প্রথম ম্যাচে নিষ্প্রভ থাকলেও বিশ্বকাপে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো স্বমহিমায় ফিরবেন বলেই বিশ্বাস পর্তুগালের ফুটবলার ফ্রাসিন্সকো কনসেসাওর। বর্ষীয়ান এ তারকার ছন্দে ফেরা নিয়ে পর্তুগাল কোনো চাপে নেই বলেও জানান তরুণ এ উইঙ্গার। সতীর্থরা দলের সেরা তারকাকে ঠিকমতো বলের জোগান দিচ্ছে না বলেও অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব গুজব উড়িয়ে দিয়েছেন ২১ বছর বয়সী কনসেসাও। তাঁর বিশ্বাস, উজবেকিস্তানের বিপক্ষেই ছন্দে ফিরে সব সমালোচনা স্তব্ধ করে দেবেন রোনালদো। আজ রাত ১১টায় হিউস্টনে গ্রুপ পর্বের দ্বিতীয় ম্যাচে উজবেকিস্তানের মুখোমুখি হবে পর্তুগাল।
ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র হওয়া ম্যাচে রোনালদোর পারফরম্যান্স নিয়ে বেশ সমালোচনা হয়েছে। প্রথম ৬০ মিনিট ৪১ বছর বয়সী এ তারকাকে মাঠে খুঁজেই পাওয়া যায়নি। এরপর কনসেসাও দুটি সুযোগ তৈরি করে দিলেও সেগুলো হেলায় নষ্ট করেন ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক গোলের মালিক। এরই মধ্যে গুজব রটেছে পর্তুগাল দলের ভেতর নাকি গৃহদাহ চলছে। মাঠে নাকি রোনালদোকে সতীর্থরা পাস দেন না। প্রত্যাশামতো বল না পাওয়ায় গত ম্যাচে রোনালদোকে হতাশা প্রকাশ করতে গেছে। বিশেষ করে ব্রুনো ফার্নান্দেজের সঙ্গে তাঁর একটি ঘটনা নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে চলছে তুমুল আলোচনা।
তবে এই গুজব উড়িয়ে দিয়ে কনসেসাও বলেছেন, ‘তাঁকে (রোনালদো) বল পাস দেওয়ার ব্যাপারে কোনো রকম বাধ্যবাধকতা নেই। আমি এমন একজনকে পাস দেব যে কিনা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে এবং ফাঁকায় আছে।’
রোনালদোকে স্কোয়াডের আর সবার মতো করে দেখা হয় বলে জানান কনসেসাও। তারা দলবদ্ধভাবে পর্তুগালকে জেতাতে খেলেন বলেও জানান তিনি। জুভেন্টাসের এই উইঙ্গার বলেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো একটি দৃষ্টান্ত। কারণ তাঁর দুর্দান্ত ক্যারিয়ার। ৪১ বছর বয়সেও তাঁর ভালো খেলার ও গোল করার তীব্র ক্ষুধা রয়েছে। সে নেতৃত্বেরও উদাহরণ। বিশেষ করে গোল করার প্রশ্ন এলে তাঁর মতো আর কেউ নেই।’
রোনালদোর পাশে দাঁড়িয়েছেন তাঁর আরেক সতীর্থ রুবেন দিয়াসও। ম্যানচেস্টার সিটির এই ডিফেন্ডারও রোনালদোর ফর্মে ফেরার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী, ‘ক্রিশ্চিয়ানোকে নিয়ে আমরা একটুও চিন্তা করছি না। একটি ম্যাচ ভালো খেলতে পারছে না বলে বাইরে একটু সমালোচনা হচ্ছে এই যা। এটা তো খেলারই অংশ। ক্রিশ্চিয়ানো এমন পরিস্থিতি জীবনে বহুবার দেখেছে। অতীতেও সে চ্যাম্পিয়নের মতো ফিরেছে, এবারও ফিরবে।’
তবে ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নামা এ তারকা কঙ্গোর বিপক্ষে খুবই বাজে খেলেছেন। পাঁচটি ব্যালন ডি’অরজয়ী এ ফুটবলার তিনটি সুযোগ পেয়ে একটি শটও প্রতিপক্ষের পোস্টে রাখতে পারেননি। তাঁর খেলায় বয়সের ছাপ স্পষ্ট। একবারের জন্যও মনে হয়নি যে তিনি গোল করতে পারেন। পুরো ম্যাচে দলের বোঝা মনে হয়েছে তাঁকে। খেলা শেষে প্রতিপক্ষের সঙ্গে হাত না মিলিয়েই সাজঘরে ফিরে গেছেন তিনি। দর্শকদের বিদ্রুপও শুনেছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে পরের ম্যাচে তিনি ছন্দে ফিরতে পারেন কিনা, সে দিকেই নজর ফুটবল বিশ্বের।
প্রথম ম্যাচ ড্র করে কিছুটা চাপে পড়ে গেছে পর্তুগালও। নকআউট রাউন্ডের পথটা মসৃণ করতে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে জয়ের জন্য তারা মরিয়া। প্রথমবার বিশ্বকাপ খেলতে আসা উজবেকরা প্রথম ম্যাচে কলম্বিয়ার কাছে ৩-১ গোলে হেরেছে। যে কোনো ধরনের টুর্নামেন্টে এই প্রথম পর্তুগালের মুখোমুখি হচ্ছে উজবেকিস্তান। তবে এশিয়ার দেশটির বিপক্ষে শেষ দুটি বিশ্বকাপ ম্যাচে জয়ের দেখা পায়নি পর্তুগাল।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

