শনিবার,

৩০ আগস্ট ২০২৫,

১৪ ভাদ্র ১৪৩২

শনিবার,

৩০ আগস্ট ২০২৫,

১৪ ভাদ্র ১৪৩২

Radio Today News

ভরা মৌসুমেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৫:৩২, ২৯ আগস্ট ২০২৫

আপডেট: ১৫:৩৪, ২৯ আগস্ট ২০২৫

Google News
ভরা মৌসুমেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত ইলিশ

ইলিশের ভরা মৌসুম চলছে। কিন্তু সাগরে জাল ফেলেও কাঙ্ক্ষিত সেই রূপালি ইলিশ মিলছে না জেলেদের জালে। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব, অতিবৃষ্টি ও তীব্র খরার পাশাপাশি সাগর ও নদী মোহনায় জেগে ওঠা ডুবোচর, নাব্যতা সংকট, শিল্পবর্জ্য ও বাঁধাজালের কারণে ইলিশের প্রজনন ও মাইগ্রেশন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বাংলাদেশে ইলিশের জন্য বিখ্যাত উপকূলীয় জেলা পটুয়াখালী। এখানে ভরা মৌসুমে (বৈশাখ থেকে আশ্বিন) সাগর থেকে নদী অবধি প্রতিটি স্থানে ইলিশ পাওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবতা একেবারেই ভিন্ন। মাছ না পেয়ে দাদন ও ঋণের বোঝায় জর্জরিত হয়ে পড়েছে উপকূলের প্রায় লাখাধিক জেলে পরিবার।

কলাপাড়ার ফিশিং বোটের মাঝি খলিল বলেন, ভেবেছিলাম নিষেধাজ্ঞা শেষ হলে ভালো মাছ পাব। কিন্তু এখন জাল ফেলে অনেক সময় খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে। খরচ উঠছে না। দাদনের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো, সেটাই বুঝতে পারছি না।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, ভারত ও মিয়ানমারের পতাকাবাহী শত শত জাহাজ আমাদের জলসীমায় ঢুকে লাশা জাল ফেলছে। এতে ছোট-বড় সব মাছ ধরা পড়ে যাচ্ছে। আমাদের কিছুই আর জালে আসছে না।


মৎস্য বিজ্ঞানীরা বলছেন, ইলিশ মূলত সাগরের মাছ হলেও ডিম ছাড়ার জন্য মিঠা পানির নদীতে আসে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সাগরের উষ্ণতা ও লবণাক্ততা বেড়েছে, সৃষ্টি হয়েছে অক্সিজেন সংকট। নদীর নাব্যতা কমে যাওয়ায়, অসংখ্য বাঁধাজাল ও অবৈধ জালের কারণে ইলিশ আর নদীতে উঠে আসতে পারছে না।

পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের মৎস্য অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. সাজেদুল হক বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব তো আছেই। পাশাপাশি সাগরে অতিরিক্ত লবণাক্ততা, অসংখ্য ডুবোচর, নদীর নাব্যতা হ্রাস, অবৈধ জাল ব্যবহারের কারণে ইলিশের প্রজনন ও মাইগ্রেশন রীতিমতো বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

দক্ষিনাঞ্চলের সবচেয়ে বড় মৎস্য বন্দর হিসেবে পরিচিত মহিপুর ও আলীপুর বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ৪০০ গ্রাম সাইজের প্রতিমণ ইলিশের দাম ৬৮ থেকে ৭০ হাজার টাকা, ৮০০-৯০০ গ্রাম সাইজের প্রতিমণ ইলিশ এক লাখ টাকা, এক কেজির বেশি সাইজের প্রতিমণ ইলিশ এক লাখ আট হাজার থেকে এক লাখ ১২ হাজার টাকায় বিক্রি কচ্ছে। বড় আকারের ইলিশের দাম মণ প্রতি ১ লাখ ১২ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে।

মহিপুর বাজারের এক জেলে বলেন, সাগরে জাল ফেলে কোনো মাছ না পেয়ে অনেক জেলে এখন মাছ ধরা বন্ধ করে ঘরে বসে আছে।

মৎস্য দপ্তরের তথ্যমতে, গত কয়েক বছর ইলিশ আহরণের পরিমাণ ছিল- ২০১৯-২০ অর্থ বছরে ৫১ হাজার ৮৩৯ দশমিক৫৬৪ মেঃ টন, ২০২০-২১ অর্থ বছরে ৭০ হাজার ২ মেঃ টন, ২০২১-২২ অর্থ বছরে ৫৭ হাজার ৯৬৬ দশমিক ৫৫ মেঃ টন, ২০২২-২৩ অর্থ বছরে ৭২ হাজার ৬৩ মেঃ টন, ২০২৩-২৪ অর্থ বছরে ৫৭ হাজার ৬৭১ দশমিক ২ মেঃ টন ও ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে ৫৪ হাজার ৭০৩ দশমিক১০ মেঃ টন ইলিশ অহরিত করা সম্ভব হয়েছে। এ বছর আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি অর্থ বছরেও ৭২ থেকে ৮০ হাজার মেঃ টন ইলিশ আহরনের লক্ষ্যমাত্রা আর্জন করা সম্ভব হবে।

কলাপাড়ার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা অপু সাহা বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, আধুনিক সরঞ্জামের অভাব, ডুবোচর, নাব্যতা সংকট সব মিলিয়ে ইলিশের মাইগ্রেশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এ জন্য স্টক ও মাইগ্রেশন রুট নিয়ে গভীর গবেষণা দরকার।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের