কক্সবাজারের টেকনাফ সীমান্তে মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘাতের প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। আজ (সোমবার, ১২ জানুয়ারি) সকালে সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বিস্ফোরণে এক বাংলাদেশি জেলের পা উড়ে যাওয়ার ঘটনায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। গতকালও (রোববার, ১১ জানুয়ারি) সীমান্তের ওপারের গুলিতে এক শিশুসহ বেশ কয়েকজন বাংলাদেশি আহত হয়েছে।
সীমান্তের নড়বড়ে সাঁকোর ওপর দিয়ে একজন জেলেকে কাঁধে করে আনা হচ্ছে। সকালে কক্সবাজারের টেকনাফের হোয়াইক্যং সীমান্তের ‘শাহজাহানের ডিয়া’ এলাকায় মাছ ধরতে যান হানিফ নামের ওই যুবক। সেখানে পুঁতে রাখা স্থলমাইন বিস্ফোরণে উড়ে গেছে তার একটি পা।
খবর পেয়ে স্বজন ও এলাকাবাসী তাকে উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নিয়ে যায়।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘তাদের প্রজেক্টে মাছ আছে। সেটা দেখার জন্য সে ওখানে গেছে। আরাকান আর্মি আমাদের বাংলাদেশের সীমান্তের মধ্যে এসে মাইন রেখে গেছে।’
ঘটনার পরপরই প্রতিবাদে ফুঁসে উঠে স্থানীয়রা। বেলা ১২টা থেকে আধা ঘণ্টা কক্সবাজার-টেকনাফ মহাসড়কের লম্বাবিল এলাকা অবরোধ করে রাখে তারা।
স্থানীয়দের মধ্যে একজন বলেন, ‘আমাদের দাবি থাকবে, আমাদের টেকনাফে বিভিন্ন বাহিনীর সমন্বয়ে বিজিবির সঙ্গে যদি একটা টাস্কফোর্স গঠন করা হয় আর তাদের যদি উখিয়া টেকনাফের সীমান্তে দায়িত্ব দেয়া হয়, ইনশা আল্লাহ আমরা মনে করি যে ঘটনাগুলো ঘটছে সেগুলো অনেকাংশে কমে যাবে।’
অন্যদিকে রোববার মিয়ানমার থেকে উড়ে আসা গুলিতে শিশু আফনান আহত হওয়ার প্রতিবাদে সকালে হোয়াইক্যংয়ের তেচ্ছিব্রিজ এলাকায় মানববন্ধন করে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। সীমান্তে সক্রিয় সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর দমনে রাষ্ট্রকে কঠোর হওয়ার আহ্বান তাদের।
এমন পরিস্থিতিতে টেকনাফ ও উখিয়া সীমান্তজুড়ে সতর্ক অবস্থায় রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। মহাসড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে সেনাবাহিনী, বিজিবি এবং পুলিশের সমন্বয়ে চলছে তল্লাশি। নজরদারি বাড়ানো হয়েছে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতেও।
সাধারণ মানুষের দাবি, আর কোনো রক্তপাত নয় বরং স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে সরকার।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

