নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাতে শপথ নিয়েছেন জোহরান মামদানি। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের শহরটির প্রথম মুসলিম হিসেবে মেয়রের দায়িত্ব নিলেন। শপথ গ্রহণের সময় তিনি এক হাত উন্মুক্ত এবং ওপর হাত রেখেছিলেন পবিত্র কোরআনের ওপর।
বৃহস্পতিবার মামদানির অভিষেক অনুষ্ঠানেও পবিত্র কোরআন ছুঁয়ে শপথ নেওয়ার কথা আছে। নিজেকে গণতান্ত্রিক সমাজতন্ত্রী পরিচয় দেওয়া মামদানি বুধবার রাতে শপথ নেন পরিত্যক্ত একটি সাবওয়ে স্টেশনে। শপথ পড়ান নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রামা দুয়াজি। শপথগ্রহণের পর সাংবাদিকদের মামদানি বলেন, এটি সত্যিই তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় সম্মান ও সৌভাগ্যের মুহূর্ত।
নিউইয়র্ক সিটি মেয়রের মেয়াদ হয় চার বছর। মামদানির দপ্তর জানিয়েছে, শপথের জন্য সিটি হলের নিচে অবস্থিত সাধারণ স্থান বেছে নেওয়া হয়েছে কর্মজীবী মানুষের প্রতি অঙ্গীকারের প্রতিফলন হিসেবে। ৩৪ বছর বয়সী এই ডেমোক্র্যাট তরুণ রাজনীতিবিদ নির্বাচনী প্রচারে জীবনযাত্রার লাগামছাড়া ব্যয় মোকাবিলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এক বছর আগেও প্রায় অচেনা থাকা মামদানি তাঁর উচ্চাকাঙ্ক্ষী কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে পারবেন কি না তা এখনো স্পষ্ট নয়। তাঁর পরিকল্পনার মধ্যে আছে ভাড়া স্থগিত রাখা, সার্বজনীন শিশু যত্ন ব্যবস্থা এবং বিনামূল্যে গণপরিবহন চালু। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক জন কেইন বলেন, নির্বাচন শেষ হলে প্রতীকি রাজনীতির গুরুত্ব সীমিত হয়ে যায়। তখন ভোটারদের কাছে বাস্তব ফলাফলই সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে।
মামদানির প্রতিশ্রুতি পূরণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকা নির্ধারক হয়ে উঠতে পারে। নির্বাচনের প্রচারের সময় ট্রাম্প মামদানির বিরোধীতা করেছিলেন। যদিও পরে তাদের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ বৈঠক হয়। তবে ভবিষ্যতে এই দুজনের মধ্যে নতুন করে বিবাদ দেখা দিতে পারে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের ক্রমবর্ধমান অভিযান নিয়ে। নির্বাচনী প্রচারে মামদানি অভিবাসীদের সুরক্ষা দেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার বড় পরিসরে একটি অভিষেক অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন মামদানি। এতে বক্তব্য দেবেন বামপন্থী রাজনীতির প্রভাবশালী দুই নেতা সিনেটর বার্নি স্যান্ডার্স এবং কংগ্রেসওম্যান আলেক্সান্দ্রিয়া ওকাসিও।
সিটি হলের বাইরে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রায় ৪ হাজার অতিথি অংশ নেবেন। সেখানে নিউইয়র্ক সিটির ইতিহাসে প্রথম কোনো মেয়র পবিত্র কোরআনে হাত রেখে শপথ নেবেন। দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শপথের জন্য দুটি কোরআন শরীফ মামদানির পারিবারিক সংগ্রহ থেকে নেওয়া। আরেকটি লেখক আরতুরো শোমবার্গের ব্যক্তিগত সংগ্রহে ছিল।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

