কাজ চায়। ইসলামী ঐক্যজোটের ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা আবদুর রশিদ মজুমদার বলেছেন, জোট সরকারের উপর থেকে জনগণের আস্থা দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এ অবস্থায় জোট সরকারের সাফল্যের সম্ভাবনা তেমন দেখা যাচ্ছে না। এসব বক্তব্য থেকে এটা স্পষ্ট যে, তৎকালীন সময়ে নারকীয় ঘটনা দেশকে এতটাই বিপর্যস্ত করে তুলেছিল যে, ক্ষমতাসীন দলের মন্ত্রী-এমপিরা সেসব ঘটনা স্বীকার না করে পারেননি। বাধ্য হয়েছিলেন জনগণের সামনে নিজেদের ব্যর্থতা মেনে নিতে। সেদিন সংবাদ পাঠক সংসদ কর্তৃক একটি তথ্য তুলে ধরা হয়। বিএনপি-জামায়াত সরকারের ১০০ দিনে সন্ত্রাসী কার্যকলাপে নিহতের সংখ্যা ছিল ১২০০-এর বেশি। ধর্ষণের ঘটনা গড়ে প্রতিদিন ৪টি, খুনের সংখ্যা গড়ে প্রতিদিন ৬ জন।

জয় লিখেন, সেই ১০০ দিনে ঘটে যাওয়া কিছু উল্লেখযোগ্য ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়া যেতে পারে।

তৎকালীন প্রথম সারির গণমাধ্যমগুলোতে প্রকাশিত সংবাদের তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে এই বিশ্লেষণ লেখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন জয়। তিনি লেখেন, তরুণ প্রজন্মকে একটা ধারণা দেওয়ার চেষ্টা করা হলো (এই লেখায়)। যারা সেসময়টা প্রত্যক্ষ করার মতো পরিণত ছিলেন না, কিংবা অনেকের তখনও জন্ম হয়নি।

দেশের খনিজসম্পদ এবং ব্যবসা-বাণিজ্য বিদেশিদের হাতে তুলে দেওয়ার একটা কমিটমেন্ট দিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় আরোহন করেছিল বিএনপি-জামায়াত জোট। পরবর্তীতে তার প্রমাণ মেলে। কীভাবে রাষ্ট্রায়ত্ত গ্যাসক্ষেত্র বিদেশিদের হাতে তুলে দিয়ে ধ্বংস করে ফেলা হয়েছিল। জ্বলে-পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায় রাষ্ট্রের অমূল্য খনিজ গ্যাস। ক্ষতিপূরণ যেন দিতে না হয়, সেজন্য বিএনপি-জামায়াত নেতৃবৃন্দ এবং আমলাদেরকে দেওয়া হয়েছিল বিপুল অঙ্কের উপঢৌকন, দেশে-বিদেশে নানা সুবিধা, গাড়ি, ফ্ল্যাট ইত্যাদি। এসব যদিও ১০০ দিনের পরের ঘটনা, তবুও এসব বলার উদ্দেশ্য হলো, সেই সরকার কাদের সহায়তায় ক্ষমতা বসেছিল, তার ধারণা দেওয়ার জন্য।

সন্ত্রাসের জনপদ হিসেবে চট্টগ্রামের রাউজান এলাকা কুখ্যাত হয়ে গিয়েছিল পকিস্থানপন্থী ফকা চৌধুরীর পরিবারের কারণে। তার রাজাকার পুত্ররা রাউজানকে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তোলে। দিনে-দুপুরেও সেখানে রাস্তা দিয়ে কোনো রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী হাঁটতে পারত না ভয়ে, এই বুঝি প্রাণ যায়! রাউজান পৌরসভা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত এক কর্মীসভায় বিএনপি নেতা সাবেক এমপি রাজাকার গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী (গিকা চৌধুরী) দম্ভের সাথে জানান, রাউজান থানার ভূতপূর্ব ওসি আবুল হোসেনকে হত্যার জন্যে তার মাত্র ৫ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। বর্তমান ওসিকেও হত্যার হুমকি দিয়ে গিকা চৌধুরী বলেন, তাকে হত্যার জন্য হয়তো কিছু বেশি খরচ হতে পারে। অবস্থা দেখে নিজের জীবন রক্ষার্থে সেই ওসি থানায় জিডি করেন। যেখানে পুলিশের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নাই, সেখানে সাধারণ মানুষ আর কতটুকু আশা করতে পারে! এমনই ছিল সেসময়কার পরিস্থিতি।

মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস দখল বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের দখলদারিত্বের তালিকায় একটি নতুন মাত্রা যোগ করেছিল। পাঠ্যপুস্তকের মাধ্যমে মিথ্যা ইতিহাস গেলানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। ৮ম শ্রেণির 'বাংলা সাহিত্য কণিকা'য়, স্বাধীনতার পথে স্মরণীয় যারা শীর্ষক রচনায় ঢোকানো হয়েছিল এক নির্লজ্জ মিথ্যাচার। লেখা হয়েছিল: "প্রভিশনাল বাংলাদেশ সরকারের সশস্ত্র বাহিনীর সুপ্রিম কমান্ডার ও রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।" মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে যেখানে মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করেছিল; জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে ঘোষিত সরকারের একজন বেতনভুক সেনা কর্মকর্তা ছিলেন জিয়া। ২৫শে মার্চ রাতে (ক্যালেন্ডারের ২৬শে মার্চ) বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতা ঘোষণার পর সেই ঘোষণাপত্র বিভিন্ন জায়গা থেকে পুনঃপঠিত হয়েছিল। চট্টগ্রামের মাত্র ১০ কিলোওয়াট রেঞ্জের বেতারকেন্দ্র থেকে স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের অন্তত ৮ জন সেই ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। কাছাকাছি থাকা মেজর রফিকুল ইসলামকে অনুরোধ করা হলে তিনি প্রতিরক্ষা ব্যূহ ত্যাগ করে ঘোষণাপত্র পাঠ করতে বিনীতভাবে অপারগতা জানানোর পর অপর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা হিসেবে জিয়াউর রহমান সেই ঘোষণাপত্র পাঠের অনুরোধ পেয়ে প্রথমে বঙ্গবন্ধুর নাম উল্লেখ ছাড়া এবং দ্বিতীয়বার আওয়ামী লীগ নেতৃবৃন্দের চাপে 'বঙ্গবন্ধুর পক্ষে' শব্দবন্ধ যুক্ত করে ঘোষণাপত্র পাঠ করেন। যার ধারণকৃত অডিও এখনো সংরক্ষিত রয়েছে রেকর্ড হিসেবে। জীবিতাবস্থায় জিয়া নিজেকে কখনো স্বাধীনতার 'ঘোষক' বলে দাবিও করেননি। এমনকি বিচিত্রায় প্রকাশিত তার একটি প্রবন্ধে তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ ছিল সামরিক বাহিনীর সবার কাছেই স্বাধীনতার ঘোষণা। স্বাধীনতাযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। যার নির্দেশে যুদ্ধ পরিচালিত হয়েছে এবং মুক্তিবাহিনীর অধিনায়ক ছিলেন জেনারেল ওসমানী। তাদেরকে ডিঙিয়ে সেই জিয়াকে বিএনপি সরকার 'সুপ্রিম কমান্ডার' এবং 'রাষ্ট্রপ্রধান' আখ্যা দিয়ে পাঠ্যপুস্তকে ঢুকিয়ে দিল! কতটা কদর্য তাদের চিন্তাভাবনা, এটা সহজেই অনুমেয়।

বিএনপির শুভাকাঙ্খী যায়যায়দিন সম্পাদক শফিক রেহমানও ইতিহাস দখলের এই অপচেষ্টা মেনে নিতে পারেননি। তিনি তার কলামে লিখেন- 'প্রকৃত ইতিহাস তা নয়। ঘোষণাটি জিয়াউর রহমান পাঠ করেন ২৭শে মার্চ, ১৯৭১-এ এবং শেখ মুজিবুর রহমানের নামেই তিনি সেই ঐতিহাসিক ঘোষণাটি পাঠ করেন। এই তথ্য বিকৃতির ফলে সরকারের বিশ্বাসযোগ্যতা অনেকখানি কমে গেছে (যায়যায়দিন, ২২শে জানুয়ারি, ২০০২)।

ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এক সভায় বলেছিলেন, ১০০ দিনে জোট সরকার মুল্য বৃদ্ধি ছাড়া কিছুই দিতে পারেনি। সাংবাদিক আতাউস সামাদও না বলে পারেননি- দেশের লোককে সুখের মুখ দেখানোর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি প্রদান এই সেদিনের ব্যাপার হলেও দেশজুড়ে মানুষকে অসুখী করেছে বিএনপি সরকার জ্বালানি, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের দাম বাড়িয়ে দিয়ে। 

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের