
বরগুনার পাথরঘাটায় আকাশে বিদ্যুৎ চমকালেই থমকে যায় পল্লী বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা। কথাটি শুনতে যতটা হাস্যকর মনে হয়, বাস্তবে তা ততটাই যন্ত্রণাদায়ক এটাই এখন পাথরঘাটাবাসীর নিত্যদিনের অভিজ্ঞতা।
এলাকায় নেই নিজস্ব কোনো গ্রিড ব্যবস্থা। সবচেয়ে কাছের গ্রিড স্টেশনটি অবস্থিত ভান্ডারিয়ায়, যা পাথরঘাটা থেকে প্রায় ৬৬ কিলোমিটার দূরে। ফলে সামান্য বজ্রপাত, ঝড়ো হাওয়া বা বাতাসের গতি বাড়লেই ভেঙে পড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা। এর প্রভাব পড়ে ইন্টারনেট, মোবাইল নেটওয়ার্ক থেকে শুরু করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চিকিৎসাসেবা সবখাতে।
১৩ শ’ কিলোমিটার বিদ্যুৎ লাইনের ৬০ হাজার গ্রাহক ও প্রায় ৩ লাখ মানুষ এই সমস্যায় চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। দিনের পর দিন ভুগছে সাধারণ মানুষ।
এলাকাটিতে অবস্থিত দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বিদ্যুৎ না থাকায় কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। মাছ সংরক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় বরফ উৎপাদন করতে না পারায় আইস প্ল্যান্টগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এতে মাছের গুণগত মান যেমন নষ্ট হচ্ছে, তেমনি অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন হাজারো জেলে ও ব্যবসায়ী।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এই সমস্যা চললেও এখনো এর কোনো স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফ্রিজে রাখা পণ্য নষ্ট হয়ে যাচ্ছে, ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাদের দাবি অবিলম্বে পাথরঘাটায় একটি পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুৎ গ্রিড স্থাপন করতে হবে। তা না হলে অর্থনীতি, শিক্ষা, চিকিৎসা সবখাতেই দীর্ঘমেয়াদি বিপর্যয় ঘটবে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নীল রতন সরকার বলেন, বিদ্যুৎ না থাকায় হাসপাতালে আসা রোগীদের যথাযথ সেবা দেওয়া যাচ্ছে না। রিপোর্ট পেতে সময় লাগছে অনেক বেশি। ভ্যাকসিন সংরক্ষণে সমস্যা হচ্ছে, অনেক সময় সেগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।
পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির পাথরঘাটা উপজেলা জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আরিফ শাহরিয়ার ফাহাদ বলেন, পাথরঘাটার বিদ্যুৎ লাইনটি দীর্ঘ ৬৬ কিলোমিটার দূরত্বে ভান্ডারিয়া হওয়ায় ৬৬ কিলোমিটার মধ্যে যেকোন স্থানে সমস্যা দেখা দিলেই গোটা পাথরঘাটায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এই দীর্ঘ লাইনের সমস্যা খুঁজে বের করা সময় সাপেক্ষ। এই কারণেই বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় সমস্যা হচ্ছে পাথরঘাটায়।
তিনি আরও বলেন, বরগুনায় গ্রিড থেকে একটি সংযোগের অনুমোদন পেয়েছি আমরা । এই লাইনটি দ্রুত চালু হলে সমস্যার সমাধান হবে। এই লাইন চালু হতে প্রায় এক বছর অধিক সময় দরকার।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম