শুক্রবার ছুটির দিনে ও দাফনের তৃতীয় দিনেও বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য আসছে মানুষ। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) সকাল থেকেই কনকনে শীত উপেক্ষা করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসছেন বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের নেতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।দিনভর রাজধানীর জিয়া উদ্যানে মানুষের ভিড় দেখা গেছে। অনেকেই কান্নায় ভেঙে পড়েন। তাদের প্রিয় নেত্রীর আত্মার মাগফেরাত কামনায় মোনাজাতও করেন। কাউকে কাউকে কোরআন তেলাওয়াত করতে দেখা যায়।
সরেজমিন দেখা গেছে, জিয়া উদ্যানের মোড় থেকেই জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদারর কবরমুখী মানুষের ভিড়। অনেকেই ফুল নিয়ে এসেছেন খালেদা জিয়াকে শ্রদ্ধা জানাতে। উদ্যান সংলগ্ন সংসদ ভবনের সামনের রাস্তা ও বেইলি ব্রিজ থেকে কবর পর্যন্ত নারী-পুরুষের দীর্ঘ লাইন। আর কবরে পাশে নেতাকর্মীদের ভিড় সামাল দিতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের হিমশিম খেতে হচ্ছে।
তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মী, সাধারণ মানুষ ছাড়াও বিএনপির নেতৃস্থানীয় অনেক নেতা নিজেদের সমর্থকদের নিয়ে এসেছেন। আর সকালে পরিবারের পক্ষ থেকে কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন বেগম খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমানের মেয়ে ব্যারিস্টার জাইমা রহমান।
সকাল সাড়ে ১০টায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য অ্যাডভোকেট এম রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, ১১টায় মায়ের ডাকের সভাপতি ও ঢাকা-১৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী সানজিদা তুলি, সাড়ে ১১টায় ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান ও জিএস খায়রুল কবির খোকনের নেতৃত্বে শ্রদ্ধা জানান ’৯০ এর গণতান্ত্রিক আন্দোলনের সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যের নেতারা। এছাড়াও জাতীয়তাবাদী পাট শ্রমিক দলের সভাপতি সাঈদ আল নোমানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা অনুসারীদের নিয়ে এসেছেন। আর কবরের পাশেই মাইকে বাজছে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত।
ঢাকার দক্ষিণখান এলাকা থেকে আসা শাহ আলম বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় শরিক হতে পারিনি। তাই বিবেকের দায়বদ্ধতা থেকে কবর জিয়ারত করতে এসেছি। কারণ তার মতো নেত্রীর মৃত্যু দেশের রাজনীতির জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
গত ৩১ ডিসেম্বর খালেদা জিয়াকে স্বামী জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় বেগম জিয়াকে দাফন করা হয়। তখন পরিবার, বিএনপির শীর্ষ নেতা ও সরকারের উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার বাইরে সাধারণ মানুষকে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি। তবে পরদিন বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ার) সকাল থেকেই সর্ব সাধারণের প্রবেশ উন্মুক্ত করে দেওয়ার পর থেকেই হাজারও মানুষ ছুটে আসছেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

