চলন্ত ট্রেনের দরজা থেকে ছিটকে পড়লো ঝুলন্ত হকার! ভিডিও ভাইরাল

বুধবার,

১৪ জানুয়ারি ২০২৬,

১ মাঘ ১৪৩২

বুধবার,

১৪ জানুয়ারি ২০২৬,

১ মাঘ ১৪৩২

Radio Today News

চলন্ত ট্রেনের দরজা থেকে ছিটকে পড়লো ঝুলন্ত হকার! ভিডিও ভাইরাল

রেডিওটুডে রিপোর্ট

প্রকাশিত: ১৬:৩৪, ১৪ জানুয়ারি ২০২৬

Google News
চলন্ত ট্রেনের দরজা থেকে ছিটকে পড়লো ঝুলন্ত হকার! ভিডিও ভাইরাল

চলন্ত ট্রেনের বন্ধ দরজার বাইরে মাথার ওপর পানির বোতল ও জুসের গামলা নিয়ে ঝুলে থাকতে দেখা যায় এক তরুণ হকারকে। ট্রেন থামানোর জন্য বারবার অনুনয় করতেও দেখা যায় তাকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দাবি করা হয়েছে, দরজায় ঝুলন্ত অবস্থায় ছিটকে পড়ে যান ওই হকার।

ভিডিও ঘিরে অভিযোগ ওঠে, ট্রেনের দায়িত্বপ্রাপ্ত টিকিট পরীক্ষক (টিটিই) তাকে উঠতে দেননি। এ বিষয়ে রেল পুলিশ জানিয়েছে, সোমবার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় এমন একটি ঘটনার কথা তারা শুনেছে। আহত অবস্থায় ওই তরুণকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল এবং প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

রাতে রেল পুলিশ জানায়, ওই তরুণের নাম হৃদয়। তিনি গফরগাঁওয়ের রাগাইচটি এলাকার আব্দুল হান্নানের ছেলে।

হৃদয় পুলিশকে জানিয়েছেন, ভাঙাব্রিজ এলাকা থেকে তিনি ট্রেনের বন্ধ দরজায় ঝুলে পড়েন। এ সময় ট্রেনটি চলতে শুরু করলে ভেতরের যাত্রী ও রেলের কর্মীদের কাছে দরজা খোলার অনুরোধ করেন। তবে রেলের কর্মীরা দরজা খোলেননি। এক পর্যায়ে হাত-পায়ে প্রচণ্ড ব্যথা শুরু হলে তিনি চলন্ত ট্রেন থেকে লাফিয়ে পড়ে আহত হন। এতে তার মাথায় আটটি সেলাই দিতে হয়েছে, পাশাপাশি হাত ও পায়েও আঘাত পেয়েছেন।

এ বিষয়ে রেলওয়ের ঢাকা বিভাগীয় ব্যবস্থাপকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

রেল পুলিশের ঢাকা রেলওয়ে জেলার এসপি আনোয়ার হোসেন বলেন, সোমবার রাজেন্দ্রপুর এলাকায় এমন একটা ঘটনার কথা আমরা শুনেছি।

তিনি বলেন, আমরা জানতে পেরেছি, ট্রেনটি ধীর গতিতে একটি সেতু পার হচ্ছিল। ওই সময় তরুণ হকার ট্রেনে লাফ দিয়ে উঠে পড়ে। এরপর সে মাথায় জিনিসপত্রের গামলা নিয়ে বন্ধ দরজার বাইরে ঝুলে থাকে। এই অবস্থায় বাইরের কোনো খুঁটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে সে ছিটকে পড়ে।

এসপি আরও বলেন, বিষয়টি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর আমরা খোঁজ নেওয়া শুরু করি এবং প্রাথমিকভাবে এসব তথ্য জানতে পারি। ওই ট্রেনে রেলওয়ে পুলিশের যে সদস্যরা দায়িত্বে ছিলেন, তারা তখন অন্য বগিতে থাকায় ঘটনাটি জানতে পারেননি।

ফেসবুকে ‘ময়মনসিংহ ট্রেন কমিউনিটি’সহ বিভিন্ন পেজে ছড়িয়ে পড়া পোস্টে বলা হয়, ভিডিও ধারণকারীর ভাষ্যমতে—মোহনগঞ্জ এক্সপ্রেসের ফার্স্ট ক্লাস বগিতে একজন হকার উঠতে গিয়েছিলেন। দরজায় তালা ছিল। এর মধ্যেই ট্রেনটি পুরো গতিতে চলতে শুরু করে।

মাথার ঝুড়িতে পানির বোতল ও জুসের বোতলের মতো ভারী জিনিস ছিল, যার ওজন ২৫–৩০ কেজি। ভেতর থেকে কয়েকজন দরজা খোলার চেষ্টা করেন। ছেলেটি প্রাণভয়ে চিৎকার করতে করতে দরজার হাতলে এক হাত দিয়ে ঝুলে ছিল।

ভেতর থেকে কেউ একজন বলছিলেন, ‘আবু, ভারী লাগলে ঝুড়ি ফেলে দাও।’ নেত্রকোনার মানুষ দরদ করে ছোটদের ‘আবু’ বলে ডাকে। ভেতরে স্যুট-বুট পরা টিটিই ছিলেন, তিনি দেখেও চলে যান। শেষ পর্যন্ত ছেলেটি ছিটকে পড়ে যায়।

রেল পুলিশের একজন কর্মকর্তা বলেন, এভাবে ট্রেনে ওঠা অপরাধ। তবে মানবিকতার কথা বিবেচনা করলে দরজাটি অন্তত খুলে দেওয়া যেতে পারত।

রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

সর্বশেষ

সর্বাধিক সবার কাছের