‘আইনের মারপ্যাঁচে আওয়ামী দোসরদের নির্বাচনে সুযোগ দিয়ে পুনর্বাসনের চক্রান্ত চলছে’ বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব ও রংপুর-৪ (কাউনিয়া-পীরগাছা) আসনে দলটির প্রার্থী আখতার হোসেন।
শুক্রবার রংপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে নির্বাচন কমিশনের মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাইয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ অভিযোগ করেন।
আখতার হোসেন বলেন, ‘রংপুর-৪ আসনে আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে চিহ্নিত জাতীয় পার্টির একজন নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে তাঁর ব্যাপারে আপত্তি জানালেও আইনের মারপ্যাঁচের কথা বলে রিটার্নিং কর্মকর্তা তাঁর মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করেছেন। এরই মধ্য দিয়ে আওয়ামী ফ্যাসিবাদের দোসররা পুনর্বাসন হচ্ছে। আমরা যারা জুলাই আন্দোলন করেছি এবং যারা জুলাই আন্দোলনে সম্পৃক্ত, তারা ফ্যাসিবাদের দোসরদের রাজনীতি কিংবা পুনর্বাসন দেখতে চাই না।’
এ সময় নির্বাচন কমিশন ও সরকারের কাছে আওয়ামী লীগের দোসরদের নির্বাচনে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানান তিনি।
আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে এনসিপির সদস্য সচিব বলেন, ‘নির্বাচনের তপশিল ঘোষণার পরের দিনে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যা করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, তপশিল ঘোষণার আগে দিনদুপুরে পাথর মেরে, গুলি করে হত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে। সেই সময় আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটেছিল। যদিও বর্তমানে নির্বাচনের আমেজ তৈরি হয়েছে। তারপরও আইনশৃঙ্খলার বিষয়ে শঙ্কা রয়েছে। কারণ যারা সন্ত্রাসী, যারা দিনদুপুরে মানুষকে গুলি করে হত্যা করছে, তাদের এখনও আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়নি।’
নির্বাচনে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড প্রসঙ্গে আখতার হোসেন বলেন, ‘বর্তমানে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে একটা অসামঞ্জস্য অবস্থা আগের মতোই বিরাজ করছে, যা আমরা প্রত্যক্ষ করছি। অনেকে অর্থের ছড়াছড়ির মধ্য দিয়ে পাড়ি দিতে চান, অনেকে পেশিশক্তি দিয়ে পাড়ি দিতে চান। তাদের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থান নেওয়ার জন্য নির্বাচন কমিশনকে অনুরোধ জানাব।’
তথ্য যাচাই-বাছাই শেষে বিকেলে রংপুর-৪ আসনে আখতার হোসেন এবং জাতীয় পার্টির প্রার্থী আবু নাসের শাহ মোহাম্মদ মাহবুবার রহমানের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ এনামুল আহসান। এ সময় দুই প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডার ঘটনা ঘটে।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

