টেকনাফ-মিয়ানমার সীমান্তে দীর্ঘস্থায়ী উত্তেজনা কিছুটা কমলেও এখনো থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। সীমান্তঘেষা হোয়াইক্যংয়ের লম্বাবিল এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কের রেশ কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছেন। তবে গত কয়েকদিনের ঘটনাপ্রবাহে লম্বাবিল গ্রামের চিত্র ভিন্ন। আরাকান আর্মির গুলিতে আহত শিশু হুজাইফার পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে, থামছেই না স্বজনদের কান্না।
হাসিখুশি শিশু ছিলো হুজাইফা, যে কি না নাচতে আর গাইতে পছন্দ করতো, সে এখন হাসপাতালের বিছানায় যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছে। মেয়ের এই অবস্থা সইতে না পেরে মা-ও এখন শয্যাশায়ী। শোকের আঁতুড়ঘরে মা যা বলছেন, তার অধিকাংশই এখন প্রলাপের মতো শোনাচ্ছে। তবে মেয়ের চিকিৎসার কথা জিজ্ঞেস করলেই যেন সম্বিৎ ফিরে পাচ্ছেন তিনি; স্পষ্ট স্বরে কান্নাজড়িত কণ্ঠে মেয়ের উন্নত চিকিৎসার দাবি জানাচ্ছেন।
সংসারের চাকা সচল রাখার কাজ বাদ দিয়ে এখন নিজের শোক সামলে পরিবারকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন হুজাইফার বাবা। তিনি বলেন, ‘এখন প্রধান লক্ষ্য মেয়ের সুস্থতা।’
মেয়ের উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রশাসনের সহযোগিতা চেয়েছেন তিনি।
ভৌগলিক অবস্থান বিশ্লেষণে দেখা যায়, হুজাইফাদের বাড়ি থেকে বিজিবি ক্যাম্পের দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার। আর সীমান্ত রেখা আরও পাঁচ কিলোমিটার দূরে। এত দূরত্বের মধ্যে গুলি এসে লাগার ঘটনাকে অস্বাভাবিক মনে করা হচ্ছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, এমন ঘটনা আবারও ঘটতে পারে।
গ্রামবাসীদের দাবি, এই গ্রামের ওপর দিয়ে ‘আরসা’র যাতায়াত রয়েছে। আরসা সদস্যদের যাতায়াতের কারণে গ্রামটি আরাকান আর্মিদের কাছে শত্রু হিসেবে গণ্য হচ্ছে, যা সাধারণ গ্রামবাসীকে ঝুঁকিতে ফেলছে।
সীমান্তের ওপার থেকে গোলাগুলির শব্দ মাঝেমধ্যেই আতঙ্ক ছড়িয়ে দিচ্ছে। লম্বাবিল গ্রামের বাসিন্দারা জানান, বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টায় সীমান্তের ওপার থেকে সর্বশেষ গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। এরপর থেকে বড় কোনো শব্দ শোনা না গেলেও সীমান্তের থমথমে পরিস্থিতি কাটেনি।
রেডিওটুডে নিউজ/আনাম

