এমনটা হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবেননি হামজা চৌধুরী। নিজের জন্মদিনে এমন হারের সাক্ষী হবেন তিনি। গতকাল ২৯ বসন্তে পা দিয়েছেন বাংলাদেশি মিডফিল্ডার। তার জন্মদিনই ইন্দোনেশিয়ার কাছে ৯-২ গোলের বড় পরাজয় দেখেছে বাংলাদেশ।
এর আগে মালয়েশিয়া-সিঙ্গাপুরের বিপক্ষেও হেরেছে বাংলাদেশ। সবমিলিয়ে আসিয়ান কাপের ৩ ম্যাচে মোট ১৩ গোল হজম করেছে।
বিপরীতে বাংলাদেশের নামের পাশে ২ গোল। এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর স্বাভাবিকভাবেই খেলোয়াড়রা সমালোচনার মুখে পড়েছে। সমর্থকদের হতাশ করার বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন হামজাও।
তাই হামজার উপলোব্ধি, কোনো না কোনো দিক থেকে আমরা দেশকে হতাশ করেছি।
আসিয়ান কাপের পারফরম্যান্স নিয়ে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ‘লাতিন বাংলাকে’ তিনি বলেছেন, ‘ভারতের বিপক্ষে ওই মুহূর্তগুলো কিংবা সিঙ্গাপুর ম্যাচ—সবই শুধু প্রতিযোগিতার ছিল না; শেষদিকের কিছু অংশ এবং বিশেষ করে শেষ ম্যাচটি ছিল বেশ কঠিন। স্থানীয় ক্যাম্পের কারণে সবাই মানসিক এবং শারীরিকভাবে ক্লান্ত ছিল, তাই এমন পরিস্থিতিতে খেলা অত্যন্ত কঠিন ছিল। আমরাও খুব হতাশ, কারণ আমাদের মনে হয়েছে কোনো কোনো দিক থেকে আমরা দেশকে হতাশ করেছি।’
প্রতিপক্ষ দলের অনেকেরই ইউরোপে খেলার অভিজ্ঞতা আছে। তাই এবারের সফরটা অভিজ্ঞতার মনে করেন হামজা।
২৯ বছর বয়সী শেফিল্ড ইউনাইটেডের মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘তবে দেখুন, আমরা খুব ভালো কিছু খেলোয়াড়ের বিপক্ষে খেলেছি যাদের অনেকেই ইউরোপে খেলেন। তাই এটি আমাদের জন্য একটি ভালো অভিজ্ঞতা ছিল। এই সফরটি অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই ছিল এবং আমার মনে হয় আমরা কিছু অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পেরেছি।
সামনে ঘরের মাঠে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলবে বাংলাদেশ। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে ইতিবাচক থাকার কথাই জানান হামজা। তিনি বলেছেন, ‘ইনশাআল্লাহ, আগামী মাসে আমাদের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ রয়েছে। তাই আমাদের ইতিবাচক থাকতে হবে। একটি পরিবারের মতো একতাবদ্ধ থাকাটা সবচেয়ে জরুরি। এটিই আমাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। তাই ইনশাআল্লাহ, আমরা পারব।’
সাফে সকলের সমর্থনও চেয়েছেন হামজা। মিডফিল্ডার বলেছেন, ‘হ্যাঁ, আমাদের সমর্থন প্রয়োজন এবং ইতিবাচক থাকতে হবে। বাংলাদেশ থেকে আমরা যে ভালোবাসা ও সমর্থন পাই, আমি বারবার সে কথাই বলি। আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন সমর্থনের আরও বেশি প্রয়োজন। ইনশাআল্লাহ, আমরা সাফে গিয়ে নিজেদের চেনা মাঠে জয়লাভ করতে পারব।’
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

