‘বিএনপি ক্ষমতায় গেলে হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই দেশ গড়া হবে। খাল-বিল পুনঃখননসহ সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে নেওয়া সব প্রকল্প গ্রহণ নেওয়া হবে।’
আজ সোমবার (২ জানুয়ারি) দুপুরে যশোর উপশহর ডিগ্রি কলেজ মাঠে বিএনপির নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
এ সময় শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খনন করা উলাসী খালসহ এ অঞ্চলের খাল-বিল পুনঃখনন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে জিকে প্রকল্প পুনরায় চালুর ঘোষণা দেন তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে সব প্রকল্প নেওয়া হবে সাধারণ মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের লক্ষ্যে।’ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষা করার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি ক্ষমতায় এলে মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিমসহ অন্যান্য ধর্মের পুরোহিতদের রাষ্ট্রীয় সম্মানি দেওয়া হবে। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়েই দেশ গড়া হবে।’
জামায়াতকে ইঙ্গিত করে তারেক রহমান অভিযোগ করেন, ‘একটি দল ৫ আগস্টের পর মা-বোনদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করছে এবং তাদের ঘরে বন্দি করতে চাচ্ছে।তিনি বলেন, ‘দলটি মানুষের এনআইডি নম্বর ও বিকাশ নম্বর সংগ্রহ করছে। অসৎ প্রস্তাব দিয়ে তারা কিভাবে সৎ লোকের শাসন কায়েম করবে’ প্রশ্ন রাখেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘একটি দলের প্রধান বিদেশি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকারে ক্ষমতায় গেলে নারীদের কিভাবে দেখবেন, সে বিষয়ে বক্তব্য দিলেও এর আগের রাতে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে অত্যন্ত আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন। যে দল নারীদের নিয়ে এমন কুরুচিপূর্ণ কথা বলে, তারা ক্ষমতায় গিয়ে ভালো কিছু দিতে পারবে না।
চরিত্র উন্মোচিত হওয়ায় জনগণকে বিভ্রান্ত করতে অ্যাকাউন্ট হ্যাকের মিথ্যা গল্প ছড়ানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি নারীশিক্ষার প্রসঙ্গ তুলে তারেক রহমান বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়া মেয়েদের শিক্ষা বিনা মূল্যে চালু করেছিলেন। আগামীতে বিএনপি সরকার গঠন করতে পারলে মা-বোনদের হাতে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়া হবে’ বলেও প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
নির্বাচন নিয়ে সতর্কবার্তা দিয়ে বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘বিগত সরকারের মতো আমি-ডামি ও নিশিরাতের ভোটের মাধ্যমে মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। একই কায়দায় এবারও একটি দল নির্বাচন বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করছে।
ভোট গণনার নামে কোনো অনিয়মের চেষ্টা হলে তা প্রতিহত করার আহ্বান জানান তিনি উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপি সরকার গঠন করলে যশোরের ফুল বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং এ অঞ্চলের বন্ধ চিনি শিল্পগুলো পুনরায় চালু করা হবে।’
জনসভায় বক্তৃতার এক পর্যায়ে যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের সাত জেলার ২২টি আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীদের হাতে ধানের শীষ প্রতীক তুলে দিয়ে তাদের বিজয়ী করার আহ্বান জানান বিএনপির চেয়ারম্যান।
এর আগে দলীয় প্রধানের আগমনকে ঘিরে সমাবেশস্থল মিছিলের নগরীতে পরিণত হয়। সকাল থেকেই ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় পতাকা হাতে স্লোগানে স্লোগানে নেতাকর্মীরা জনসভাস্থলে জড়ো হতে থাকেন। দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে পুরো মাঠ কানায় কানায় ভরে যায়। বৃহত্তর যশোর-কুষ্টিয়ার সাত জেলার নেতাকর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ছিল চোখে পড়ার মতো।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন যশোর জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাড. সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু। একসময় দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, অধ্যাপক নার্গিস বেগম, সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত প্রমুখ বক্তব্য দেন।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

